মা তারার প্রিয় এই ৪ রাশিমা কালীর ভক্তদের কাছে বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তিথি কৌশিকী অমাবস্যা। শাক্তধর্মে এই তিথির বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। বিশেষ করে বীরভূমের তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যার রাতকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস, এই রাতে মা তারার আরাধনা করলে দেবীর আশীর্বাদ লাভ করা যায়। কথিত আছে, সাধক বামাক্ষ্যাপাও এই তিথিতে সাধনা করে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন।
জ্যোতিষমতে, রাশিচক্রের কয়েকটি রাশির জাতকদের উপর মা তারার বিশেষ কৃপা থাকে বলে বিশ্বাস করা হয়। কৌশিকী অমাবস্যায় সেই রাশিগুলির জীবনে শুভ পরিবর্তনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। দেখে নিন কোন ৪ রাশি রয়েছে এই তালিকায়।
মেষ রাশি: মেষ রাশির জাতকদের জন্য কৌশিকী অমাবস্যা বিশেষ শুভ বলে মনে করা হয়। মা তারার আশীর্বাদে আর্থিক সমস্যা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ আসতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কোনও কাজও এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করার সুযোগ মিলতে পারে।
মিথুন রাশি: মিথুন রাশির জাতকদের উপরও মা তারার বিশেষ কৃপা থাকবে বলে জ্যোতিষমতে মনে করা হয়। এই সময় নতুন সুযোগ আসতে পারে। কর্মক্ষেত্রে সাফল্য পাওয়ার পাশাপাশি আর্থিক দিক থেকেও পরিস্থিতি আগের তুলনায় ভালো হতে পারে। কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস বাড়বে।
সিংহ রাশি: কৌশিকী অমাবস্যায় সিংহ রাশির জাতকদের জন্যও সময়টি অনুকূল হতে পারে। মা তারার আশীর্বাদে বাধা-বিপত্তি দূর হয়ে সাফল্যের পথ খুলতে পারে। কর্মক্ষেত্রে উন্নতির সুযোগ আসতে পারে। পাশাপাশি পরিবারে শান্তি ও স্বস্তির পরিবেশ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
মকর রাশি: মকর রাশির জাতকদের জন্যও কৌশিকী অমাবস্যা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মা তারার কৃপায় কাজে সাফল্য, আর্থিক উন্নতি এবং নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে বলে জ্যোতিষমতে মনে করা হয়। দীর্ঘদিনের কোনও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগও আসতে পারে।
কেন কৌশিকী অমাবস্যা এত গুরুত্বপূর্ণ?
ভাদ্র মাসের অমাবস্যা তিথিই কৌশিকী অমাবস্যা নামে পরিচিত। এই তিথি বিশেষ করে শক্তি আরাধনা ও তন্ত্রসাধনার সঙ্গে যুক্ত। পুরাণের কাহিনি অনুযায়ী, অশুভ শক্তির বিনাশের জন্য দেবী কৌশিকীর আবির্ভাব ঘটে। তাই এই তিথিকে অশুভ শক্তির বিনাশ এবং দেবীর আরাধনার বিশেষ সময় বলে মনে করা হয়।
তারাপীঠে কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে রাতভর বিশেষ পুজো ও আরাধনা হয়। এই উপলক্ষে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগমও হয়।
তবে মনে রাখা দরকার, রাশির উপর দেবীর আশীর্বাদ বা ভবিষ্যৎ ফলাফল নিয়ে এগুলি জ্যোতিষ ও প্রচলিত বিশ্বাসের ভিত্তিতে বলা হয়, নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে নয়।