শক্তিপীঠ সার্কিটধর্মীয় পর্যটনে ব্যাপক গুরুত্ দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। প্রথম বাজেটেই তার ইঙ্গিত মিলল স্পষ্ট। তীর্থযাত্রা ও ধর্মীয় পর্যটনকে সহজ করতে বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট নির্মাণের প্রস্তাব বাজেটে ঘোষণা করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।
ধর্মীয় পর্যটনে বিশেষ জোর
বিজেপি শাসিত রাজ্য, বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশে ধর্মীয় পর্যটনে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও এই ধরনের পর্যটনে ঢালাও বরাদ্দের পথে বিজেপি সরকার। আজ বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বললেন, 'পশ্চিমবঙ্গের প্রধান প্রধান শক্তিপীঠগুলিকে কেন্দ্রকে বেঙ্গল শক্তিপীঠ সার্কিট গড়ে তোলা হবে। একটি ক্লাস্টার্ড হাব অ্যান্ড স্পোক পদ্ধতির মাধ্যমে এই মন্দিরগুলিকে বিশিষ্ট আধ্যাত্মিক পর্যটনের ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলা।'
একাধিক মন্দিরকে সংযুক্ত করে উপযুক্ত পর্যটন কর্মসূচি
তিনি জানালেন, একটি প্রধান জেলা শহরকে কেন্দ্র করে একাধিক মন্দিরকে সংযুক্ত করে উপযুক্ত পর্যটন কর্মসূচি তৈরি করা হবে। ভ্রামরীদেবী, নন্দিকেশ্বরী, তারাপীঠ, বক্রেশ্বর, ফুল্লরা ও কঙ্কালীতলাকে অনুর্ভূক্ত করা হবে। এছাড়াও শ্রীচৈতন্য দেবকেও আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়া হল বাজেটে।
চৈতন্য মহাপ্রভু তীর্থযাত্রা সার্কিট
শ্রীচৈতন্যের ধর্মীয় ও সামাজিক চিন্তাকে শ্রদ্ধা জানাতে চৈতন্য মহাপ্রভু তীর্থযাত্রা সার্কিট গড়ার ঘোষণাও করা হল বাজেটে। মায়াপুরকে একটি অনন্য পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর জন্য ৩ বছরে ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করছে রাজ্য সরকার। পুরী ও দেওঘরে তীর্থযাত্রীদের থাকার সুবন্দোবস্তের জন্য পিপিপি মডেলে সুলভে থাকার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানানো হল রাজ্য বাজেটে।
প্রত্যাশিত মতোই বাজেটে উত্তরবঙ্গের জন্য ঢালাও প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, 'এই বাজেটে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পশ্চিমবঙ্গের গরিমা ও প্রয়োজনের প্রাসঙ্গিকতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। আমাদের এই বাজেটে অগ্রাধিকারের জায়গায় আছে পশ্চিমবঙ্গের সুরক্ষা, নাগরিকদের মর্যাদা, ভয়মুক্ত পরিবেশ, সংস্কৃতির পুনরুদ্ধার, শিল্প ও কৃষিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে। এই রাজ্যে যাঁরা সেবাদান করেন চুক্তি ভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত সরকারি কর্মীদের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। রাজ্যে শিল্প ও বিনিয়োগ আনতে হলে আইনশৃঙ্খলাকে সুদৃঢ় করায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই বাজেটে এমন কোনও বর্গ নেই, যাঁরা বাদ গিয়েছে।'