গরুমারায় সাফারি নিয়ে সুখবর, জঙ্গল খুললেই মিলবে বিরাট সুযোগ, আগাম বুকিং-এর সুযোগGorumara National Park Elephant Safari: উৎসবের মরশুমের আগেই ডুয়ার্সপ্রেমী পর্যটকদের জন্য দুর্দান্ত সুখবর। আসন্ন দুর্গাপুজোর ঢল নামার আগেই গরুমারা জাতীয় উদ্যানে হাতি সাফারির আনন্দ আরও বাড়িয়ে দিতে বন দফতরের তরফে আনা হচ্ছে নতুন একটি কুনকি হাতি। বর্তমানে ধূপঝোরা এলিফ্যান্ট ক্যাম্প থেকে মাত্র তিনটি হাতি দিয়ে পর্যটকদের জঙ্গল ঘোরানো হয়। কিন্তু দিন দিন যেভাবে গরুমারায় হাতি সাফারির চাহিদা তুঙ্গে উঠছে, তাতে পর্যটকদের ভিড় সামাল দিতে আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকেই আসরে নামানো হচ্ছে চতুর্থ হাতিটিকে। অর্থাৎ, এবার থেকে মোট চারটি হাতি দিয়ে জঙ্গল সাফারির মজা লুটতে পারবেন পর্যটকরা।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে দিনে তিনবার এবং সন্ধ্যার আগে একটি শিফট, মিলিয়ে মোট চারটি শিফটে এই জনপ্রিয় এলিফ্যান্ট সাফারির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে হাতির সংখ্যা কম থাকায় বুকিং পেতে পর্যটকদের কার্যত কালঘাম ছুটে যায়। জলপাইগুড়ি ট্যুর অপারেটর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা সব্যসাচী রায় এই প্রসঙ্গে জানান, "একটি হাতির রাইডিং সাধারণত অফলাইনে রাখা হলেও, সেটি ভিআইপি কোটা ছাড়া সাধারণ পর্যটকদের কপালে জোটে না। ফলে বাকি মাত্র দুটি হাতি নিয়ে অনলাইনে বুকিং পাওয়ার জন্য পর্যটকদের মধ্যে রীতিমতো ইঁদুরদৌড় শুরু হয়ে যায়। বন দফতরের এই নতুন হাতি আনার ঘোষণায় আমরা ভীষণ খুশি।" ডুয়ার্সের পর্যটন ব্যবসায়ীরা জানান ডুয়ার্সে বেড়াতে আসা মানুষের কাছে জিপ সাফারির চেয়েও হাতি সাফারির আকর্ষণ অনেক বেশি। কিন্তু কম হাতি থাকায় বুকিংয়ের যে হাহাকার তৈরি হতো, আশা করছি এবার তা মিটবে।
সম্প্রতি বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি জেলা শাসকের দফতরে জেলার সাংসদ ডাঃ জয়ন্ত রায় এবং বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন। সেখানেই গরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের ডিএফও দ্বিজপ্রতিম সেন তাঁর ডিভিশনের পুজো ও পুজো-পরবর্তী পর্যটন মরশুমের এই নতুন উদ্যোগের কথাটি তুলে ধরেন। বন দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্যানের পর্যটন পরিষেবাকে আরও মসৃণ করতে এই কুনকি হাতিকে শামিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বন দফতরের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে সাংসদ ডাঃ জয়ন্ত রায় জানিয়েছেন, এটি অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। পর্যটকদের পরিবেশবান্ধব পরিস্থিতির মধ্যেই পরিকল্পনামাফিক সেরা পরিষেবা দেওয়াই বন দফতরের আসল উদ্দেশ্য। এই সিদ্ধান্তে ডুয়ার্সে আসা পর্যটকরা ভীষণ খুশি হবেন। তবে এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জঙ্গল, বন্যপ্রাণী ও বাস্তুতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রেখেই যে রাজ্য সরকারের সমস্ত পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা করা উচিত এবং সে বিষয়ে যাতে কোনও ত্রুটি না থাকে, বৈঠকে সেই বার্তাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন সাংসদ।