Darjeeling Toy Train Complete Guide: টয়ট্রেনের এই যাত্রা, যা ইউনেস্কো হেরিটেজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, নিঃসন্দেহে আপনাকে নিয়ে যাবে এক নস্ট্যালজিয়ায় পূর্ণ বিশ্বে, যেখানে প্রতিটি মুহূর্তে মনে হবে, প্রকৃতির সব সৌন্দর্য আপনার চোখের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠছে।
প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী চা-বাগানের রাজ্য দার্জিলিং পৌঁছাতে গেলে একটানা আট ঘণ্টার রোমাঞ্চকর টয় ট্রেন যাত্রা আসলে শুধু ভ্রমণ নয়,ইউনেস্কো হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃত এই রেলপথ আপনাকে নিয়ে যাবে মনোরম পাহাড়ি পথে একদিকে চায়ের বাগান, অন্যদিকে কুয়াশার মায়া, সব কিছু মিলিয়ে এক অপরূপ দৃশ্যের শোভা। আসুন, দেখে নেওয়া যাক, এই টয় ট্রেনের যাত্রাপথে কোথায় থামে এবং কী কী দেখা যাবে।
১. এনজেপি (New Jalpaiguri) স্টেশন: যাত্রা শুরু
এনজেপি স্টেশন থেকে শুরু হয় টয় ট্রেনের মনোমুগ্ধকর সফর। ট্রেনটি দার্জিলিং পৌঁছাতে সময় নেয় প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা। অবশ্য, এই দীর্ঘ যাত্রা মোটেও ক্লান্তিকর নয়। বরং, ট্রেনের ধীর গতিতে প্রকৃতির প্রতিটি সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ পাওয়া যায়। পাহাড়ি পরিবেশের মধ্যে দিয়ে চলতে চলতে মন যেন এক অন্য দুনিয়ায় চলে যায়।
২. শিলিগুড়ি জংশন (Siliguri Junction): প্রথম স্টপ
টয় ট্রেনের প্রথম স্টপ শিলিগুড়ি জংশন। এখানেই শহরের শেষ স্টেশন। আপনি যদি চান, এখান থেকে হালকা কিছু নাস্তা নিতে পারেন। চা এবং ভেজানো বিস্কুট, কিংবা প্রিয় মোমো—এখানে পেতে পারেন একদম সস্তায়। শিলিগুড়ি জংশনের কাছে কিছু দোকানও রয়েছে, যেখানে টয় ট্রেন যাত্রীদের জন্য ছোটখাটো প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি হয়। ট্রেনে ওঠার আগে একটু স্ন্যাকস কিনে নেওয়া যেতে পারে।
৩. সুকনা (Sukna): জঙ্গলের কোলে ছোট্ট স্টেশন
সুকনা স্টেশনে থামার সময় মনে হয় যেন আপনি কিছুক্ষণের জন্য প্রকৃতির গা জড়িয়ে নিতে পারছেন। ঘন জঙ্গল, শীতল বাতাস, আর পাখির ডাক—সত্যিই এক শান্তির অবস্থা। এখান থেকে গরম গরম চা আর মুড়ি-আলুর চপ একেবারে টিপটপ খেতে ভুলবেন না।
৪. রংটং (Rongtong): পাহাড়ের শুরু
রংটং স্টেশন আসার সাথে সাথে শুরু হয় পাহাড়ি পথ। জানালার বাইরে যখন চা-বাগান, পাহাড় আর ঝরনার দৃশ্যের সঙ্গে আপনি পরিচিত হন, তখন মনে হয় যেন প্রকৃতির কাছাকাছি চলে এসেছেন। বিশেষ করে দার্জিলিং হিমালয় রেঞ্জের ঝলক দেখতে পান এখান থেকেই।
৫. তিনধারিয়া (Tindharia): পুরনো স্টিম ইঞ্জিনের গন্ধ
এই স্টেশনটি এক সময় স্টিম ইঞ্জিনের জন্য বিখ্যাত ছিল। যদিও এখন সেই স্টিম ইঞ্জিনের বদলে ডিজেল ইঞ্জিন চলে, কিন্তু এখানকার রেলওয়ে গেটের কাছে ছোট একটি রেলওয়ে মিউজিয়াম রয়েছে। পাহাড়ি হস্তশিল্পের ছোট ছোট দোকানও এখান থেকে আপনি দেখতে পাবেন।
৬. গয়াবাড়ি (Gayabari): কুয়াশার রাজ্য
গয়াবাড়ির রেলপথের পাশে ছোট পাহাড়ি গ্রাম, সুন্দর ঘর-বাড়ি এবং মোহনীয় কুয়াশা—এখানে ট্রেন থামলে মনে হয় যেন আপনি একদম স্বপ্নের ভেতরে চলে এসেছেন। কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকা এই স্টেশন থেকে আপনি পিনাট চকোলেট বা পাহাড়ি লজেন্স কেনার জন্য ছোট দোকানে যেতে পারেন।
৭. মহানদী (Mahanadi): ভিউপয়েন্টে থামা
মহানদী স্টেশনের আশেপাশে কিছু দারুণ ভিউ পয়েন্ট রয়েছে। এই জায়গাটি পছন্দ করে এখানে ভ্রমণকারী পর্যটকরা। দিনের বেলায় চায়ের সাথে খাস্তা কচুরি খাবার খুবই জনপ্রিয়। সেরা দৃশ্য উপভোগ করতে অবশ্যই এখানে কিছু সময় থামা উচিত।
৮. কার্শিয়ং (Kurseong): চায়ের শহর
কার্শিয়ং স্টেশন দার্জিলিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টপ। এখানকার চায়ের বাগান এবং পাহাড়ি প্রাকৃতিক দৃশ্য আপনাকে মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখবে। আপনি যদি দুপুরের খাবারের জন্য কিছু খেতে চান, তাহলে এখানকার Kurseong Tourist Lodge বা Margaret's Deck-এ যাওয়ার কথা ভাবতে পারেন। ডিম-রোল, ভেজ ফ্রাইড রাইস, আর দার্জিলিং চায়ের সাথে হালকা মজাদার খাবার পাওয়া যাবে।
৯. টুং (Tung): সাদা মেঘের দেশ
টুং স্টেশন খুব ছোট হলেও, শীতকালে বিশেষভাবে এখানে জমে যায় তীব্র চা-চপের দোকান। কিন্তু এই জায়গার আসল আকর্ষণ হল, এখানকার সাদা মেঘের সুনির্দিষ্ট দৃশ্য। শীতকালে এখানে মেঘে ঘেরা চা-বাগান এবং মেঘের মধ্যে ট্রেন চলার দৃশ্য এক ভিন্ন ধরনের রোমাঞ্চ এনে দেয়।
১০. দার্জিলিং (Darjeeling): শেষ গন্তব্য
সব শেষে, ট্রেন যখন দার্জিলিং স্টেশনে পৌঁছায়, তখন চারপাশে থাকা কুয়াশা, পাহাড়ি হাওয়া, আর অমলিন প্রকৃতির সৌন্দর্য আপনার মনকে এক অন্য রকম শান্তি এনে দেয়। দার্জিলিংয়ের ম্যাল, চৌরাস্তা, বা টাইগার হিলের দিকে সহজেই চলে যেতে পারেন এখান থেকে। এটি এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা, যা আপনার জীবনজুড়ে চিরকাল স্মৃতিতে থেকে যাবে।