Tajmahal Crowd Control Plan: তাজমহলে যথেচ্ছ পর্যটক নয়Taj Mahal Crowd Control Plan: তাজমহলের সামনে দাঁড়িয়ে শান্তিতে একটা ছবি তুলবেন? কিংবা আগ্রা ফোর্টের অলিন্দে হারিয়ে যাবেন ইতিহাসের পাতায়? আগামী দিনে পর্যটকদের এই অভিজ্ঞতা আরও মনোরম হতে চলেছে। প্রেমের সৌধ তাজমহল এবং ঐতিহাসিক আগ্রা ফোর্টে উপচে পড়া ভিড় সামলাতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামছে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (এএসআই)। মূলত প্রাচীন স্থাপত্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পর্যটকদের ‘ধাক্কাধাক্কি’ মুক্ত ভ্রমণের স্বাদ দিতেই এই তোড়জোড়।
আইআইটি দিল্লির সমীক্ষা
সবটাই হবে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে। সেই লক্ষ্যে আইআইটি দিল্লির একদল বিশেষজ্ঞকে দিয়ে সমীক্ষা শুরু করিয়েছে এএসআই। এই বিশেষজ্ঞ দল খতিয়ে দেখছে ‘ক্যারাইং ক্যাপাসিটি’ বা ধারণ ক্ষমতা। অর্থাৎ, একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঠিক কতজন পর্যটক স্বচ্ছন্দে স্মৃতিসৌধের ভেতরে থাকতে পারবেন, যাতে স্থাপত্যের ওপর কোনও বাড়তি চাপ না পড়ে। পর্যটকদের হাঁটার ধরণ, প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ এবং ভিড়ের চাপে কম্পন বা কাঠামোর কোনও ক্ষতি হচ্ছে কি না, সবটাই খতিয়ে দেখছেন আইআইটি-র ইঞ্জিনিয়াররা।
কেন এই কড়াকড়ি?
ছুটির দিন বা উৎসবের মরশুমে তাজমহলে কার্যত জনসমুদ্র নামে। এর ফলে দীর্ঘ লাইন, চূড়ান্ত হইহট্টগোল এবং ছবি তোলার জন্য ধাক্কাধাক্কি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এএসআই-এর আশঙ্কা, ক্রমাগত বিপুল জনসমাগমের চাপে ঐতিহাসিক মেঝের পাথর ও দেওয়ালের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকরা যেখানে শান্ত পরিবেশে ভ্রমণের আশা করেন, সেখানে এই ভিড় ভারতের পর্যটন ব্যবস্থার ভাবমূর্তিতেও প্রভাব ফেলছে।
আসছে ডিজিটাল নজরদারি
সমীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে আগামী দিনে বেশ কিছু বড় বদল আসতে পারে। মনে করা হচ্ছে, এআই (AI) চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা, ডিজিটাল কাউন্টিং সিস্টেম এবং স্মার্ট এন্ট্রি ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। এমনকি প্রতিদিন পর্যটকের সংখ্যা বেঁধে দেওয়া হতে পারে। আসতে পারে নির্দিষ্ট ‘টাইম স্লট’ বা আগেভাগে অনলাইন বুকিং বাধ্যতামূলক করার মতো নিয়মও। বর্তমানে এই গোটা প্রক্রিয়াটি প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। আইআইটি দিল্লির পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র। তবে এএসআই-এর মূল লক্ষ্য একটাই, ঐতিহ্য রক্ষা করে পর্যটনকে আরও টেকসই এবং আরামদায়ক করে তোলা।