কেতু গোচরে বিপাকে ৩ রাশিজ্যোতিষশাস্ত্রে কেতুকে বলা হয় ‘ছায়া গ্রহ’ এবং মোক্ষের কারক। এই গ্রহ যখনই তার চাল বা নক্ষত্রবদল করে, তখনই মানুষের মানসিক অবস্থা, কর্মজীবন এবং আর্থিক পরিস্থিতির ওপর তার গভীর ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ে। এবার আগামী ২৯ মে মহাজাগতিক আকাশে ঘটতে চলেছে ঠিক তেমনই এক বড়সড় ওলটপালট। ওইদিন কেতু মঘা নক্ষত্রের তৃতীয় দশায় প্রবেশ করবে, যেখানে সে থাকবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।
এই বিশেষ দশার অধিপতি হলেন স্বয়ং বুধদেব। ফলে কেতুর এই ৩২ দিনের অবস্থান মানুষের বুদ্ধি, যুক্তি এবং ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তকে সরাসরি ও ওতপ্রোতভাবে প্রভাবিত করবে। তবে জ্যোতিষীদের গণনা অনুযায়ী, এই সময়কাল সব রাশির জন্য মোটেই সুখকর হবে না। বিশেষ করে ৩টি রাশির জাতক-জাতিকাদের আগামী ৩২ দিন চরম সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
মিথুন রাশি
কেতুর এই গোচর মিথুন রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে তীব্র মানসিক দ্বন্দ্ব ও দোলাচল ডেকে আনতে পারে। যেহেতু মঘা নক্ষত্রের এই দশার অধিপতি বুধ আপনার নিজের রাশিরও অধিপতি, তাই আপনার সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এই সময় মারাত্মকভাবে ধাক্কা খাবে। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মী বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে তীব্র মতাদর্শগত পার্থক্য বা বিবাদ দেখা দিতে পারে। তাই কোনো নতুন ব্যবসায়িক বিনিয়োগ বা বড় কোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আগে সমস্ত আইনি নথি অত্যন্ত সাবধানে খুঁটিয়ে পড়ুন। এই সময়ে ভুলেও "শর্টকাট" বা লটারির মাধ্যমে রাতারাতি অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করবেন না, বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন।
কন্যা রাশি
কন্যা রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য এটি মূলত আত্মদর্শনের সময়। কেতুর কুপ্রভাব আপনাকে মারাত্মক বিভ্রান্ত করতে পারে, যার ফলে আপনি নিজের আসল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়তে পারেন। অফিসে বা কাজের জায়গায় আপনি রক্ত জল করা খাটনি খাটলেও অন্য কেউ আপনার সেই কাজের কৃতিত্ব চুরি করার চেষ্টা করতে পারে। কঠোর পরিশ্রমের ফল হাতে পেতে অনাবশ্যক দেরি হবে, যা আপনার মানসিক হতাশা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এই সময় স্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিষয়ে বিন্দুমাত্র অবহেলা করবেন না, নইলে বড়সড় চিকিৎসার খরচ টানতে হতে পারে। এছাড়া আর্থিকভাবে কোনো অপরিচিত ব্যক্তিকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করবেন না এবং আড়ালে থাকা গোপন শত্রুদের থেকে সদা সতর্ক থাকুন।
মীন রাশি
মীন রাশির জাতকদের জন্য এই গোচর প্রধানত বাক-ত্রুটি এবং পারিবারিক অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কেতু আপনার জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও আরামের পথে সাময়িক বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। আর্থিক অবস্থার পারদ ঘন ঘন ওঠানামা করবে। আচমকা কিছু অপ্রয়োজনীয় খরচ আপনার মাসিক বাজেটকে পুরোপুরি তছনছ করে দিতে পারে। এই ৩২ দিনের মধ্যে কোনো ব্যবসায়িক ভ্রমণ বা ট্যুর করলে তা খুব একটা সফল হবে না। দাম্পত্য বা প্রেমের সম্পর্কেও চরম ভুল বোঝাবুঝি দেখা দিতে পারে। তাই নিজের মতামত সঙ্গীর কাছে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করুন এবং কথাবার্তায় কোনোভাবেই কঠোর বা কটু শব্দ পরিহার করুন।
মুক্তির অব্যর্থ প্রতিকার
এই অশুভ প্রভাব কেটে গিয়ে যাতে শুভ ফল নিশ্চিত হয়, তার জন্য জ্যোতিষীরা ৩টি সহজ প্রতিকারের কথা বলেছেন।
১) ভগবান গণেশের পূজা: বুধ ও কেতুর অশুভ দৃষ্টি প্রশমিত করার জন্য নিয়মিত "ওম গণ গণপতয়ে নমঃ" মন্ত্রটি জপ করুন।
২) পাখিদের সেবা: প্রতিদিন নিয়ম করে পাখিদের সাত প্রকার শস্য বা সপ্তধান্য খেতে দিন।
৩) পিতৃ তর্পণ: যেহেতু এটি মঘা নক্ষত্র, তাই এই সময়ে পূর্বপুরুষ বা পিতৃপুরুষদের নামে কোনো গরিব মানুষকে দান-ধ্যান করলে বিশেষভাবে ফলপ্রসূ হওয়া যায়।