কোন রুটে নিরাপদে সিকিম ঘুরতে পারবেন, কোথায় কোথায় সেফ জানুনSikkim Travel Advisory April 2026: পাহাড়ের খামখেয়ালি মেজাজে ফের বিপর্যস্ত সিকিম। মরসুমের শুরুতেই পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য উত্তর সিকিমের লাচেন যাওয়ার পথে নেমে এল ধস। প্রবল বর্ষণ আর আলগা মাটির জেরে চুংথাং ও লাচেন সংযোগকারী রাস্তার একটি বড় অংশ ধসে তলিয়ে গিয়েছে। যার ফলে রবিবার থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এই পর্যটন কেন্দ্রটি। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, ধসের জেরে লাচেন ও তারামচু সংলগ্ন এলাকায় অন্তত ৮০০-র বেশি পর্যটক আটকে পড়েছেন।
চুংথাং থেকে লাচেন যাওয়ার পথে তারামচু সেতুর কাছে রাস্তাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ের বড় বড় বোল্ডার রাস্তায় আছড়ে পড়ায় যান চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু হলেও রাস্তা স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলে মনে করছে বর্ডার রোডস অর্গানাইজেশন (BRO)। অন্যদিকে, লাচুং বা ইয়ুমথাং ভ্যালির রাস্তা এখনও খোলা থাকলেও লাচেনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চিন্তায় পড়েছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
বিকল্প রুটের হদিশ: পর্যটকদের হয়রানি কমাতে এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় সিকিম সরকার ইতিমধ্যেই নতুন রুট ম্যাপ জারি করেছে।
প্রশাসনের নির্দেশিকা অনুযায়ী:
মঙ্গন থেকে গ্যাংটক যাওয়ার জন্য মূল রাস্তার বদলে রাকদুং-তিনতেক সড়ক ব্যবহার করা যাচ্ছে।
চুংথাং পৌঁছনোর জন্য সাঙ্কালং এবং শিপগ্যের হয়ে হালকা যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
তবে নামচি ও গ্যালশিং জেলায় বেশ কিছু রাস্তায় সময়ের কড়াকড়ি থাকছে। সোরেং থেকে জোরেথাং যাওয়ার রাস্তাটি মেরামতির কাজের জন্য দিনের বেলা বন্ধ রাখা হচ্ছে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও হেল্পলাইন: পর্যটকদের সুবিধার্থে উত্তর সিকিম প্রশাসনের তরফে চব্বিশ ঘণ্টার একটি বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের তরফে আবেদন জানানো হয়েছে, আবহাওয়া ও রাস্তার খবর না নিয়ে আপাতত লাচেনের দিকে পা না বাড়াতে। আটকে পড়া পর্যটকদের খাবার ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করছে স্থানীয় প্রশাসন ও হোটেল অ্যাসোসিয়েশন। তবে পাহাড়ে আশঙ্কার মেঘ থাকলেও সমতলের সঙ্গে পাহাড়ের যোগসূত্র বজায় রেখেছে শিলিগুড়ির লাইফলাইন এনএইচ-১০ (NH-10)। বর্তমানে এই জাতীয় সড়কটি যান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।
গ্যাংটক যাওয়া এখনও নিরাপদ। পূর্ব সিকিমের ছাঙ্গু, বাবা মন্দির, নাথুলা এগুলো যেতে পারবেন। এদিকে কোনও সমস্যা নেই। উত্তর সিকিমের লাচুঙেও কোনও সমস্য়া নেই।