মান্ডুয়া আটা রুটিমান্ডুয়া রুটি শুধু পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ নয়, বানানোও সহজ। বানাতে বেলন বা বেলনচাকির প্রয়োজন হয় না। চলুন জেনে নেওয়া যাক, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষেরা বেলন বা বেলনচাকি ছাড়াই কীভাবে মান্ডুয়া আটার রুটি তৈরি করেন।
বাড়িতে কীভাবে মান্ডুয়া রুটি তৈরি করবেন
পাহাড়ি স্টাইলের মান্ডুয়া রুটি বানাতে, প্রথমে একটি পাত্রে ১ কাপ মান্ডুয়ার আটা নিন। স্বাদমতো লবণ দিন। অল্প অল্প করে কুসুম গরম জল দিয়ে মেখে একটি নরম মণ্ড তৈরি করুন।
খেয়াল রাখবেন যে খামিরটা যেন খুব বেশি শুকনো বা খুব বেশি ভেজা নাহয়, তা না হলে রুটি বানানো খুব কঠিন হয়ে যাবে। চুলায় একটি প্যান গরম করুন। আপনার হাত হালকা ভিজিয়ে নিন এবং ময়দার একটি ছোট বল নিন। হাতের তালু দিয়ে আলতো করে চাপ দিয়ে এই মণ্ডটি ছড়িয়ে দিন। আপনি এটি সরাসরি প্যানে ছড়িয়ে দিতে পারেন, অথবা প্রথমে একটি প্লাস্টিকের শিট বা কলাপাতার উপর চাপ দিয়ে তারপর প্যানে বসাতে পারেন। রুটিটা অল্প আঁচে সেঁকে নিন। এক পাশ হালকা বাদামী হয়ে গেলে, উল্টে দিয়ে অন্য পাশটাও ভালোভাবে সেঁকে নিন। ইচ্ছা হলে উপরে সামান্য ঘি ছড়িয়ে এর স্বাদ আরও বাড়িয়ে নিতে পারেন। গরম গরম মান্ডুয়া রুটি ডাল, সবজি বা সাদা মাখনের সঙ্গে পরিবেশন করুন।
মান্ডুয়া ময়দাকে কেন উপকারী বলে মনে করা হয়?
মান্ডুয়া ময়দাকে পুষ্টির ভান্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এর নিয়মিত সেবন শরীরে বহুবিধ উপকারিতা প্রদান করে।
১. এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে, যা আপনাকে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে ঘনঘন খিদে পাওয়া প্রতিরোধ হয় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।
২. মান্ডুয়া ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ, যা হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সাহায্য করে।
৩. মান্দুয়ার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, যা এটিকে ধীরে ধীরে হজম হতে সাহায্য করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে।
৪. ফাইবারে ভরপুর হওয়ায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস ও বদহজমের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে।
৫. জোয়ারে উপস্থিত পুষ্টি উপাদান কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, যা হৃৎপিণ্ডকে সুস্থ রাখে।