গজকেশরী যোগ চলছে বসন্ত পঞ্চমী উদযাপন। হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, এই উৎসব মাঘ মাসের শুক্লাপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে পালিত হয়। এই দিনে দেবী সরস্বতীর পূর্ণ আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুজো করা হয় এবং এই দিনটিকে শুভ কার্য সম্পন্ন করার জন্য অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের মতে, বসন্ত পঞ্চমীতে অনেক বিরল ঘটনা ঘটতে চলেছে। যার মধ্যে একটি হল গজকেশরী যোগ।
জ্যোতিষশাস্ত্রে গজকেশরী যোগকে অত্যন্ত শুভ, ফলপ্রসূ এবং বিশেষ উপকারী মনে করা হয়। এই শুভ দিনে বৃহস্পতি এবং চন্দ্রের সংযোগ শক্তিশালী গজকেশরী রাজযোগ তৈরি করবে। এটি অনেক রাশির জীবনে সুখ এবং দেবী সরস্বতীর আশীর্বাদ বয়ে আনবে।
বসন্ত পঞ্চমীতেই তৈরি হচ্ছে এই বিশেষ যোগ। ২৩ জানুয়ারি, অর্থাৎ শুক্রবার সকাল ৮টা ৩৩ মিনিটে চন্দ্র মীন রাশিতে গমন করেছে। যখন দেবগুরু বৃহস্পতি মিথুন রাশিতে ছিলেন। পঞ্জিকা অনুসারে বৃহস্পতি যখন চাঁদের কেন্দ্রে (১ম, ৪র্থ, ৭ম এবং ১০ম ঘরে) অবস্থান করে তখন গজকেশরী যোগ তৈরি হয়। চন্দ্র মিথুন রাশির চতুর্থ ঘরে অবস্থান করছে। বৃহস্পতি চন্দ্রের চতুর্থ ঘরে অবহস্থান করছে। তাই তাদের সংযোগ শক্তিশালী গজকেশরী যোগ তৈরি করবে।
কোন কোন রাশির জাতকরা উপকৃত হবেন?
বৃষ রাশি: বৃষ রাশির জাতকদের জন্য বসন্ত পঞ্চমী সুখবর বয়ে আনছে। ভাগ্য পাশে থাকলে আর্থিক অবস্থারও উন্নতি হবে। কেরিয়ারে উন্নতির সুযোগ তৈরি হবে। স্থগিত কাজগুলি দ্রুতগতিতে এগিয়ে যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য এই সময়টি তাদের কঠোর পরিশ্রমের ইচিবাচক ফলাফলের ইঙ্গিত দেবে। নতুন যোগাযোগ তৈরি হবে যা ভবিষ্যতে কার্যকর প্রমাণিত হবে। পারিবারিক পরিবেশ মনোরম থাকবে এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ থাকবে। আধ্যাত্মিক আগ্রহ বৃদ্ধি পেতে পারে। কোনও ধর্মীয় স্থানে ভ্রমণ সম্ভব হতে পারে। পুরনো সমস্যাগুলি ধীরে ধীরে দূর হতে শুরু করবে।
মিথুন রাশি: এই সময়টি মিথুন রাশির জন্য অনুকূল। রাশিচক্রের লয় বৃহস্পতি এবং সুখের ঘরে চন্দ্র থাকায় আত্মবিশ্বাস এবং চিন্তাভাবনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। কর্মক্ষেত্রে সিনিয়রদের থেকে সহায়তা পাবেন। যার ফলে সুনিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। চাকুরিজীবীরা নতুন দায়িত্ব পেতে পারেন। ব্যবসায়ীরা সম্প্রসারণের সুযোগ পাবেন। শিক্ষা, প্রশাসন বা সামাজিক ক্ষেত্রে জড়িতদের জন্য এই সময়টি অগ্রগতির সময় হতে পারে। কথার প্রভাব পড়বে এই রাশির জাতকদের। লোকেরা তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব সহকারে নেবে।
কুম্ভ রাশি: এই সমন্বয় কুম্ভ রাশির জন্য সুবিধা এবং স্থিতিশীলতা বয়ে আনতে পারে। এই সময়ে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে এবং আর্থিক পরিকল্পনা আরও ভাল ভাবে করতে সক্ষম হবেন। আয়ের নতুন উৎস আবির্ভূত হতে পারে, বিশেষ করে যারা ডিজিটাল বা অনলাইন কাজের সঙ্গে জড়িত তাঁদের জন্য। চাকরি এবং ব্যবসা স্থিতিশীল হবে এবং ভবিষ্যতে আত্মবিশ্বাস দৃঢ় হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য এই সময়টি পড়াশোনার প্রতি তাঁদের মনোযোগ বৃদ্ধি করবে। যাঁরা উচ্চশিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁরা ভাল সুযোগ পেতে পারেন। সামগ্রিক ভাবে এই সময়টি ধীর কিন্তু শক্তিশালী অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।