এবার ডুয়ার্স পর্যটনেও ধাক্কা, ধস নেমে বিচ্ছিন্ন ঐতিহাসিক বক্সা ফোর্টBuxa Lepchakha Losar Festival: শীত নামতেই আলিপুরদুয়ারের বক্সা পাহাড়ের কোলে লেপচাখা গ্রামে ভিড় জমেছে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের। পাহাড়, জঙ্গল আর মেঘের গ্রাম লেপচাখা এখন জেলার পর্যটন মানচিত্রে আলাদা জায়গা দখল করে নিয়েছে। আর সেই আকর্ষণে বাড়তি রঙ যোগ করেছে ডুকপা জনজাতির ঐতিহ্যবাহী লোসার উৎসব, যা শুরু হয়েছে চলতি সপ্তাহের শুরুতেই।
বক্সার বিভিন্ন গ্রামে ধাপে ধাপে এই উৎসব পালিত হয়। এ বছর লেপচাখায় লোসার শুরু হয়েছে গত বুধবার থেকে এবং চলবে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, শুধু গ্রামের মানুষ নন, অনেক পর্যটকও এখন উৎসবের মেজাজে সারা দিন কাটাচ্ছেন।
লেপচাখার বাসিন্দা পিনছো ডুকপা বললেন, “এটা আমাদের বার্ষিক উৎসব। যে কেউ বাইরে কাজ করেন, তাঁরাও এই সময় ফিরে আসেন। আশপাশের গ্রাম থেকেও অনেকেই লেপচাখায় চলে আসেন। কয়েকটা দিন সবাই মিলেমিশে উৎসব করি।”
ডুকপা সম্প্রদায়ের লোকজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল লোসারের দিন ভোরেই তাঁরা বৌদ্ধ মন্দিরে প্রার্থনায় অংশ নেন। তারপর শুরু হয় তিরন্দাজির প্রতিযোগিতা। দুপুরে গ্রামের পুরুষেরা নিজেদের বাড়ি থেকে খাবার এনে এক জায়গায় বসে ভাগাভাগি করে খান। উৎসবের শেষ দিনে মহিলারাও পুরুষদের সঙ্গে যুক্ত হন।
দুপুরের পর আবার তিরন্দাজি, তারপর ছোট্ট চা বিরতি। সন্ধ্যা নামতেই ফের প্রার্থনা। আর দিন শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাচ, গান, লোকসঙ্গীত, যা রাত পর্যন্ত চলে।
লোসার উপলক্ষে প্রতিবছরই ভিড় থাকে বক্সায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিহারের নালন্দার বাসিন্দা, ভারতীয় রেলের কর্মী সৌর্য পুরোহিত বললেন, “গত বছর এই উৎসবের কথা শুনেছিলাম। এ বছর পরিবারকে নিয়ে নিজে চোখে দেখার ইচ্ছে ছিল। তাই চলে এলাম।”
লেপচাখার এক হোমস্টে মালিক সোহম চক্রবর্তী জানালেন, “এখন সব ঘরই ভর্তি। বুকিং পাওয়া দুষ্কর।” ট্যুরিস্ট গাইড জেমস ভুটিয়া যোগ করলেন, “অনেক পর্যটকই লোসার সম্পর্কে জানেন না। তাঁদের আমরা দেখাচ্ছি, ব্যাখ্যা করছি এই উৎসবের ইতিহাস ঠিক কী।”