চন্দ্রগ্রহণে ৫ রাশির বিপদ ছাব্বিশ সালের দ্বিতীয় এবং বছরের শেষ চন্দ্রগ্রহণ হতে চলেছে আগামী ২৮ অগাস্ট। জ্যোতির্বিজ্ঞানের হিসাবে এটি একটি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। গ্রহণটি অত্যন্ত গভীর হবে, চাঁদের প্রায় ৯৬.২ শতাংশ পৃথিবীর গাঢ় ছায়ায় ঢুকে পড়বে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই চন্দ্রগ্রহণ ভারত থেকে দেখা যাবে না। ভারতের সময় অনুযায়ী গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায় হবে সকাল প্রায় ৯টা ৪২ মিনিটে, যখন ভারতের বেশিরভাগ জায়গা থেকে চাঁদ দেখার কোনও সম্ভাবনাই নেই। তাই ভারতে এই গ্রহণের দৃশ্যমানতা নেই।
জ্যোতিষের হিসাবে কোথায় পড়ছে গ্রহণ?
বৈদিক জ্যোতিষের কয়েকটি গণনা অনুযায়ী, ২৮ অগাস্টের চন্দ্রগ্রহণ কুম্ভ রাশিতে এবং শতভিষা নক্ষত্রে ঘটবে।
তবে রাশি অনুযায়ী, গ্রহণের প্রভাব নিয়ে জ্যোতিষীদের মধ্যে নানাবিধ মত রয়েছে। কতগুলি রাশির ‘নিশ্চিত বিপদ’ থাকতে পারে বছরের এই শেষ চন্দ্রগ্রহণের সময়ে।
কোন ৫ রাশির সাবধান হওয়া উচিত?
> কুম্ভ রাশি: গ্রহণ কুম্ভ রাশিতে পড়ায় এই রাশির জাতকদের উপর প্রভাব তুলনামূলক বেশি পড়তে পারে বলে জ্যোতিষমতে মনে করা হয়। কাজের ক্ষেত্রে হঠাৎ পরিবর্তন, মানসিক অস্থিরতা বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্বিধা তৈরি হতে পারে। তাই তাড়াহুড়ো করে কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো।
> সিংহ রাশি: কুম্ভের বিপরীত রাশি সিংহ। ফলে সম্পর্ক, অংশীদারি বা ব্যক্তিগত জীবনে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয়। বিশেষ করে রাগের মাথায় কথা বলা বা আবেগের বশে সিদ্ধান্ত নেওয়া এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
> বৃষ রাশি: আর্থিক বিষয় এবং কর্মক্ষেত্রে পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জ্যোতিষীয় ব্যাখ্যায় মনে করা হয়। নতুন বিনিয়োগ বা বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
> বৃশ্চিক রাশি: কর্মজীবন ও পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে চাপ বাড়তে পারে। কোনও বিষয় নিয়ে অযথা সন্দেহ বা উত্তেজনা তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সামলানোই ভালো।
> মকর রাশি: অর্থনৈতিক পরিকল্পনা, পারিবারিক বিষয় কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে বলে জ্যোতিষমতে মনে করা হয়। এই সময় বড়সড় খরচ বা ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ভালো।
২৮ অগাস্টের চন্দ্রগ্রহণ ভারত থেকে দৃশ্যমান নয়। ফলে গ্রহণ দেখা বা না-দেখার বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। আর রাশির উপর ‘বিপদ’ আসবে, এটি জ্যোতিষশাস্ত্রের বিশ্বাসভিত্তিক ব্যাখ্যা, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। ব্যক্তিগত জন্মছক অনুযায়ী ফলাফল আলাদা হতে পারে। তাই এই রাশিফলকে সাধারণ জ্যোতিষীয় সতর্কতা হিসেবেই দেখা উচিত।