
চির ঠান্ডার জায়গা লাচুংSikkim Tourism News: প্রকৃতির তাণ্ডবে দীর্ঘকাল বিচ্ছিন্ন থাকার পর অবশেষে ছন্দে ফিরছে উত্তর সিকিম। আগামী ৮ মার্চ থেকে পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্য লাচেন ভ্রমণের জন্য পারমিট বা অনুমতিপত্র দেওয়ার কথা ঘোষণা করল মঙ্গন জেলা প্রশাসন। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে লোনাক লেক ফেটে তিস্তার যে ভয়াবহ হড়পা বান পাহাড়ের জনজীবন তছনছ করে দিয়েছিল, তার পর থেকেই লাচেন সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের পর্যটন কার্যত স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।
মাঝে কয়েকবার যাতায়াত শুরুর চেষ্টা হলেও রাস্তার বেহাল দশা এবং সেতুর অভাবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অবশেষে চাকা ঘুরতে চলেছে। জেলাশাসক অনন্ত জৈন (আইএএস) জানিয়েছেন, সরকারি প্রোটোকল মেনে পর্যটক ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলি মঙ্গন জেলা কালেক্টরেট বা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই পারমিট সংগ্রহ করতে পারবেন।
জেলাশাসক অনন্ত জৈন (আইএএস) জানিয়েছেন, সরকারি প্রোটোকল মেনেই পর্যটকদের এই অনুমতি দেওয়া হবে। পর্যটক এবং ট্রাভেল এজেন্সিগুলি মঙ্গন জেলা কালেক্টরেট বা উত্তর সিকিম ভ্রমণের নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে পারমিট সংগ্রহ করতে পারবেন। গত বছরের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই লাচেনে পর্যটক প্রবেশে ব্যাপক কড়াকড়ি ছিল। এই নতুন ঘোষণায় পর্যটন ব্যবসায়ীরা ফের লাভের মুখ দেখার আশা করছেন।

তবে ভ্রমণের আনন্দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সতর্কতাও। চুংথাং-লাচেন রোডের ১৫.৬৫ কিমি পয়েন্টে তারাম চুর ওপর সম্প্রতি একটি নতুন বেইলি সাসপেনশন ব্রিজ বা ঝুলন্ত সেতু তৈরি করা হয়েছে। এই সেতুটিই এখন লাচেন যাওয়ার প্রধান লাইফলাইন। সেতুর স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গন জেলা প্রশাসন বিশেষ ট্রাফিক অ্যাডভাইজরি বা নির্দেশিকা জারি করেছে। নির্দিষ্ট ওজনের বেশি গাড়ি চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সেতুর নিরাপত্তা ও পর্যটকদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই এই কড়া বিধিনিষেধ। ৮ মার্চ থেকে যাঁরা পাহাড়ের টানে লাচেন যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের এই নয়া নির্দেশিকা মেনেই পথ চলতে হবে।