বর্ষার আসল মজা পেতে হলে যেতে হবে প্রকৃতির কাছে।Monsoon Weekend Trip: টিপটিপ বৃষ্টি, সবুজে মোড়া প্রকৃতি আর মেঘে ঢাকা আকাশ। শহরে বসে আর তার কতটুকুই বা উপভোগ করা যায়। বর্ষার আসল মজা পেতে হলে যেতে হবে প্রকৃতির কাছে। খুব দূরে যাওয়ারও প্রয়োজন নেই। সপ্তাহান্তে মাত্র এক বা দু'দিনের ছুটিতেই ঘুরে আসতে পারেন। এমন বেশ কয়েকটি অফবিট জায়গা রয়েছে, যেখানে বর্ষায় প্রকৃতির রূপ যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। নদী, পাহাড়, জঙ্গল কিংবা সমুদ্র; সব ধরনের ভ্রমণপিপাসীর জন্যই রইল একাধিক অপশন।
খোয়াইয়ে বর্ষার রাঙামাটির সৌন্দর্য
শান্তিনিকেতনের খোয়াই বর্ষার সময়ে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। কোপাই নদীর জল বেড়ে যায়। সোনাঝুরি জঙ্গলে বৃষ্টির ফোঁটা আর লাল মাটির সোঁদা গন্ধ মন ভালো করে দেয়। সুযোগ থাকলে শনিবারের খোয়াই হাটও ঘুরে দেখতে পারেন। স্থানীয় হোমস্টেতেও থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
টাকিতে ইছামতীর পাড়ে বর্ষার বিকেল
কলকাতা থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দূরের টাকি বর্ষায় আরও মনোরম হয়ে ওঠে। কানায় কানায় ভরা ইছামতী নদীর পাড়ে বসে ওপার বাংলার মেঘ-বৃষ্টির দৃশ্য উপভোগ করার অভিজ্ঞতা আলাদা। গোলপাতার জঙ্গলও বর্ষায় সবুজে ঢেকে যায়।
শরৎচন্দ্রের স্মৃতিবিজড়িত দেউলটি
রূপনারায়ণ নদীর ধারে শান্ত গ্রাম দেউলটি বর্ষায় ভ্রমণের জন্য আদর্শ। নদীর ধারে বসে বৃষ্টি উপভোগ করার পাশাপাশি ঘুরে দেখতে পারেন কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ঐতিহ্যবাহী বাড়ি। প্রকৃতি ও ইতিহাস; দু'য়েরই স্বাদ মিলবে একসঙ্গে।
পাঞ্চেত পাহাড়ে মেঘের আনাগোনা
কলকাতা থেকে একটু দূরে হলেও বর্ষার উইকএন্ড ট্রিপের জন্য পাঞ্চেত দারুণ বিকল্প। পাহাড়, সবুজ বন আর ঐতিহাসিক মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ মিলিয়ে জায়গাটি বর্ষায় আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। মেঘ এসে পাহাড় ছুঁয়ে যাওয়ার দৃশ্য ভোলার নয়।
হেনরি আইল্যান্ডে উত্তাল সমুদ্র
বর্ষার সমুদ্র দেখতে চাইলে হেনরি আইল্যান্ড হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। ম্যানগ্রোভ অরণ্যের মধ্যে কাঠের সেতু পেরিয়ে নির্জন সৈকতে পৌঁছনোর অভিজ্ঞতা আলাদা। কালো মেঘ আর উত্তাল ঢেউ প্রকৃতির রুক্ষ সৌন্দর্যকে সামনে নিয়ে আসে।
মন্দারমণি
কলকাতা থেকে প্রায় ১৭৪ কিলোমিটার দূরের মন্দারমণি এখনও সপ্তাহান্তের অন্যতম জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত। দীর্ঘ সৈকত, সমুদ্রপাড়ের রিসর্ট এবং সহজ যোগাযোগের জন্য বর্ষাতেও পর্যটকদের ভিড় থাকে। নিজের গাড়ি বা বাসে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায়।
তালসারি, ওড়িশা
দিঘার খুব কাছেই হলেও তুলনায় অনেক শান্ত তালসারি। লাল কাঁকড়া, ক্যাসুরিনা বন আর নদী-সমুদ্রের মিলনস্থল বর্ষায় অসাধারণ লাগে। যাঁরা নিরিবিলি সমুদ্র ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এটি আদর্শ।
জয়পুর জঙ্গল, বাঁকুড়া
বর্ষায় শাল-সেগুনে মোড়া জয়পুর জঙ্গল যেন সবুজের স্বর্গ। বৃষ্টিভেজা জঙ্গলের রাস্তা, পাখির ডাক আর নিস্তব্ধ পরিবেশ প্রকৃতিপ্রেমীদের টানবেই। চাইলে বনবাংলো বা ফরেস্ট রিসর্টেও রাত কাটানো যায়।
মুকুটমণিপুর ও কংসাবতী
বর্ষার সময় মুকুটমণিপুর ড্যাম এবং কংসাবতী জলাধারের সৌন্দর্য অন্য মাত্রা পায়। পাহাড়, জল আর সবুজের মিলনে তৈরি হয় দুর্দান্ত দৃশ্য। বোটিংয়ের সুযোগও রয়েছে। সূর্যাস্তের সময় এই এলাকা বিশেষ আকর্ষণীয়।
বকখালি
ভিড় এড়াতে চাইলে বকখালিও ভাল অপশন। সমুদ্রের পাশাপাশি ম্যানগ্রোভ অরণ্য এবং লাল কাঁকড়ার দেখা মিলবে।
ঘাটশিলা
ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলায় বর্ষার সময়ে সুবর্ণরেখা নদী, বুরুডি লেক ও পাহাড়ি ঝরনাগুলি নতুন রূপে ধরা দেয়। দু'দিনের ছুটিতে নদী, পাহাড় ও জঙ্গলের স্বাদ একসঙ্গে পাওয়া যায়।
বর্ষায় বেড়াতে বের হলে অবশ্যই আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে রওনা দিন। ভারী বৃষ্টি বা ঝড়ের সতর্কতা থাকলে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়িয়ে চলাই ভাল। প্রয়োজনীয় ওষুধ, রেনকোট, ছাতা এবং ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ সঙ্গে রাখলে সফর আরও মজাদার হবে। আর নতুন জায়গায় অবশ্যই ব্র্যান্ডেড প্যাকেজড জল কিনে খান।