
শান্তিনিকেতন আশ্রমের প্রথম বাড়ি 'গৃহ'র দরজা খুলে গেছেপর্যটকদের জন্য বড় সুখবর। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অন্যতম 'শান্তিনিকেতন গৃহ' এবার পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হল ৷ অর্থাৎ, শান্তিনিকেতন ভ্রমণে এবার প্রাচীন এই বাড়িটি দেখতে পাবেন পর্যটকেরা ৷ ভারতীয় পুরাতত্ত্ব বিভাগ শান্তিনিকেতন গৃহ সংস্কার করে আগেই বিশ্বভারতীর হাতে তুলে দিয়েছিল ৷ পর্যটকেরা রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালার পাশাপাশি এবার থেকে এই গৃহ দেখতে পারবেন ৷ এছাড়াও চলতি অগাস্ট মাসেই উদয়ন, উদিচি, শ্যামলী, কোণার্ক, পুনশ্চ তেও পর্যটকদের প্রবেশ চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস, ২২ শ্রাবণ পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয় ঐতিহ্যবাহী শান্তিনিকেতন গৃহ। বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ বলেন, 'শান্তিনিকেতন গৃহ পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হল। আজকের দিনেই পরিকল্পনা ছিল রবীন্দ্রভবনের ভিতরে থাকা কবির পাঁচটি বাড়ি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার। কিন্তু, বর্ষা ও কিছু টেকনিক্যাল কারণে কাজ সম্পন্ন করা যায়নি। আশা করছি, এক মাসের মধ্যে এই পাঁচটি বাড়ি সর্ব সাধারণের জন্য খুলে দেওয়া যাবে।'

জানা যায়, প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ‘শান্তিনিকেতন গৃহ’ নামানুসারেই এই বিস্তীর্ণ এলাকার নামকরণ হয়। রায়পুরের জমিদার প্রতাপ নারায়ণ সিংহের দলিল থেকে জানা যায়, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতন আশ্রম প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই এই গৃহ ছিল। তথ্য বলছে, উপাসনা গৃহ প্রতিষ্ঠার আগে এই শান্তিনিকেতন গৃহেই ব্রহ্ম উপাসনা হত। ১৮৯৫ সাল থেকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সপরিবারে এই গৃহে বসবাসও করতেন। এবার সেটাই খুলে দেওয়া হল পর্যটকদের জন্য। এর ফলে এখন থেকে আশ্রম এলাকা-সহ এই গৃহ ঘুরে দেখতে পারবেন পর্যটকেরা৷ তবে বেশ কিছু নিয়ম শৃঙ্খলা মেনেই পর্যটকদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হচ্ছে৷ উল্লেখ্য, দুই দশক আগে পর্যটকদের জন্য একবার খোলা হয়েছিল এই গৃহ৷ পরবর্তীতে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রবেশ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে৷ এবার থেকে রবীন্দ্রভবন সংগ্রহশালার দেখার টিকিট কাটলেই ঐতিহ্যবাহী শান্তিনিকেতন গৃহ ঘুরে দেখতে পারবেন পর্যটকেরা৷
কম্বো টিকিটের পরিকল্পনা
বিশ্বভারতীর উপাচার্য আরও জানিয়েছেন, শান্তিনিকেতন গৃহর পর এবার উদয়ন, উদিচি, কোণার্ক, শ্যামলী এবং পুনশ্চ গৃহও শীঘ্রই পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব জায়গা ঘুরে দেখার জন্য পর্যটকদের আলাদা করে কোনো গাইডের প্রয়োজন হবে না। ভ্রমণার্থীদের সুবিধার জন্য অডিয়ো গাইডেন্স ব্যবস্থা এবং লিখিত তথ্যের সুন্দর আয়োজন থাকছে। উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ বলছেন, এসব জায়গাগুলি ঘুরে দেখার জন্য পর্যটকদের আলাদা করে কোনও গাইডের দরকার পড়বে না। ভ্রমণার্থীদের সুবিধার্থে অডিও গাইডেন্স ব্যবস্থা এবং লিখিত তথ্যের আয়োজন থাকছে। বিশ্বভারতী সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, হেরিটেজ ওয়াক, মিউজিয়াম, কবিগুরুর বাড়িগুলি পরিদর্শন করার জন্য আপাতত আলাদা টিকিটের ব্যবস্থা থাকছে। তবে আগামীতে একটি কম্বো টিকিটের পরিকল্পনা থাকছে, যেখানে তুলনামূলক কম খরচে বিশ্বভারতীর সমস্ত দর্শনীয় জায়গা দেখার সুযোগ পাবেন পর্যটকরা। পর্যটকেরা বলছেন, কবির পাঁচটি বাড়ি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে তাঁরা খুব খুশি। এবার তাঁদের বহুদিনের আক্ষেপ ঘুচবে।
এ ছাড়াও বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের তরফে আরও জানানো হয়েছে, কোভিডের সময় থেকে হাসপাতাল ‘এন্ড্রুজ়’ বন্ধ ছিল। শীঘ্রই সেটিকেও খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়াও, বিশ্বভারতীর গোশালা খুলে দেওয়া হবে সাধারণের জন্য। সেখানেই রাখা হবে ভবঘুরে গরুগুলিকে। ওই গোশালায় গরুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থাও রয়েছে। গোশালা চালুর ফলে পাঠভবনের শিক্ষার্থীদের পুষ্টির ঘাটতি অনেকটাই মিটবে বলে আশাবাদী বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে শ্রীনিকেতন ডেয়ারি থেকে যে দুধ পাওয়া যায়, তা শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। নবনির্মিত গোশালার দুধ সরাসরি পাঠভবনের শিক্ষার্থীদের দেওয়া হবে, যা দুধের ঘাটতি পূরণে বিশেষ ভূমিকা নেবে।