গ্যাসের আকালে উধাও চাইনিজ-তন্দুরি, ডাল-ভাতে মন ভরছে না জঙ্গলের পর্যটকদেরGas Crysis: জঙ্গলের রোমাঞ্চ আছে, কিন্তু পাতে নেই পছন্দের ‘চিকেন মাঞ্চুরিয়ান’ বা ‘তন্দুরি রুটি’। দেশজুড়ে রান্নার গ্যাসের চরম আকালে এমনই এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি ডুয়ার্সের এই পর্যটন কেন্দ্র। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, সরকারি লজ থেকে শুরু করে বেসরকারি রিসর্ট, সর্বত্রই খাবারের মেনুতে চলছে ব্যাপক ছাঁটাই।
পছন্দের চাইনিজ বা ওয়েস্টার্ন পদের বদলে পর্যটকদের এখন কেবল ‘থালি’ সিস্টেম বা ডাল-ভাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে। ভ্রমণপিপাসু বাঙালির জঙ্গলের টানে জলদাপাড়া আসা সার্থক হলেও, রসনাতৃপ্তির অভাবে মন খারাপের মেঘ মাদারিহাটের আকাশে।
ডাল-ভাতের সন্তুষ্টি
জলদাপাড়া ট্যুরিস্ট লজের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার নিরঞ্জন সাহার কথায় ঝরে পড়ল অসহায়তা। তিনি জানান, “গ্যাসের তীব্র আকাল। তাই আমরা মেনু থেকে চাইনিজ ও ওয়েস্টার্ন খাবার পুরোপুরি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। এখন কেবল মাছ বা মাংসের থালি দেওয়া হচ্ছে।” শুধু তাই নয়, আধুনিক গ্যাসের উনুনের বদলে লজের পুরোনো মাটির উনুনগুলো ফের মেরামত করা হয়েছে। জ্বালানি কাঠে ধোঁয়া উড়িয়ে তৈরি হচ্ছে সকালের জলখাবার। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও জ্বালানি সংকটের এই ছবি যেন এক ভিন্ন সঙ্কটের সঙ্কেত দিচ্ছে।
তন্দুরি ও বিশেষ পদ উধাও
বেসরকারি লজগুলোর অবস্থাও তথৈবচ। মাদারিহাটের রিসর্ট মালিক সঞ্জয় দাস বা বিকাশ সাহাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। তন্দুরি বানাতে আলাদা উনুন ও পর্যাপ্ত গ্যাসের প্রয়োজন হয়, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে জোগাড় করা দুঃসাধ্য। বিকাশবাবু আগে যেখানে ১২ পদের রাজকীয় থালির ব্যবস্থা করতেন, এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ৬ পদে। রিসর্ট মালিক উত্তম বিশ্বাস শোনালেন আরও ভয়ংকর তথ্য। তাঁর দাবি, ২২৩৭ টাকার সিলিন্ডার কালোবাজারে কিনতে হচ্ছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায়। চাল থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া। এ অবস্থা চলতে থাকলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা নেই বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
মাদারিহাট সংলগ্ন প্রায় ৫০টি লজ ও রিসর্ট এখন এই জ্বালানি সংকটের বলি। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ কবে থামবে বা গ্যাসের জোগান কবে স্বাভাবিক হবে, তা কারো জানা নেই। তবে এই পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্ববিখ্যাত জলদাপাড়ার পর্যটন মানচিত্র থেকে অনেক রিসর্ট যে চিরতরে মুছে যাবে, সেই আশঙ্কাই এখন প্রবল হচ্ছে।