
ধস নেমে এক মাস ধরে বিচ্ছিন্ন এই জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, আপনার প্ল্যান থাকলে আগেই সাবধানBindu Tourism Kalimpong Landslide: পাহাড়ের বুক চেরে বয়ে চলা জলঢাকা নদী আর মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে যেখানে প্রতিদিন শয়ে শয়ে মানুষের ঢল নামত, ডুয়ার্সের সেই অন্যতম সেরা পর্যটন কেন্দ্র কালিম্পং জেলার বিন্দু আজ যেন এক মায়াবী ভূতুড়ে শহর। গত প্রায় এক মাস ধরে চলা টানা ধসের জেরে কার্যত দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এই রূপসী পর্যটন কেন্দ্রটি। বিন্দুর ঠিক আগে গোপাল সেতুর কাছে আচমকা পাহাড় ধসে পড়ায় চার চাকার সমস্ত রকম যান চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে।
বিপর্যয় মোকাবিলায় বারেবারে ধস সরানোর মরিয়া চেষ্টা চালানো হলেও বাঁধ সেধেছে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা। অবিরাম বর্ষণের জেরে নতুন করে ধস নামায় রাস্তা কিছুতেই স্বাভাবিক করা যাচ্ছে না। যার সরাসরি কামড় এসে পড়েছে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসার ওপর। পর্যটক না আসায় এলাকার গোটা অর্থনীতি এখন খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। যার জেরে রুটিরুজি হারিয়ে পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল প্রায় দেড়শোটি দোকানপাট পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এই বিপর্যয়ের পিছনে রয়েছে মানুষেরই তৈরি কিছু ভুল সিদ্ধান্ত। তাদের দাবি পুরোনো লোহার সেতুর বদলে সেখানে একটি নতুন আধুনিক সেতু নির্মাণের জন্য যখনই পাহাড় কাটার কাজ শুরু হয়, ঠিক তখন থেকেই এই ধসের সমস্যার সূত্রপাত। বর্তমান বর্ষার মরশুমে সেই ধসপ্রবণ এলাকা আরও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। কেন্দ্রীয় সরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থা জেনারেল রিজার্ভ ইঞ্জিনিয়ারিং ফোর্স বা গ্রেফ প্রতিদিন কোমর বেঁধে কাজ করলেও অবিরাম বৃষ্টির দাপটে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। ডুয়ার্সে বেড়াতে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষদের কাছে বিন্দু আর জলঢাকা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চিরকালই এক বড় আকর্ষণ।

বিন্দুর জলঢাকা ব্যারেজের রূপ দেখতে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন চারশোরও বেশি পর্যটক এবং স্থানীয় মানুষ এখানে ভিড় জমাতেন। আর পর্যটনের ভরা মরশুমে সেই সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে ঠেকত তার হিসেব নেই। কিন্তু মে মাসের শেষদিকে গোপাল সেতুর কাছে নতুন সেতু তৈরির জন্য পাহাড় কাটার পর যে প্রথম ধস নামে, তাতেই সব শেষ হয়ে গেল। তারপর থেকে ধসপ্রবণ এলাকা এতটাই বেড়েছে যে এখন গোটা এলাকা জনশূন্য।
এই নজিরবিহীন সংকটে চরম উদ্বেগের দিন কাটছে স্থানীয় ব্যবসায়ী মীরা গুরুং থেকে শুরু করে বাসিন্দা গোপাল ছেত্রীদের। মীরা গুরুং আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন ধসের পর থেকেই গোটা এলাকা ফাঁকা। চার চাকার গাড়ি না চলায় ব্যবসা একেবারে লাটে উঠেছে এবং এই পরিস্থিতি আর কিছুদিন চললে তাদের আর্থিক অনাহার আরও তীব্র হবে। অন্যদিকে গোপাল ছেত্রী জানান শুধু বড় গাড়ি নয়, বাইক নিয়ে যাওয়ার সময়ও ওপর থেকে পাথর আর ধস নামছে। ফলে যে কোনও মুহূর্তে বড়সড় প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ধসকবলিত এলাকা ঘুরে দেখেন গ্রেফের সিকিম জোনের ইঞ্জিনিয়ারদের একটি উচ্চপর্যায়ের দল।
দলের এক পদস্থ ইঞ্জিনিয়ার অবশ্য আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন নতুন সেতুর কাজ চলার কারণেই পাহাড় কিছুটা আলগা হয়েছে এবং বৃষ্টির জন্য ধস কিছুটা বেড়েছে ঠিকই কিন্তু আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। পাহাড়ের ধস রুখতে ইতিমধ্যেই প্রায় দেড়শো ফুট চওড়া এবং তিরিশ ফুট উঁচু কংক্রিটের এক বিশাল দেওয়াল তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কড়া নজরদারির মাধ্যমে চার চাকার গাড়ি সীমিতভাবে চালানোর অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এনে রাস্তা স্বাভাবিক করতে আরও অন্তত আড়াই মাস সময় লেগে যাবে।