লাটাগুড়িতেও জঙ্গল সাফারিতে নয়া নিয়মLataguri Jungle Safari: ডুয়ার্সের জঙ্গলে বন্যপ্রাণী দেখার নেশা যেন কাল না হয়ে দাঁড়ায়, তার জন্য এবার কোমর বেঁধে নামল বন দফতর। অভিযোগ উঠেছে, পর্যটকদের অতিরিক্ত খুশি করতে লাটাগুড়ির জঙ্গলে হাতি বা অন্যান্য বুনো জানোয়ারের অত্যন্ত কাছে জিপসি গাড়ি নিয়ে গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন চালক ও গাইডরা। বন্যপ্রাণীদের এই অতি-উত্ত্যক্ত করার মাশুল দিতে হচ্ছে পর্যটকদের। সম্প্রতি এক দাঁতালের হানায় পর্যটকবোঝাই জিপসি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। বন দপ্তরের সাফ কথা, জঙ্গলের ভেতরে নিয়ম ভেঙে গাড়ি দাঁড়া করালে বা বুনোদের উত্যক্ত করলে সংশ্লিষ্ট জিপসি ও গাইডের লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করা হবে।
বিগত কয়েকদিন ধরেই লাটাগুড়ি সংলগ্ন জঙ্গলে বেশ কিছু হাতির গতিবিধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যাদের আচরণ কিছুটা আক্রমণাত্মক। গত শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের এক পর্যটক পরিবার লাটাগুড়ি-চালসাগামী ৭১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে সাফারিতে যাওয়ার সময় একটি দাঁতালের খপ্পরে পড়েন। মহাকালধামের কাছে হাতিটি গাড়িটিকে তাড়া করলে বনকর্মীদের তৎপরতায় প্রাণ বাঁচান পর্যটকরা, তবে জিপসিটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর রবিবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটায় উদ্বেগের মেঘ ঘনীভূত হয়েছে। বন দপ্তরের অভিযোগ, জিপসি চালকরা পর্যটকদের বুনোদের খুব কাছে নিয়ে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছেন, যার ফলেই মেজাজ হারাচ্ছে হাতিরা।
লাটাগুড়ির রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্ত জানিয়েছেন, সমস্ত জিপসি চালক ও গাইডদের কড়াভাবে সতর্ক করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী দেখলে দাঁড়িয়ে না থেকে স্বাভাবিক গতিতে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অমান্য করলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে, লাটাগুড়ি জিপসি ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনও পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে বন দপ্তরের এই কড়া অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে। চৈত্র মাসের এই পর্যটন মরসুমে জঙ্গল সাফারিতে রোমাঞ্চের বদলে যাতে রক্তপাত না ঘটে, এখন সেদিকেই কড়া নজর রাখছে বন দফতর।