কফি অনেকেই চায়ের চেয়ে কফি বেশি পছন্দ করেন। বহু মানুষই কফি দিয়েই তাদের দিন শুরু করেন। কারণ এক কাপ কফি পান করলে শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি আসে এবং সক্রিয় বোধ করতে শুরু করেন। এমন অনেকেই আছেন যারা সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও ক্লান্ত ও অলস বোধ করেন। এরপর ঘুম কাটাতে কফি খান। এক চুমুক কফিতে ঘুম কেটে যায়। আবার অনেকেই আছেন যাদের সকাল, কফি ছাড়া দিন সম্পূর্ণ হয় না। মাথা ব্যথার সময়ও কফির আশ্রয় নেয় বহু ব্যক্তি।
বেশ কয়েকটি গবেষণায় এও দেখা গেছে যে পরিমিত পরিমাণে কফি পান করা যকৃতের জন্য উপকারী হতে পারে। কিন্তু আপনি কি জানেন, অতিরিক্ত কফি খাওয়া বা ভুল সময়ে কফি খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে? এক সাক্ষাৎকারে বেঙ্গালুরুর সাকরা ওয়ার্ল্ড হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডঃ এম. রবি কুমার কফির কিছু লুকানো বিপদ সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপকারী হলেও, এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে যা আমাদের উপেক্ষা করা উচিত নয়।
মস্তিষ্কের উপর প্রভাব
মানুষ প্রায়ই সক্রিয় থাকতে এবং ঘুম তাড়াতে কফি পান করে। তবে, যখন ক্লান্তি সত্ত্বেও জেগে থাকার জন্য কফি ব্যবহার করা হয়, তখন এটি মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটার কমিয়ে দিতে পারে। এর অর্থ হল, মস্তিষ্ক মানসিক চাপ এবং ক্লান্তি থেকে সেরে উঠতে আরও বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয়।
ঘুমে সমস্যা
ক্যাফেইন ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুম-প্ররোচিত হরমোন (অ্যাডেনোসিন) ব্লক করে রাখতে পারে। এর ফলে ঘুমিয়ে পড়ার পরেও দীর্ঘক্ষণ ভারী বা অলস বোধ হতে পারে, যা গভীর, সতেজ ঘুমকে বাধা দিতে পারে।
পুষ্টি উপাদান
কফি শরীর থেকে ক্যালসিয়াম এবং আয়রনের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান কমিয়ে দিতে পারে। এটি অন্ত্রে পুষ্টির সঠিক শোষণকে বাধা দেয় এবং প্রস্রাবের মাধ্যমে সেগুলোর নিঃসরণ বাড়িয়ে তোলে, বিশেষ করে যখন এটি প্রচুর পরিমাণে বা খাবারের পরই খাওয়া হয়। এর প্রধান কারণ হল কফিতে থাকা ক্যাফেইন এবং পলিফেনল।
হরমোন এবং ত্বকের উপর প্রভাব
কফি আপনার হরমোন এবং ত্বকের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। কফি স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ হতে পারে এবং ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমে যেতে পারে, যা অকাল বার্ধক্যের কারণ হয়।
মাসিকের উপর প্রভাব
অতিরিক্ত কফি পান মহিলাদের মাসিক চক্রকে ব্যাহত করতে পারে। নিয়মিত কফি পানের ফলে শরীর কর্টিসলের উপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এছাড়াও, কফি স্নায়বিক দুর্বলতা, অস্থিরতা এবং হৃদস্পন্দন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।
ওজন বাড়ার ঝুঁকি
যদিও কফিকে একটি কম ক্যালোরির পানীয় হিসাবে বিবেচনা করা হয় এবং এটি ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে, তবে অতিরিক্ত কফি পান করলে ওজন বাড়তেও পারে। এক কাপ কফি বিপাক ক্রিয়াকে সামান্য বাড়িয়ে দিলেও, দিনে চার বা তার বেশি কাপ কফি পান করলে পেটের চর্বি এবং বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।