মেদলা ওয়াচ টাওয়ারশীত মানেই বাঙালির পাতে নলেন গুড়। পিঠে-পুলি থেকে শুরু করে গরম পায়েস। সবেতেই যেন আছে নলেন গুড়ের এক বিশেষ টান। সাধারণ উপকরণেই ঘরোয়া রান্নাঘরে তৈরি হয়ে যায় রেস্তোরাঁ-স্টাইলের সেই মিষ্টি পায়েস। শীতের দুপুরে বা পরিবারের আড্ডায়, নলেন গুড়ের স্বাদ যেন উৎসবকে আরও খানিক জমিয়ে দেয়।
এদিকে শীতের আরেক আকর্ষণ এখন চোখধাঁধানো ডুয়ার্স। বিশেষ করে গরুমারা জঙ্গল লাগোয়া রামসাই–মেদলা এলাকা নতুন করে পর্যটনের মানচিত্রে জায়গা করে নিচ্ছে। বনদফতরের সচেতনমূলক প্রচারে এই অঞ্চলকে ঘিরে বাড়ছে পর্যটকের ভিড়।
রামসাই মেদলা টাওয়ারে উঠতেই ধরা দেয় বিস্তীর্ণ সবুজ। চোখের সামনে খুলে যায় অরণ্যের গাঢ় ছায়া, নদী জলঢাকার শান্ত নীল, আর বনের মধ্যে বুনো প্রাণীদের নিশ্চিন্ত চলাফেরা। প্রকৃতি যেন এখানে তার সবটুকু সৌন্দর্য সাজিয়ে রেখেছে।
জলঢাকা নদীর স্বচ্ছ জলে আকাশ আর চারপাশের গাছপালার প্রতিবিম্ব ছবি তোলার মতো দৃশ্য। মাঝেমাঝিই দেখা যায় মোষের গাড়ি, যা ডুয়ার্সের গ্রামীণ জীবনকে আরও স্পষ্ট করে তুলে ধরে। তবে পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ—হাতিদের স্নান। পরিষ্কার নদীর জলে একের পর এক হাতিকে নামানো হয়, আর সেই জলকেলির মুহূর্ত মেদলা টাওয়ার থেকে উপভোগ করেন দর্শনার্থীরা।
হাতির পাশাপাশি মাঝে মাঝে নজর কাড়ে হরিণ, বুনো শূকর আর নানা প্রজাতির পাখি। বনদফতরের মতে, গরুমারা গেলে রামসাই এখন অবশ্যই তালিকায় রাখা উচিত। নদী, অরণ্য, বাঁশবন আর হাতির স্নান—সব মিলিয়ে রামসাই ডুয়ার্স ভ্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করছে।