আসল না নকল ডিম সস্তা ও সহজে পাওয়া যায় এমন পুষ্টিকর খাবারের তালিকায় ডিমের নাম সবার আগে আসে। কম-বেশি সব বাড়িতেই ডিম খাওয়া হয়ে থাকে। ব্রেকফাস্ট থেকে ডিনার ডিম সব সময়ই হিট। ডিম দৈনন্দিন খাবারে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। কারণ মাংস বা মাছের তুলনায় সুলভ মূল্যে পাওয়া যায় পুষ্টির ভান্ডার ডিম। এতে ভালো পরিমাণে প্রোটিনের পাশাপাশি অনেক প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ রয়েছে। তবে এখন বাজার থেকে যে ডিম আমরা কিনে আনি, সেটা আদৌও আসল ডিম তো? বর্তমানে ডিমের গুণমান নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
নকল বা প্লাস্টিকের ডিম কী?
নকল বা প্লাস্টিকের ডিমকে রাসায়নিক, রেজিন বা প্লাস্টিক উপাদান দিয়ে তৈরি মনুষ্যসৃষ্ট পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা আসল ডিমের মতো দেখতে তৈরি করা হয়। এগুলোর মধ্যে আসল ডিমের উপাদান থাকে না। তবে, নকল ডিমের ব্যাপক বিক্রি সচরাচর দেখা যায় না। কখনও কখনও, অনুপযুক্ত সংরক্ষণ, বয়স বা অন্যান্য কারণে একটি ডিমকে তার আসল চেহারার থেকে ভিন্ন দেখায়। তাই, শুধুমাত্র দেখতে ভিন্ন হওয়ার কারণে একটি ডিমকে নকল বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
ডিমের পুষ্টিগুণ
ডিম প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের ভাল উৎস। এতে থাকা প্রোটিন শরীরের বৃদ্ধি, পেশি মেরামত এবং স্বাভাবিক শারীরিক কার্যকলাপের জন্য অপরিহার্য। একটি ডিমে প্রায় ৬-৭ গ্রাম প্রোটিন থাকে। ডিমে থাকা ভিটামিন ডি এবং ফসফরাস হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে সাহায্য করে। এই কারণেই ডিম শিশু, ক্রীড়াবিদ এবং বয়স্কদের জন্য একটি ভালো পুষ্টির উৎস হতে পারে। একটি ডিম আসল না নকল, তা নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো ল্যাব পরীক্ষা। তবে, বাড়িতে এর সতেজতা এবং সাধারণ গুণমান যাচাই করার জন্য কিছু সহজ পদ্ধতি রয়েছে।
শেক টেস্ট
ডিম আসল না নকল তা পরীক্ষা করার জন্য এটিকে কানের কাছে ধরে আলতো করে ঝাঁকাতে পারেন। তাজা ডিমে সাধারণত তেমন কোনও শব্দ হয় না বা ভেতরে কিছু নড়াচড়া করতেও অনুভূত হয় না। পুরোনো ডিমে ভেতরের পরিবর্তনের কারণে হালকা শব্দ হতে পারে বা তরল পদার্থ নড়তে পারে।
ডিমটি মসৃণ না অমসৃণ
ডিমের উপরিভাগের দিকে মনোযোগ দিন। একটি আসল ডিমের খোসার উপরিভাগ সাধারণত কিছুটা অমসৃণ বা দানাদার হতে পারে। যদি ডিমটি অস্বাভাবিকভাবে মসৃণ, চকচকে বা মোমের মতো দেখায়, তবে এর গুণমান বিবেচনা করা উচিত। তবে, শুধুমাত্র উপরিভাগ দেখে কোনও ডিমকে নকল বলে নির্ধারণ করা যায় না।
গন্ধ দ্বারা শনাক্ত
গন্ধ দ্বারা শনাক্ত করুন। একটি নষ্ট ডিমে অপ্রীতিকর বা তীব্র গন্ধ থাকতে পারে। কখনও কখনও, ডিম ভাঙার আগেও এর খারাপ হওয়ার লক্ষণ বোঝা যায়। যদি কোনও ডিমে অস্বাভাবিক গন্ধ থাকে, তবে সেটি না খাওয়াই ভালো।
ডিমের খোসার রঙ মুরগির জাত ও ধরনের উপর নির্ভর করে। ডিম সাদা, অফ-হোয়াইট, হালকা বাদামি বা গাঢ় বাদামি হতে পারে। তাই, শুধুমাত্র খোসার রঙ দেখে ডিমটি আসল না নকল তা নির্ধারণ করা যায় না।