প্রতীকী ছবি নবজাতক শিশুদের স্বাস্থ্য এবং হাড়ের জন্য ম্যাসাজ করা উপকারী বলে মনে করা হয়। ম্যাসাজ করলে শিশুদের অনেক উপকার হয়। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে ছোট শিশুদের অসুস্থ হয়ে পড়ার একটা আশঙ্কা থাকে। তাদের ত্বক শুষ্ক হয়ে ফেটে যেতে পারে। প্রকৃতপক্ষে, শীতকালে নবজাতক এবং ছোট শিশুদের সবচেয়ে বেশি মনোযোগের প্রয়োজন হয়। তাদের অতিরিক্ত যত্নের প্রয়োজন হয়, কারণ ঠান্ডা হাওয়া, ঠান্ডা মেঝে এবং সীমিত সূর্যালোক সহজেই তারা ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
শিশুদের প্রতিদিন তেল মালিশ করার রীতি রয়েছে। তবে, শুধু তেল মাখলেই যথেষ্ট নয়। সঠিক তেল, তাপমাত্রা এবং সময় বিবেচনা করলেই একটি শিশু মালিশের সম্পূর্ণ উপকারিতা পেতে পারে। জেনে নিন, শিশুদের মালিশের জন্য কোন তেলটি সবচেয়ে ভাল এবং কখন মালিশ করা উচিত।
শিশুর বয়স অনুযায়ী সঠিক তেল বেছে নিন
প্রাপ্ত বয়স্কদের যেমন বিভিন্ন ধরনের ত্বক থাকে, তেমন সব শিশুর ত্বকও একরকম হয় না। নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে, তাদের ত্বক অত্যন্ত নরম এবং সংবেদনশীল হয়। তাই, ছোট শিশুদের জন্য নারকেল তেল বা বাদাম তেলকে সেরা বলে মনে করা হয়। এই তেলগুলো খুব হালকা এবং ত্বক দ্রুত শোষণ করে নেয়।
তবে, শিশুট যদি একটু বড় হয়, সেক্ষেত্রে সর্ষের তেলও ব্যবহার করা যেতে পারে। সর্ষের তেল শরীরকে গরম রাখে। শুধু মনে রাখতে হবে, সর্ষের তেল সব সময় হালকা গরম করে লাগাতে হবে।
কেন ঠান্ডা তেল লাগানো এড়িয়ে চলবেন?
অনেকেই বোতল থেকে সরাসরি তেল নিয়ে শিশুকে মালিশ করা শুরু করেন, কিন্তু ঠান্ডা তেল ক্ষতিকর হতে পারে। ঠান্ডা তেল লাগালে শিশুর ঠান্ডা লাগতে পারে এবং সে অস্থির হয়ে পড়তে পারে। তাই, মালিশ করার আগে তেল হালকা গরম করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
পরামর্শ: তেল এমনভাবে গরম করবেন না যাতে তা পুড়ে যায়। তেল ততটুকুই গরম করুন যাতে হাতে লাগালে আরামদায়ক মনে হয়।
মালিশের জন্য সঠিক সময় কোনটি?
শিশুকে তেল মালিশের জন্য সেরা সময় হল সকাল। কারণ এই সময়ে তাদের শরীর বেশি সতেজ এবং শিথিল থাকে। সকালে যদি সূর্য উঠে গিয়ে থাকে, তবে মালিশের উপকারিতা আরও বেশি হয়। সূর্য শরীরকে একটি হালকা উষ্ণতা দেয়, যা শিশুর ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি কমায়।
আপনি যদি সকালে শিশুকে স্নান করানোর আগে মালিশ করেন, তবে তার পেশী শিথিল হয় এবং তার পুরো শরীর আরাম অনুভব করে। তেলের মালিশ রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে, যা তার বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
সকালের মালিশের আরও একটি বড় সুবিধা হল এটি আপনার শিশুকে ভাল ঘুমাতে সাহায্য করে। যখন শরীর শিথিল থাকে, তখন আপনার শিশু গভীর ঘুম ঘুমায় এবং ঘুম থেকে ওঠার পর সে আরও সুখী ও সক্রিয় থাকে। এই কারণেই চিকিৎসক এবং গুরুজনেরা শিশুকে সারাদিন সক্রিয় রাখতে সকালে মালিশ করার পরামর্শ দেন।
মালিশের পর ঠান্ডা থেকে রক্ষা করা জরুরি
মালিশের পর শিশুদের ত্বক উন্মুক্ত থাকে, যার ফলে তাদের ঠান্ডা লাগার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই, মালিশের পরপরই আপনার শিশুকে গরম জামাকাপড় পরানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি শিশুকে স্নান করানোর প্রয়োজন হয়, তবে মালিশের পর অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন, যাতে তেল ত্বকে শোষিত হতে পারে এবং আপনার শিশুকে ঠান্ডা থেকে রক্ষা করা যায়।
মালিশ শিশুকে সুস্থ রাখে
সঠিক তেল, সঠিক সময়ে এবং সঠিক পদ্ধতিতে মালিশ শিশুর জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে। এটি কেবল আপনার শিশুর শরীরকেই শক্তিশালী করে না, বরং তার ঘুম, হজম এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও উন্নত করে। এই কারণেই শীতকালে শিশুদের প্রতিদিন মালিশ করা উচিত।