মাত্র ৯ হাজারে Kolkata থেকে Kedarnath, কীভাবে যাবেনকষ্ট করলে কেষ্ট মেলে... বাংলার অতি পরিচিত প্রবাদকে একটু ঘুরিয়ে বলাই যায়, কষ্ট করলে কেদার মেলে। ২০২৬-এ দাঁড়িয়েও যে যে জায়গাগুলিতে যাওয়ার আগে পর্যটকেরা শারীরিক পরিশ্রমের কথা অন্তত ১০ বার ভাবেন, তার মধ্যে অন্যতম কেদারনাথ। উত্তরাখণ্ডের এই ধামে যাওয়া মহাদেব ভক্তদের কাছে এক স্বপ্নপূরণ। কিন্তু শুধু শারীরিক পরিশ্রম নয়, সদূর কলকাতা থেকে কেদারনাথ পৌঁছতে টাকাও লাগে বিস্তর। তবে এখানে যে উপায় বলা হচ্ছে, তাতে মাত্র ৮০০০ টাকায় কলকাতা থেকে কেদারনাথ ট্যুর করা যেতে পারে। কীভাবে দেখে নেওয়া যাক।
ট্রেন সফর ও খরচ:
কলকাতা থেকে কেদারনাথ যেতে হলে প্রথমে ট্রেনে করে পৌঁছাতে হবে হরিদ্বার। এরজন্য হাওড়া থেকে ধরতে হবে দুন অথবা কুম্ভ এক্সপ্রেস। কুম্ভ এক্সপ্রেস হলে দুপুর ১টা ট্রেনটি হাওড়া থেকে ছেড়ে হরিদ্বার পৌঁছবে প্রায় ২৭ ঘণ্টা পর, অর্থাৎ পরের দিন বিকেল ৪ টে নাগাদ। স্লিপার ক্লাসে টিকিটের ভাড়া রয়েছে ৬৮০ টাকা। এরসঙ্গে ট্রেনে খাওয়ার খরচ আরও ২২০ টাকা। (প্রথম দিনে মোট খরচ - ৯০০ টাকা)
হরিদ্বার থেকে গৌরীকুণ্ড:
দ্বিতীয় দিনের রাতটি হরিদ্বারে কাটাতে হবে। একজনের হোটেল ভাড়া ৫০০ টাকার মধ্যেই হওয়া উচিত। তবে বিকেলে অবশ্যই বাস স্ট্যান্ড থেকে শোনপ্রয়াগ যাওয়ার টিকিট কেটে নেওয়া জরুরি। অবশ্য, অনলাইনেও বাসের টিকিট আগে কাটা যেতে পারে।
পরের দিন অর্থাৎ তৃতীয় দিন ভোর ৫টার থেকে ৬টার হরিদ্বার থেকে শোনপ্রয়াগের বাসে চড়তে হবে। বাস ভাড়া রয়েছে ৬০০-৮০০ টাকার মধ্যে। শেষ দুপুর নাগাদ বাস পৌঁছে দেবে শোনপ্রয়াগ। সেখান থেকে জিপ করে পৌঁছতে হবে গৌরীকুণ্ড (ভাড়া -৫০ টাকা)। সেখানেই হবে রাত্রিবাস। হোটেলের ভাড়া পড়বে ৭০০ টাকা। সারা দিনে খাওয়া, বাস ভাড়া হিসেবে, হরিদ্বার ও গৌরীকুণ্ডের হোটেল ভাড়া ধরলে মোট খরচ হবে ২৩০০ টাকা।
গৌরীকুণ্ড থেকে কেদারনাথ ট্রেক
চতুর্থ দিনে ভোর ৫টা থেকে শুরু করতে হবে ট্রেকিং। তাতে বিকেল ৩টে থেকে ৪টের মধ্যে পৌঁছে যেতে পারেন কেদারনাথ। এখানে আপনাকে প্রায় ২২-২৩ কিমি রাস্তা পায়ে হেঁটে পার করতে হবে। ট্রেকিং-এ হালকা কিছু খাওয়া ও দুপুরের খাওয়ার জন্য খরচ হবে ৩০০ টাকা। ভারী ব্যাগ থাকলে তা রেখে আসতে হবে গৌরীকুণ্ডের হোটেলে। সেখানে খরচ হবে ১০০ টাকা। বিকেলের মধ্যে কেদারনাথ পৌঁছে মন্দির দর্শন করে খুঁজে নিতে হবে হোটেল। কেদারনাথে হোটেলের বা ক্যাম্পের ভাড়া পড়বে ১০০০ টাকা। রাতে খেতেও ১৫০ টাকা খরচ হবে। সব মিলিয়ে চতুর্থ দিনে খরচ হবে প্রায় ১৬০০ টাকা।
কেদার দর্শন ও ফেরা
পঞ্চম দিনে খুব ভোরে কেদারনাথের পুজো দিয়ে ও কালভৈরবের মন্দির দর্শন করে নিতে হবে। তারপর ব্রেকফাস্ট সেরে নামতে হবে নীচের দিকে। ফের ৮-৯ ঘণ্টা হেঁটে নীচে নেমে গৌরীকুণ্ড থেকে ব্যাগ নিয়ে এসে উঠতে হবে শোনপ্রয়াগের হেটেলে। ৫ম দিনের হিসেব করলে দেখা যাবে খাওয়া ও পুজো দিতে মোট খরচ হবে ৫০০ টাকা এবং শোনপ্রয়াগে হোটেল ভাড়া পড়বে ১০০০ টাকা। সব মিলিয়ে খরচ ১৫০০ টাকা।
হরিদ্বার ফেরা
পরের দিন অর্থাৎ ষষ্ঠ দিনে শোনপ্রয়াগ থেকে হরিদ্বার ফেরার বাস ধরতে হবে। এক্ষেত্রেও বাস ভাড়া ৭০০-৮০০ টাকা। সারা দিনে খাওয়ার খরচ হবে ৪০০ টাকা। সব মিলিয়ে খরচ হবে ১৩০০ টাকা। ওই দিন রাতেই উঠে পড়তে হবে রাত ১১টা ৪৩-এর কুম্ভ এক্সপ্রেসে।
কলকাতায় ফেরা
কুম্ভ এক্সপ্রেস কলকাতায় ফিরবে অষ্টম দিন ভোর রাত ৩টে ১৫ নাগাদ। সপ্তম দিন কাটাতে হবে ট্রেনেই। টিকিট ভাড়া সহ খাবার খরচ বাবদ মোট খরচ হবে ১৩০০ টাকা। আপনি ফিরে যাবেন কলকাতা। তাহলে মোট খরচ কত হল?
সব মিলিয়ে খরচ হচ্ছে ৮৯০০ টাকা। তাও সরাসরি কলকাতা থেকে কেদারনাথ সফর। এর চেয়ে সস্তা আর পাবেন নাকি?