শরীর সুস্থ রাখতে ও দীর্ঘায়ু অর্জনে হাঁটা অন্যতম সেরা ব্যায়াম। হৃদরোগ প্রতিরোধ, শক্তি বৃদ্ধি এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও এটি সমান উপকারী। কিন্তু প্রতিদিন এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে হাঁটার পরও অনেকেই অভিযোগ করেন, পেটের মেদ কমছে না বা শরীরের গঠন বদলাচ্ছে না। এর কারণ জানালেন মহারাষ্ট্রের থানে অবস্থিত KIMS হাসপাতালের ডায়েটিশিয়ান ডাঃ গুলনাজ শেখ।
তিনি জানান, নিয়মিত হাঁটা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার মূল কারণ হলো প্রোটিন ঘাটতি এবং ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা।
প্রোটিন কেন জরুরি?
ডাঃ শেখ বলেন, হাঁটা হৃদপিণ্ড ও পায়ের জন্য উপকারী হলেও এটি পেশী ক্ষয় রোধ করতে পারে না। পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশীর ভর কমে যায় এবং শরীরের আকৃতিতেও পরিবর্তন আসে। তাই প্রতিদিন অন্তত ২৫-৩০ গ্রাম উচ্চমানের প্রোটিন গ্রহণ জরুরি।
প্রোটিনের উৎস হতে পারে ডিম, পনির, ডাল, মুরগি, মাছ বা সয়া।
বিশেষ করে ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের খাদ্যতালিকায় এই বিষয়টি অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।
লবণ ও হাইড্রেশনের ভারসাম্য
দ্রুত হাঁটার সময় শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে শুধু পানি নয়, সোডিয়ামও বেরিয়ে যায়। ফলে লবণাক্ত খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা তৈরি হতে পারে, যা অতিরিক্ত ক্যালোরি ও পেটের চর্বি বাড়ায়।
হাঁটার পরে এক গ্লাস লেবুজলে এক চিমটি নুন মিশিয়ে পান করলে এ সমস্যা এড়ানো সম্ভব। এটি শরীরকে সতেজ রাখে, শক্তি যোগায় এবং কোমর নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
কারা এই টিপস মেনে চলবেন?
যারা প্রতিদিন এক ঘণ্টা বা তার বেশি হাঁটেন।
যারা হাঁটাকে প্রধান ব্যায়াম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
বিশেষ করে যাদের বয়স ৪০ বছরের বেশি, কারণ এ বয়সের পর পেশী ক্ষয় দ্রুত ঘটে।
অতিরিক্ত পরামর্শ
শুধু হাঁটলেই হবে না, সপ্তাহে অন্তত দুদিন শক্তি প্রশিক্ষণ (strength training) বা যোগব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ। এতে শরীরের নমনীয়তা বজায় থাকে এবং মূল শক্তি (core strength) বাড়ে।