ভুল ভাবে বাঁধন দিলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়ে বড় বিপদও হতে পারে। Snake Bite First Aid In India: সাপের কামড়ের পর অনেকেই শক্ত করে বাঁধন দেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই পদ্ধতি নিরাপদ নয়। বরং ভুল ভাবে বাঁধন দিলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়ে বড় বিপদও হতে পারে। তাই সাপের ছোবলের পর প্রথম ১০০ মিনিটে কী করবেন, আর কী করবেন না; তা জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
ভারতে প্রতি বছর বহু মানুষের মৃত্যু হয় সাপের ছোবলে। বিশেষ করে বর্ষার আগে ও গরমকালে এই ধরনের ঘটনা বাড়ে। গ্রামের পাশাপাশি শহরতলি এলাকাতেও এখন সাপের উপদ্রব বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
সাপের ছোবলের পর প্রথমে কী করবেন?
সবার আগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে শান্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। ভয় পেলে হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যায়। তাতে শরীরে বিষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। রোগীকে বেশি হাঁটাচলা করানো যাবে না। সম্ভব হলে শুইয়ে রাখতে হবে।
ছোবল যেখানে লেগেছে, সেই অঙ্গ যতটা সম্ভব নড়াচড়া কম করতে হবে। চিকিৎসকদের পরামর্শ, হাত বা পায়ে কামড়ালে কাঠের পাত বা শক্ত কিছু দিয়ে স্প্লিন্টের মতো করে স্থির রাখা যেতে পারে।
বাঁধন দেওয়া কি ঠিক?
অনেকেই কামড়ের উপরে শক্ত করে কাপড় বা দড়ি বেঁধে দেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, টুর্নিকেটের মতো শক্ত বাঁধন বিপজ্জনক হতে পারে। এতে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়ে টিস্যু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে ‘প্রেশার ইমোবিলাইজেশন ব্যান্ডেজ’ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু সেটি প্রশিক্ষিত ব্যক্তির কাজ। সাধারণ মানুষের পক্ষে ভুল হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তাই শক্ত করে দড়ি বাঁধা থেকে বিরত থাকারই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
কী কী একেবারেই করবেন না?
সাপের কামড়ের জায়গা কেটে বিষ বের করার চেষ্টা করবেন না। মুখ দিয়ে বিষ চুষে বের করার চেষ্টাও বিপজ্জনক। বরফ, কেরোসিন, হলুদ, গাছগাছড়া বা কোনও ঘরোয়া ওষুধ লাগানোও উচিত নয়।
অনেকে ওঝা বা ঝাড়ফুঁকের উপর ভরসা করেন। চিকিৎসকদের মতে, এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে পৌঁছে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম ১০০ মিনিট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
চিকিৎসকদের মতে, সাপের বিষ শরীরে কী ভাবে কাজ করবে, তা নির্ভর করে সাপের প্রজাতি, বিষের পরিমাণ এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার উপর। তবে প্রথম এক থেকে দেড় ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়।
এই সময়ে রোগীকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, যেখানে অ্যান্টি-স্নেক ভেনমের ব্যবস্থা রয়েছে। পথে রোগীর শ্বাসকষ্ট, ঝিমুনি, বমি বা শরীর ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখতে হবে।
সাপটি পারলে চেনার চেষ্টা করুন
সাপ মারতে যাওয়ার দরকার নেই। তাতে আরও বিপদ হতে পারে। তবে সম্ভব হলে সাপটির রং, আকার বা চিহ্ন মনে রাখার চেষ্টা করুন। চিকিৎসায় তা কাজে লাগতে পারে। এখন অনেকেই দূর থেকে মোবাইলে ছবি তোলেন। তবে ঝুঁকি নিয়ে কাছে যাওয়া উচিত নয়। চিকিৎসকরা প্রাথমিক উপসর্গ দেখেই অ্যান্টিভেনম বেছে নেন।
ভারতে কোন সাপ সবচেয়ে বিপজ্জনক?
ভারতে সাধারণত ‘বিগ ফোর’ নামে পরিচিত চার ধরনের বিষধর সাপের কামড় বেশি দেখা যায়। এগুলি হল গোখরো, কালাচ, রাসেল ভাইপার এবং সো-স্কেলড ভাইপার। এদের বিষ স্নায়ু, রক্ত বা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।