রাখি পূর্ণিমায় চন্দ্রগ্রহণ২৮ অগাস্ট, শুক্রবার পালিত হবে রাখি বন্ধন বা রাখি পূর্ণিমা। এ বছর পূর্ণিমার দিনেই রয়েছে একটি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। জ্যোতিষশাস্ত্রের হিসাবে এই গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গ্রহণের সময় চন্দ্র থাকবে কুম্ভ রাশিতে এবং শতভিষা নক্ষত্রে। সূর্য থাকবে তার বিপরীত রাশি সিংহে।
তবে একটি বিষয় শুরুতেই পরিষ্কার করা জরুরি, এই চন্দ্রগ্রহণ ভারত থেকে দেখা যাবে না। ভারতীয় সময় অনুযায়ী গ্রহণের পর্যায় সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে হলেও সেই সময় চাঁদ ভারতের দিগন্তের নীচে থাকবে। ফলে প্রচলিত দৃশ্যমানতা-ভিত্তিক নিয়ম অনুযায়ী ভারতে সূতকও প্রযোজ্য নয়।
কোন কোন রাশির উপর প্রভাব পড়বে?
কর্কট রাশি: চন্দ্রগ্রহণের প্রভাবে কর্কট রাশির জাতকদের মানসিক চাপ ও অস্থিরতা বাড়তে পারে বলে জ্যোতিষীয় ব্যাখ্যায় মনে করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভাল। বিনিয়োগ বা বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পারিবারিক সম্পর্কেও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে।
সিংহ রাশি: এই গ্রহণের সময় সূর্য থাকবে সিংহ রাশিতে এবং চন্দ্র থাকবে তার বিপরীতে কুম্ভে। ফলে সিংহ রাশির জাতকদের ক্ষেত্রে সম্পর্ক, অর্থ এবং কর্মক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অতিরিক্ত খরচ, পরিবারের সঙ্গে মতবিরোধ কিংবা কাজের চাপ মানসিক অস্বস্তির কারণ হতে পারে বলে জ্যোতিষীয় মত।
বৃশ্চিক রাশি: বৃশ্চিক রাশির ক্ষেত্রে বাড়ি, পরিবার এবং মানসিক শান্তির বিষয়টি বেশি সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে বলে একটি বৈদিক জ্যোতিষ বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘরোয়া কোনও পুরনো সমস্যা ফের সামনে আসতে পারে। তাই আবেগের বশে বড় সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো।
মীন রাশি: মীন রাশির জাতকদের জন্য এই সময় আর্থিক পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হঠাৎ কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পরিস্থিতি ভালোভাবে যাচাই করা দরকার। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত আবেগ বা ভুল বোঝাবুঝি এড়িয়ে চলার পরামর্শ রয়েছে।
কুম্ভ রাশি: এই গ্রহণের সবচেয়ে সরাসরি জ্যোতিষীয় প্রভাব কুম্ভরাশির উপর পড়ছে বলে ধরা হয়, কারণ গ্রহণের সময় চন্দ্র কুম্ভ রাশিতেই অবস্থান করবে। ফলে আত্মবিশ্বাস, মানসিক অবস্থা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে জ্যোতিষীয় ব্যাখ্যা। হঠাৎ করে কোনও বড় সিদ্ধান্ত না নেওয়াই শ্রেয়।
এগুলি জ্যোতিষশাস্ত্রের বিশ্বাস ও ব্যাখ্যা, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ভবিষ্যৎবাণী নয়। জন্মছক, জন্মচন্দ্র, লগ্ন, দশা এবং গ্রহণের নির্দিষ্ট অবস্থান বিবেচনা করা প্রয়োজন।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, ২৮ অগাস্টের চন্দ্রগ্রহণ ভারতে দৃশ্যমান নয় এবং ভারতে সূতক প্রযোজ্য নয়, তাই রাখি বাঁধার ক্ষেত্রে গ্রহণের কারণে কোনও নিষেধাজ্ঞা তৈরি হচ্ছে না।