
১. প্রতিকূল প্রকৃতি আর পাহাড়ের ধসকে জয় করল ভারতীয় সেনা। উত্তর সিকিমের লাচেনে আটকে পড়া সমস্ত পর্যটককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

২. সেনার এই বিশেষ উদ্ধারকাজের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন হিম সেতু’। গত ৪৮ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে কোনো বিপত্তি ছাড়াই সবাইকে সমতলে নামিয়ে আনা হয়।

৩. আবহাওয়া চরম প্রতিকূল থাকা সত্ত্বেও যেভাবে সমন্বয় রেখে কাজ করেছে, তাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন পর্যটন মহলের বিশেষজ্ঞরা।

৪. পাহাড়ের বুক চিরে মোট ১৩২১ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু পর্যটক নয়, লাচেনের ৮৪ জন স্থানীয় বাসিন্দাকেও নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা হয়।

৫. কয়েক দিন আগে ধসের কারণে লাচেন-চুংথাং রোডের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি তছনছ হয়ে গিয়েছিল। পর্যটকরা এক প্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন বাইরের জগত থেকে।

৬. যোগাযোগ ফেরাতে শুরু হয় যুদ্ধকালীন তৎপরতা। ধস নামা জায়গার ওপর দিয়ে তৈরি করা হয় একটি অস্থায়ী ফুট ব্রিজ।

৭. এই কাঠের সাঁকোই হয়ে ওঠে মুশকিল আসান। এর সাহায্যেই দুর্গম পথ পেরিয়ে পর্যটকদের নিরাপদ এলাকায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়।

৮. পর্যটকদের স্বাচ্ছন্দ্যে যাতে কোনো অভাব না থাকে, তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে খোলা হয়েছিল অভ্যর্থনা কেন্দ্র।

৯. সেখানে খাবার এবং আশ্রয়ের পাশাপাশি মজুত ছিল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দল। অসুস্থদের তৎক্ষণাৎ পরিষেবা দেয় সেনার মেডিক্যাল টিম।

১০. দুর্গম পাহাড়ি রাস্তায় সিভিল গাড়িগুলো যখন এগোতে পারছিল না, তখন সেনার শক্তিশালী গাড়িগুলো সেগুলোকে টেনে নিয়ে যায়।

১১. উদ্ধারকাজে সেনার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে বর্ডার রোড অর্গানাইজেশন (BRO) এবং স্থানীয় প্রশাসন।

১২. ভারী তুষারপাত আর পিচ্ছিল রাস্তার বাধা কাটিয়ে রাস্তা সচল করতে দিনরাত এক করেছেন জওয়ানরা। নেপথ্যে ছিল ভারতীয় সেনার ত্রিশক্তি কোর।

১৩. শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এবং নিরাপদ বলে সেনা সূত্রে জানানো হয়েছে।