এবার বিপাকে সিকিমও, ধসের জেরে বর্ষার শুরুতেই ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে লণ্ডভণ্ড দশাSikkim NH 10 Disaster: পাহাড়ের বর্ষা আসতেই চেনা আতঙ্কের ছবি ফিরলো সিকিম ও দার্জিলিং সংযোগকারী লাইফলাইন ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে। বর্ষার একেবারে শুরুতেই একের পর এক এলাকায় ভয়াবহ ধস নামায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ থাকছে যান চলাচল। সিকিমের অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলিতেও লাগাতার ভূমিধস ঘটায় জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং এর সরাসরি বড় প্রভাব পড়ছে পাহাড়ি পর্যটন শিল্পে। আগামী টানা কয়েকদিন পাহাড়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় সিকিম প্রশাসন শুক্রবার এক জরুরি বৈঠকে বসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দপ্তরের সমস্ত কর্মীর ছুটি বাতিল করার পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষ দল গঠনের বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। সেই সাথে ধসপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের চরম সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টা সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা।
মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই দুবার ধস নামলো অতি গুরুত্বপূর্ণ ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এক সাথে তিনটি জায়গায় ধস নামার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বন্ধ ছিল এই সড়ক যার জেরে তীব্র যানজটে নাকাল হতে হয় যাত্রীদের। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার নতুন করে ধস নামে বারদাং এলাকায় যার জেরে প্রায় এক ঘণ্টা পুরোপুরি স্তব্ধ থাকে যান চলাচল। পরবর্তীতে এনএইচআইডিসিএল যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ধসের মাটি ও পাথর সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করার পর গাড়ি চলাচল শুরু হলেও চরম ঝুঁকি এড়াতে পুলিশের তরফে আপাতত ওয়ানওয়ে ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের অনেকেই সংশয়ে রয়েছেন যে দার্জিলিংয়ের মতো সিকিম পাহাড়ে এখনও সেইভাবে প্রবল বর্ষণ শুরু না হতেই যদি জাতীয় সড়কের এই দশা হয় তবে আগামী দিনে পরিস্থিতি কতটা মারাত্মক রূপ নেবে।
ইতিমধ্যেই মাঝারি বৃষ্টির জেরেই সিকিমের বিভিন্ন প্রান্তের যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড় ধরনের ধস নামার কারণে রাস্তা মেরামতের জন্য আগামী ২১ জুন পর্যন্ত সিংতাম ও ডিকচু সড়ক পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সাথে টুংনাগা হয়ে মংগন ও চুংথাংয়ের রাস্তা বন্ধ থাকার পাশাপাশি লাচেন ও চুংথাংয়ের রাস্তাতেও যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ রয়েছে। শুক্রবারও বেশ কয়েক ঘণ্টা বন্ধ ছিল রা বাংলা ও ইয়াংগাংয়ের সংযোগকারী রাস্তা এবং বৃষ্টির কামড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাহাড়ের বেশ কয়েকটি রাজ্য সড়ক। এই একের পর এক রাস্তায় ধস নামার কারণে পাহাড়ি এলাকার বহু জায়গায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা থমকে গিয়েছে। তবে রাস্তা এইভাবে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পিছনে অনেকাংশেই স্থানীয় অসচেতন বাসিন্দারা দায়ী বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। নিকাশিনালাগুলিতে যত্রতত্র প্লাস্টিক জমে থাকায় জল নর্দমা দিয়ে না গিয়ে সরাসরি রাস্তার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে যার জেরে মাটির বাঁধন আলগা হয়ে ধস নেমেছে। শুক্রবার অবশ্য স্থানীয় প্রশাসনের তরফে তড়িঘড়ি নিকাশিনালাগুলি পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে এবং বাসিন্দাদের কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার ওপর কড়া নজর রেখে এদিন বৈঠকে বসেছিল বিভিন্ন জেলা প্রশাসন। প্রতিটি জেলায় বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের ছুটি বাতিল করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক যে বিশেষ দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তারা শনিবার থেকেই ধসপ্রবণ এলাকাগুলি খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করবে। পাহাড়ের নতুন করে কোনো এলাকা ধসপ্রবণ হয়ে উঠছে কিনা তাও চিহ্নিত করবে এই দলগুলি। মংগনের জেলা শাসক অনন্ত যোশি এই বিষয়ে জানিয়েছেন যে প্রশাসনের তরফে সর্বোচ্চ নজরদারি রাখার পাশাপাশি পরিস্থিতি অনুযায়ী সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে এবং সমস্ত এলাকার বাসিন্দাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।