ভূষণ মোদক। ছবি- ফেসবুক থেকে সংগৃহীতমাত্র ১ ভোটে হারতে হল তৃণমূলের কাছে। আলিপুরদুয়ারে হেরে গেলেন বিজেপি জেলা সভাপতি ভূষণ মোদক। ওই আসনে জয় পেয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে আলিপুরদুয়ারে জিততে পারেনি রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। সব ক’টি আসনেই জিতেছিল বিজেপি। কিন্তু তারপর থেকেই ক্রমশ ভাঙন দেখা দিয়েছে সেখানকার বিজেপি সংগঠনে।
প্রথমে বিজেপি সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা সদলবলে যোগ দেন তৃণমূলে। তারপর ভূষণকে আলিপুরদুয়ারের জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেয় বিজেপি। ঘটনাচক্রে, গঙ্গাপ্রসাদের পথ ধরেই দলবদল করে ঘাসফুল পতাকা হাতে তুলে নেন আলিপুরদুয়ারের বিজেপি বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলালও। সেই আলিপুরদুয়ারে বিজেপির জেলা সভাপতি ভূষণ দাঁড়িয়েছিলেন ফালাকাটার ময়রাডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রার্থী হিসাবে। মঙ্গলবার ফলপ্রকাশ হলে দেখা গেল, মাত্র ১ ভোটে ভূষণকে হারিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী বিমল মোদক।
সূত্রের খবর, পঞ্চায়েত সমিতিতে দাঁড়ানোর ইচ্ছেপ্রকাশ করেছিলেন ভূষণ। কিন্তু আসন সংরক্ষণের কারণে সমিতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি তিনি। অগত্যা গ্রাম পঞ্চায়েতের আসনে লড়াই করতে নামেন তিনি। কিন্তু সেই লড়াইয়ে ব্যর্থ হয়েই ফিরতে হচ্ছে আলিপুরদুয়ারে বিজেপির জেলা সভাপতি ভূষণকে। হারের পর তিনি 'আজতক বাংলা' কে বলেন, ‘‘নিজের জায়গায় একদমই সময় দিতে পারিনি। আমার কাছে আরও একটু সময় চেয়েছিলেন কর্মীরা। তবে আমার কোনও আক্ষেপ নেই। এটা জনতার রায়। মেনে নিচ্ছি। এর আগেও ২০১৩ সালে মাত্র ৩ ভোটে হেরেছিলাম।’’
এবছর পঞ্চায়েত ভোটে উত্তরবঙ্গে হারানো জমি পুনরুদ্ধারে তৎপর হয়ে ওঠে তৃণমূল। ভোটের প্রচারে আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটায় সভা করেছিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দোপাধ্যায়। উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেছিলেন তিনি।
আলিপুরদুয়ারের ময়রাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৩/১১৬ নম্বর আসনে প্রার্থী ছিলেন ভূষন মোদক ৷ কিন্তু জিততে পারলেন না। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর হেরে গেলেন ১ ভোটে। যতই তিনি আক্ষেপ নেই বলে জানান না কেন, তাঁর ঘনিষ্ট সূত্রে খবর, এই হারে বেশ মনমরা তিনি।