ক্রমেই বাড়ছে মাছ খাওয়ার প্রবণতাগত মঙ্গলবারের কথা। নিরামিষ গ্রাহকদের কথা ভেবে নতুন ভেজ ডেলিভারি ব্যবস্থার ঘোষণা করে Zomato। এই ডেলিভারি পার্সনদের পোশাকের রঙ সবুজ। শুধুমাত্র নিরামিষ খাবারই ডেলিভারি করবেন তাঁরা।
এরপরেই তাই নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। বলা হয় খাবারের ভিত্তিতে বিচ্ছিন্নতাবাদ ছড়াচ্ছে জোমাটো। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে জোমাটো সবুজ ইউনিফর্মের প্ল্যান বাতিল করে; যাতে রাস্তাঘাটে ডেলিভারি পার্সনরা কোনও সমস্যায় না পড়ে। তবে নিরামিষ ডেলিভারির অপশন এখনও রয়েছে। নিরামিষাশীরা যাঁরা ছোঁয়াছুঁয়ি মানেন, তাঁদের জন্য় নিঃসন্দেহে ভাল খবর।
ভেজ এবং নন-ভেজ নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। দুই পক্ষই পরস্পরকে নিয়ে সরাসরি সমালোচনা করতে ছাড়েন না। কিন্তু ভারতের ছবিটা ঠিক কেমন? ভারতে কত সংখ্যক মানুষ নিরামিষ খেতে পছন্দ করেন? কতজন নন-ভেজ খান? ভারতীয়রা কোন ধরণের খাবারে সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ করে?
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ (ICAR)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে মাছ খাওয়ার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে মাছ খাওয়া বৃদ্ধির কারণ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং মানুষের আয় বৃদ্ধি। সমীক্ষাটি করেছে ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (ICAR), কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রক, ভারত সরকার এবং ওয়ার্ল্ড ফিশ ইন্ডিয়া। প্রতিবেদনে ২০০৫-২০০৬ এবং ২০১৯-২০২১ সালের পরিসংখ্যান তুলনা করা হয়েছে।
মাছ খাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ২৩ কোটি: রিপোর্ট
রিপোর্ট অনুযায়ী, মাছ খাওয়া ভারতীয়দের সংখ্যা ৬৬% থেকে বেড়ে ৭২.১% হয়েছে। অর্থাৎ শতাংশের হিসাবে দেখা গেলে প্রায় ৬.১ শতাংশ বেড়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের মোট জনসংখ্যা ১৩৪ কোটি। এর মধ্যে ৯৬.৬ কোটি মানুষ মাছ খান।
মাছ খাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। ২০০৫-২০০৬ সালের রিপোর্টে মাছ খাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় ৭৩ কোটি ছিল। বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬ কোটি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে ২০১৯-২০ সালে, ৫.৯৫ শতাংশ মানুষ দৈনিক মাছ খেয়েছেন। ৩৪.৮ শতাংশ মানুষ সপ্তাহে অন্তত একবার মাছ খেতেন। ৩১.৩৫ শতাংশ মানুষ শুধুমাত্র মাঝে-মধ্যেই মাছ খান। রাজ্য অনুযায়ী তুলনা করলে, ত্রিপুরায় সবচেয়ে বেশি মানুষ মাছ খায় (৯৯.৩৫ শতাংশ)। হরিয়ানায় এটি সর্বনিম্ন, ২০.৫৫ শতাংশ।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, সাপ্তাহিক মাছ খাওয়ার অনুপাত গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলে বেশি। শহরাঞ্চলে এই অনুপাত ৪২.৭ শতাংশ। তুলনামূলকভাবে, গ্রামীণ এলাকায় এই অনুপাত ৩৯.৮ শতাংশ। তবে শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে মাছ খাওয়ার প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে।
অন্যান্য আমিষ জাতীয় খাবারের হিসাবে, ডিম খাওয়া মানুষের সংখ্যা ৭.৩৫ শতাংশ বেড়েছে। মুরগি বা মাংস খাওয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৫.৪৫ শতাংশ।
মাংস, মাছ ও ডিমের জন্য বেশি খরচ
কনজাম্পশন এক্সপেন্ডিচার সার্ভে (CES)-এর একটি রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ভারতে ডিম, মাছ এবং মাংসের জন্য গড়ে পরিবারের খরচ অন্যান্য ফুড আইটেমের তুলনায় বেড়েছে। ২০০৯-১০ সালের তুলনায়, ডিম, মাছ এবং মাংসের পিছনে গড়ে পরিবারের ব্যয় গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলে যথাক্রমে ৪% এবং ৩% চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।