মশা বর্ষা এবং গ্রীষ্মকালে মশার উপদ্রব মারাত্মক আকার ধারণ করে। মশার হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই বাজারচলতি রাসায়নিক স্প্রে, কয়েল বা লিক্যুইড রিপেল্যান্টের উপর ভরসা রাখেন। কিন্তু এগুলি দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। এর বদলে যদি প্রাকৃতিক উপায় বেছে নেওয়া যায়, তবে কেমন হয়?
প্রকৃতিতেই এমন কিছু গাছ রয়েছে, যাদের নিজস্ব সুগন্ধ এবং প্রাকৃতিক তেল মশা তাড়াতে দারুণ কার্যকর। সবচেয়ে বড় কথা, এই গাছগুলি আপনার ঘর, বারান্দা বা বাগানের সৌন্দর্যও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলবে। জেনে নিন, এমন ১৪টি গাছের কথা, যেগুলি মশা তাড়াতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে:
তুলসী: তুলসীর তীব্র গন্ধ মশা একেবারেই সহ্য করতে পারে না। ভারতীয় পরিবারে তুলসী গাছ অতি পরিচিত একটি নাম। টবের মধ্যে খুব সহজেই এই গাছ বারান্দা বা ছাদে লাগানো যায়।
ল্যাভেন্ডার: হালকা বেগুনি রঙের ল্যাভেন্ডার ফুল তার মন মাতানো সুবাসের জন্য বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। এর মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক তেল মশাকে দূরে রাখে, অথচ এই সুবাসেই আকৃষ্ট হয়ে ছুটে আসে প্রজাপতি ও মৌমাছিরা।
লেমন বাম: পুদিনা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত এই গাছে ‘সিট্রোনেলাল’ নামক একটি যৌগ প্রচুর পরিমাণে থাকে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক মশা তাড়ানোর স্প্রে বা মলমে এই উপাদানের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়।
রোজমেরি: রোজমেরি শুধু রান্নার স্বাদই বাড়ায় না, মশা তাড়াতেও এর জুড়ি মেলা ভার। এই গাছের ডাল পোড়ালে যে ধোঁয়া ও গন্ধ বেরোয়, তা মশা এবং অন্যান্য পোকামাকড়কে দূরে রাখে।
পেপারমিন্ট: পেপারমিন্টের তীব্র সুগন্ধ মশা এবং বিভিন্ন পোকামাকড়ের জন্য ভীষণ অস্বস্তিকর। এই গাছ খুব দ্রুত চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে, তাই মাটিতে না পুঁতে টবের মধ্যে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
লেমনগ্রাস: লেমনগ্রাসে ‘সিট্রোনেলা’ নামক উপাদান পাওয়া যায়। লেবুর মতো সুবাসযুক্ত এই গাছটি প্রাকৃতিকভাবে মশা তাড়ানোর অন্যতম সেরা উপায় বলে বিবেচিত হয়।
সিট্রোনেলা ঘাস: বাজারে মশা তাড়ানোর জন্য যে সমস্ত মোমবাতি বা স্প্রে পাওয়া যায়, সেগুলির অন্যতম প্রধান উপাদান হলো সিট্রোনেলা তেল। আর এই তেলের মূল উৎসই হলো সিট্রোনেলা ঘাস।
গাঁদা: গাঁদা ফুল শুধু বাগানের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, এর তীব্র গন্ধ মশা ও অন্যান্য কীটপতঙ্গকে আপনার বাগান বা ঘরের ত্রিসীমানায় ঘেঁষতে দেয় না।
ক্যাটনিপ: এটি বিড়ালদের অত্যন্ত প্রিয় একটি ভেষজ উদ্ভিদ। তবে বিড়ালদের পছন্দ হলেও, মশা তাড়ানোর গাছের তালিকায় ক্যাটনিপ একটি অত্যন্ত কার্যকরী নাম।
রসুন গাছ: রসুনের উগ্র ও ঝাঁঝালো গন্ধ মশাদের একেবারেই না-পসন্দ। সবজির বাগানে বা টবে রসুন গাছ লাগালে মশার উপদ্রব অনেকটাই কমানো সম্ভব।
মৌরি: মৌরির মতো দেখতে এই গাছটিও মশা তাড়াতে বেশ সহায়ক বলে মনে করা হয়।
ইউক্যালিপটাস: ইউক্যালিপটাস পাতার নির্যাস বা তেল বহু মশা তাড়ানোর রাসায়নিকে ব্যবহৃত হয়। তবে বাড়িতে পোষ্য প্রাণী থাকলে সাবধানে এই গাছ লাগানো উচিত, কারণ এটি তাদের জন্য বিষাক্ত হতে পারে।
পেনিরয়্যাল: এটিও পুদিনা গোত্রীয় একটি গাছ, যা মশা তাড়াতে দারুণ কাজ করে। তবে এটি লাগানোর ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ এর কিছু প্রজাতি বিষাক্ত হতে পারে।
সুগন্ধি জেরেনিয়াম: এর পাতা থেকে খুব সুন্দর লেবুর মতো সুবাস বেরোয়। এই সুগন্ধের কারণে এটি বাগানের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং মশাদের দূরে রাখতেও সমান কার্যকর।