শুরু হচ্ছে এই ৪ রাশির খারাপ সময়Khramas Rashifal: আজ ১৫ মার্চ, রবিবার থেকেই শুরু হচ্ছে এই অশুভ সময়, যা চলবে আগামী ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। এই এক মাস সনাতন ধর্মে শুভ কাজের ওপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে। বিয়ে থেকে শুরু করে গৃহপ্রবেশ কিংবা নতুন কোনো ব্যবসার শুভ মহরত, সবকিছুই এই সময়ে স্থগিত রাখার পরামর্শ দেন গণকরা। বিশ্বাস করা হয়, খরমাস চলাকালীন মহাজাগতিক শক্তির প্রভাবে শুভ ফল লাভ করা প্রায় অসম্ভব।
সূর্যের মীন রাশিতে অন্তধান
এই অশুভ সময়ের নেপথ্যে রয়েছে মহাজাগতিক এক পরিবর্তন। শনিবার ও রবিবারের সন্ধিক্ষণে রাত ১টা ০৮ মিনিটে সূর্য তার তেজস্বী রূপ ত্যাগ করে প্রবেশ করেছে মীন রাশিতে। জ্যোতিষশাস্ত্রে সূর্যের এই মীন রাশিতে অবস্থানকেই ‘খরমাস’ বলা হয়। ২০২৬ সালের ১৪ এপ্রিল সকাল ৯টা ৩৮ মিনিট পর্যন্ত সূর্য এই রাশিতেই অবস্থান করবে। এই দীর্ঘ সময়ে সূর্যের তেজ ও প্রভাব অনেকাংশে ম্লান হয়ে যায়, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ১২টি রাশির জাতক-জাতিকাদের ওপর। তবে মূলত ৪টি রাশির জন্য জারি হয়েছে ‘রেড অ্যালার্ট’।
মিথুন
খরমাসের গেরোয় মিথুন রাশির জাতকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্র ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে চরম সতর্ক থাকা প্রয়োজন। আপনার অজান্তেই শত্রুরা ক্ষতি করার জাল বুনতে পারে। এই সময় মন অস্থির থাকায় বড় কোনো পেশাদার সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। বিলাসিতা করতে গিয়ে আয়ের তুলনায় ব্যয় বেশি হয়ে যাওয়ার প্রবল যোগ রয়েছে, যা ভবিষ্যতে অনুশোচনার কারণ হতে পারে। প্রতিকার হিসেবে প্রতিদিন ভোরে সূর্যের উদ্দেশ্যে জল অর্পণ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কন্যা
কন্যা রাশির জাতকদের জন্য এই মাসটি প্রবল মানসিক চাপ ও উদ্বেগের বার্তাবাহী। সামান্য কারণে বিরক্তি বা ক্রোধ আপনার চারপাশের পরিবেশ বিষিয়ে তুলতে পারে। অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়াতে এই সময়ে ‘মৌনব্রত’ পালন করা বা কম কথা বলা অত্যন্ত জরুরি। খারাপ সঙ্গ ও কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সঙ্গে তর্কাতর্কি আপনার পদের ক্ষতি করতে পারে। ধৈর্য হারানোই হবে আপনার সবচেয়ে বড় ভুল। মানসিক শান্তি ফেরাতে গোরুকে খাদ্য নিবেদন করলে সুফল মিলতে পারে।
বৃশ্চিক
বৃশ্চিক রাশির জাতকদের জন্য খরমাস যেন ঝামেলার ডালি নিয়ে আসছে। কর্মক্ষেত্রে একের পর এক চ্যালেঞ্জ আপনার আত্মবিশ্বাস টলিয়ে দিতে পারে। ব্যবসায়িক মন্দার পাশাপাশি ‘ওভারথিংকিং’ বা অতিরিক্ত চিন্তা আপনার স্বাস্থ্যের ওপর কুপ্রভাব ফেলবে। যাঁদের আপনি অন্ধভাবে বিশ্বাস করেন, তাঁরাই এই সময়ে শত্রুর মতো আচরণ করতে পারে। আর্থিক ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সঞ্চয়ে টান পড়বে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে প্রতিদিন নিষ্ঠার সঙ্গে হনুমান চালিশা পাঠ করা জরুরি।
ধনু
ধনু রাশির জাতকদের এই এক মাস প্রতি পদক্ষেপে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। চাকরিজীবী হোন বা ব্যবসায়ী— হঠকারিতা বা তাড়াহুড়ো করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বড় মাসুল গুনতে বাধ্য করতে পারে। ভাগ্যের চাকা এই সময় খুব একটা সহায় হবে না, তাই ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হবে। বিশেষ করে রাস্তাঘাটে চলাফেরা বা গাড়ি চালানোর সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। নিজের স্বাস্থ্যের অবহেলা করবেন না। প্রতিদিন কপালে হলুদ চন্দনের তিলক লাগালে অশুভ প্রভাব কিছুটা প্রশমিত হতে পারে।
শুভ কাজে মানা
খরমাস চলাকালীন সূর্যের বল ক্ষীণ হওয়ায় আধ্যাত্মিক ও জাগতিক কাজে কোনো শুভ শক্তি কাজ করে না বলেই প্রচলিত বিশ্বাস। তাই নতুন গাড়ি কেনা, বাড়ি তৈরি শুরু করা বা কোনো বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা অন্তত ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত রাখাই নিরাপদ। অশুভ শক্তির প্রভাবে কাজে বিঘ্ন ঘটা বা অকাল ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। তবে এই সময়টি দান-ধ্যান বা জপ-তপের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত বলে মনে করা হয়।