এবার ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের গন্তব্য হবে বাংলাপ্রতিটা ছেলেমেয়ের নিজের বিয়ে নিয়ে একটা স্বপ্ন থাকে ৷ নতুন পথচলায় জীবন সঙ্গীকে নিয়ে বিশেষ দিনটা আরও বিশেষ করে তোলার একটা অনবদ্য প্রয়াস থাকেই ৷ সেই তালিকায় এখন নতুন সংযোজন 'ডেস্টিনেশন ওয়েডিং' ৷ বেশ কয়েক বছর ধরে ট্রেন্ডে রয়েছে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং। সেলিব্রিটিরা উদয়পুর, গোয়া কিংবা সাত সমুদ্দুর পেরিয়ে ইটালিতে গিয়ে বিয়ে সারছেন। আর তার দেখাদেখি ‘ডেস্টিনেশন ওয়ে়ডিং’-এর শখ পৌঁছে গিয়েছে মধ্যবিত্তদের ঘরেও। মধ্যবিত্ত বাঙালিও এখন ঝুঁকছে ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের দিকে। তরুণ প্রজন্ম বিয়ের দিনটা স্মরণীয় ও স্পেশাল করে তুলতে চাইছে। রাজবাড়ি, জমিদারবাড়ি, দুর্গ বা সৈকতে মণ্ডপ বসাতে চাইছেন অনেকে।
কিন্তু বিদেশ বা অন্য রাজ্যে গিয়ে বিয়ে করার সামর্থ্য সকলের নেই। তা বলে কি আশ মেটাতে নেই? আর এমন বহু হবু দম্পতিদের স্বপ্ন পূরণ করতে এবার উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গকে ওয়েডিং ডেস্টিনেশন হিসেবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্যের পর্যটন দফতর। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে ওয়েডিং প্ল্যানারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।
পশ্চিমবঙ্গকে এবার বিয়ের মোক্ষম স্থান বা 'ওয়েডিং ডেস্টিনেশন' হিসেবে আন্তর্জাতিক মানের করে তোলার বড় উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। এই বিষয়ে একাধিক প্রথম সারির ওয়েডিং প্ল্যানারের সঙ্গে পর্যটন দফতরের ইতিবাচক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। বাংলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে কাজে লাগিয়ে দেশের পাশাপাশি বিদেশের মানুষের কাছেও পশ্চিমবঙ্গকে ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের গন্তব্য হিসেবে জনপ্রিয় করে তুলতে চাইছে রাজ্য সরকার। এই নিয়ে রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ bangla.aajtak.in-কে জানান, 'বাংলায় সমুদ্র থেকে পাহাড় সব রয়েছে। এছাড়া প্রচুর ঐতিহ্যমন্ডিত ভবন ও প্রাসাদ রয়েছে। ভবিষ্যতে দার্জিলিং, সুন্দরবন, পুরুলিয়া, দিঘার মতো জায়গাগুলিকে ওয়েডিং ডেস্টিনেশন-এর স্পট হিসেবে গড়ে তোলা হবে।'
প্রসঙ্গত রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই পর্যটনকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলার পর্যটন পরিকাঠামোয় আমূল বদল এবং তৃণমূল সরকারের আমলের দুর্নীতি সাফাইয়ের কড়া বার্তা দিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। সোমবার ২৩টি জেলার অতিরিক্ত জেলা শাসকদের (এডিএম) সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর সাংবাদিক মুখোমুখি হয়ে একাধিক বড় ঘোষণা করেন তিনি। পর্যটন মন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই দফতরে জেলা স্তরে কোনও সমন্বয় বা পর্যালোচনা বৈঠক হয়নি। ফলে পর্যটনের একাধিক উন্নয়নমূলক কাজ আটকে ছিল। পর্যটন দফতরের হাতে পর্যাপ্ত অর্থ থাকা সত্ত্বেও তা খরচ করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, বিগত সরকার বাজেটের ২০ শতাংশ টাকাও খরচ করতে পারেনি।
জেলাগুলিকে পর্যটন প্রসারে সক্রিয় ভূমিকা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের সুবিধার্থে রাজ্য, জেলা ও ব্লক- এই তিন স্তরে বিশেষ টিম বা সেল তৈরি করা হবে। পর্যটকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে মন্ত্রী ঘোষণা করেন-
গ্লোবাল ডেস্টিনেশন হবে রাজ্য
ওয়ান স্টেট ওয়ান গ্লোবাল ডেস্টিনেশন— পর্যটন নিয়ে রাজ্যের ভাবনাচিন্তা প্রসঙ্গে এমনটাই দাবি করলেন পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তিনি জানান, রাজ্যের পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ–সুবিধার বন্দোবস্ত করা হবে। যা আগামী দিনে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে পছন্দের ‘হলিডে ডেস্টিনেশন’ করে তুলবে পশ্চিমবঙ্গকে। প্রাথমিক ভাবে দার্জিলিং এবং সুন্দরবনের পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়া হবে। এ ছাড়াও দিঘা এবং মন্দারমণির মতো জনপ্রিয় হলিডে ডেস্টিনেশনের পরিকাঠামোর উন্নতিতেও ‘ফোকাস’ থাকবে সরকারের। মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, যেখানে হেরিটেজ ট্যুরিজ়মের সুযোগ রয়েছে, সেখানে ঢেলে সাজান হবে।