ঢাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীঢাকায় ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর এক অন্যরকম মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের আবহ দেখা গেল। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’ (Bay of Bengal Conversation 2026) সম্মেলনটি ৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে শুরু হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ৩ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
তরুণের অতি উত্সাহ ও দীনেশের ছক্কা
প্যানেল আলোচনা চলাকালীন বিইউপির (BUP) এক শিক্ষার্থী দর্শক আসন থেকে মাইক হাতে নিলেন। তরুণসুলভ অতি-উৎসাহ এবং ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে কিছুটা অপ্রস্তুত বা বিব্রত করার প্রচ্ছন্ন উদ্দেশ্য নিয়েই তিনি শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁর প্রত্যর্পণ নিয়ে সরাসরি একটি খোঁচিয়ে তোলা প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন। হলরুমের অনেকেই তখন ভাবছিলেন, এই স্পর্শকাতর ভূ-রাজনৈতিক প্রশ্নে হয় তো দিল্লির প্রতিনিধি কিছুটা হলেও থমকে যাবেন।
কিন্তু সেই তরুণ শিক্ষার্থী হয় তো জানতেন না, আন্তর্জাতিক কূটনীতির পরিপক্ব পিচে কীভাবে বল খেলতে হয় তা ভারতীয় দূতের নখদর্পণে। দীনেশ ত্রিবেদী প্রশ্নটি শুনে মোটেও বিচলিত বা উষ্মা প্রকাশ করলেন না, বরং অত্যন্ত সাবলীল ও স্মিত হাস্যে পুরো বিষয়টি এক তুড়িতে উড়িয়ে দিলেন।
রাষ্ট্র পরিচালনায় আবেগ নয়
কোনও রকম আত্মপক্ষ সমর্থন বা তর্কে না গিয়ে, তিনি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে চালটি উল্টে দিলেন। অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দিলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় আবেগ নয়, বরং প্রতিষ্ঠিত আইনি কাঠামো ও দ্বিপাক্ষিক নিয়ম নীতিই শেষ কথা। তরুণ শিক্ষার্থীর ছুড়ে দেওয়া সেই ‘বিব্রতকর’ গুগলিকে একজন অভিজ্ঞ ব্যাটারের মতো ডিফেন্স করে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিলেন, দিল্লির কূটনৈতিক ভিত্তি এতই সুদৃঢ়, সস্তা আবেগ বা আকস্মিক কোনও প্রশ্ন দিয়ে তাকে এতটুকুও ডগমগ করা সম্ভব নয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই তরুণ প্রশ্নকর্তার উদ্দেশ্য আক্ষরিক অর্থেই ম্লান হয়ে যায় এবং পুরো হলের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে ভারতীয় দূতের বাকচাতুর্যের অধীনে।
শেখ হাসিনা যখন ভারতে পৌঁছন, তখন তিনি ছিলেন বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী
২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের নাটকীয় পটপরিবর্তনের কথা স্মরণ করে দীনেশ ত্রিবেদী অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, শেখ হাসিনা যখন ভারতে পৌঁছন, তখন তিনি ছিলেন বাংলাদেশের বৈধ প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবেশী এবং দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে ভারতের কাছে তৎকালীন বাস্তবতায় তাঁর বিমানটিকে দিল্লিতে অবতরণ করতে দেওয়া বা তাঁকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প ছিল না। ভারতীয় দূতের এই অকপট স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে, রাজনীতির জোয়ার-ভাটা যাই হোক না কেন, ভারত তার পুরোনো ও বিশ্বস্ত বন্ধুদের সম্মান এবং নিরাপত্তা দিতে কখনো কুণ্ঠাবোধ করে না। এটি কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং ভারত-বাংলাদেশের রক্তে লেখা ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের প্রতি দিল্লির এক গভীর নৈতিক দায়িত্ববোধ।
Disclaimer: এই প্রতিবেদন প্রতিবেদকের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মত। bangla.aajtak.in এর দায় নিচ্ছে না।