Ghuspaithiya VS Bahiragato: একুশে ছিল 'বহিরাগত', ছাব্বিশে 'ঘুসপেটিয়া', কিওয়ার্ডের রাজনীতি অথবা ন্যারেটিভ

২০২১ সাল ও ২০২৬ সাল। এর মাঝে গিয়েছে ২০২৪-এর লোকসভা ভোট। ন্যারেটিভে কি কিছু বদল ঘটেছে? না। ছাব্বিশের ভোটের ন্যারেটিভে আসলে যে বদল ঘটেছে, তা হল 'ঘুসপেটিয়া'। ঠিক এই শব্দবন্ধটি নিয়েই আমাদের একটু বিশ্লেষণ করা যাক।

Advertisement
একুশে ছিল 'বহিরাগত', ছাব্বিশে 'ঘুসপেটিয়া', কিওয়ার্ডের রাজনীতি অথবা ন্যারেটিভপশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬
হাইলাইটস
  • ডিজিটাল নিউজের ভাষায় বলা যায়, পপুলার কিওয়ার্ড
  • ঘুসপেটিয়া বনাম বহিরাগত
  • চুম্বকে আপাতত এটাই বঙ্গ রাজনীতি

'বাইনারি'। তুমি এবং আমি। বাকিদের হাতে পেনসিল! চুম্বকে আপাতত এটাই বঙ্গ রাজনীতি। সম্প্রতি মালদায় বিচার বিভাগীয় অফিসারদের ঘেরাও করার ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, 'Most Polarised State' অর্থাত্‍ সবথেকে বেশি মেরুকরণ। না, এখানে সমালোচনা বা নিন্দার পরিসর নেই। এটাকেও আমরা ভোটের একটি চলরাশি হিসেবে দেখতে পারি। দেখুন, প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই নিজস্ব অ্যাজেন্ডা থাকে। খারাপ বা ভাল দাগিয়ে দেওয়া যায় না। 

২০২১ সাল ও ২০২৬ সাল। এর মাঝে গিয়েছে ২০২৪-এর লোকসভা ভোট। ন্যারেটিভে কি কিছু বদল ঘটেছে? না। ছাব্বিশের ভোটের ন্যারেটিভে আসলে যে বদল ঘটেছে, তা হল 'ঘুসপেটিয়া'। ঠিক এই শব্দবন্ধটি নিয়েই আমাদের একটু বিশ্লেষণ করা যাক। সাচ্চা, টহল, ধুতি, পাগড়ি, ঠান্ডা, ঝাড়ু, ধোলাই, ঝান্ডা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, ডেরা, কেল্লা, গড়বড়, তাগড়া, খাট্টা, খোট্টা, গুমটি, এরকম অসংখ্য শব্দবন্ধ রয়েছে, যা উর্দু, ফারসি থেকে এসেছে। বাংলার ভাষার অঙ্গ হয়ে গিয়েছে।

ডিজিটাল নিউজের ভাষায় বলা যায়, পপুলার কিওয়ার্ড

২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাফল্যের সঙ্গে একটি শব্দবন্ধকে ট্রেন্ডিং করে দিয়েছিলেন। ডিজিটাল নিউজের ভাষায় বলা যায়, পপুলার কিওয়ার্ড। তা হল, বহিরাগত। মমতা প্রায় প্রতিটি সভাতেই BJP-কে 'বহিরাগত' তকমা দিচ্ছিলেন। ভিনরাজ্য থেকে আসা বিজেপি নেতাদের বহিরাগত দাগিয়ে দিয়ে বাঙালি অস্মিতায় শান দিয়েছিলেন। সাফল্যও এসেছিল। 

কাট টু ২০২৬

বাংলায় নয়া শব্দবন্ধকে ট্রেন্ডিং করাচ্ছে বিজেপি। পপুলার কিওয়ার্ডে উঠে আসছে সেই শব্দবন্ধ। নাম, 'ঘুসপেটিয়া'। বাঙালি এতদিন বিদেশ থেকে অবৈধ ভাবে কেউ দেশে ঢুকলে, তাকে অনুপ্রবেশকারী বলত। কিন্তু সম্প্রতি বিজেপি-র ক্রমাগত প্রচারে, বাঙালির মুখেও শোনা যাচ্ছে ঘুসপেটিয়া শব্দটি। কিন্তু  ভাষাবিদ পবিত্র সরকার বলছেন, 'হিন্দি বা উর্দুর তো বিশেষ ফারাক নেই। উর্দুতে বেশি ফারসি শব্দ থাকে। ঘুস মানে এ ক্ষেত্রে ঢুকে যাওয়া। তারপর নিজের মতো প্রভাব বিস্তার করে স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে যাওয়া। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ সহ বিজেপি নেতৃত্ব অসম ও পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বোঝাতে এই শব্দটি ব্যবহার করে আসছেন।' বিজেপি-র মূল দাবি হল, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ ভাবে ঢুকিয়ে মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক বাড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা দাবি, সীমান্ত সামলায় বিএসএফ। যদিও অবৈধ অনুপ্রবেশ হয়, তাহলে বিএসএফ কী করছে? আর বিএসএফ তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে। সেই মন্ত্রকের দায়িত্বে অমিত শাহ। 

Advertisement

ঘুসপেটিয়া বনাম বহিরাগত

কিন্তু ২০২১ সালের সেই বহিরাগত শব্দবন্ধের সঙ্গে কিন্তু খুব ফারাক নেই। বিজেপি এই ‘ঘুসপেটিয়া’ শব্দটিকে সামনে এনে মূলত নিরাপত্তা, সীমান্ত এবং নাগরিকত্বের প্রশ্নকে জোরদার করতে চাইছে। অন্যদিকে, ‘বহিরাগত’ শব্দটি ছিল আঞ্চলিক পরিচয় ও সাংস্কৃতিক আবেগকে কেন্দ্র করে তৈরি এক রাজনৈতিক বার্তা। ফলে দুই ক্ষেত্রেই লক্ষ্য ভিন্ন হলেও, ভোটের ময়দানে এর ব্যবহার একই রকম কৌশলী।

এখানেই প্রশ্ন উঠছে, শব্দ বদলালেই কি ভোটের সমীকরণ বদলায়? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের কিওয়ার্ড আসলে ভোটারদের মানসিকতায় প্রভাব ফেলতে ব্যবহার করা হয়। ‘আমরা’ বনাম ‘ওরা’ বিভাজন যত স্পষ্ট হয়, মেরুকরণ তত বাড়ে। আর সেই মেরুকরণই শেষ পর্যন্ত ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

২০২৬-এর ভোটে লড়াই শুধু আসন দখলের নয়, ন্যারেটিভ দখলেরও। ‘বহিরাগত’ বনাম ‘ঘুসপেটিয়া’, এই শব্দযুদ্ধই ঠিক করে দিতে পারে ভোটের আবহ, এবং কোন বার্তা কতটা গভীরে পৌঁছতে পারছে মানুষের মধ্যে। 
 

POST A COMMENT
Advertisement