প্রথমেই নজর দেওয়া হয় হাতের তালুর রঙের দিকে।হাতের রেখা, আঙুলের গঠন এবং তালুর বিভিন্ন চিহ্ন দেখে ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ধারণা করার প্রথা বহু প্রাচীন। হস্তরেখা শাস্ত্রের মতে, মানুষের আর্থিক অবস্থা, কর্মজীবন এবং অর্থ উপার্জনের সম্ভাবনারও কিছু ইঙ্গিত পাওয়া যায় হাতের নির্দিষ্ট রেখা ও গঠনে। জ্যোতিষশাস্ত্রের এই শাখায় বিশ্বাস করা হয়, তালুর রং, আঙুলের আকৃতি এবং কয়েকটি বিশেষ রেখা একজন ব্যক্তির অর্থভাগ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।
হস্তরেখা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমেই নজর দেওয়া হয় হাতের তালুর রঙের দিকে। কারণ তালুর রং নাকি ব্যক্তির আর্থিক অবস্থার বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা দেয়।
শাস্ত্র অনুযায়ী, যাঁদের হাতের তালু গোলাপি আভাযুক্ত, তাঁদের জীবনে অর্থ এবং সম্মান দু’টিই পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অন্য দিকে, তালুতে অতিরিক্ত কালচে ভাব থাকলে আর্থিক টানাপোড়েন বা জীবনে বেশি সংগ্রামের ইঙ্গিত বলে মনে করা হয়। আবার যাঁদের তালু কিছুটা হলুদাভ, তাঁদের অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ থাকলেও চিকিৎসা বা অন্যান্য কারণে অতিরিক্ত খরচের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে বলে দাবি করা হয়।
শুধু তালুর রং নয়, আঙুলের গঠনও অর্থভাগ্যের সঙ্গে জড়িত বলে মনে করে হস্তরেখা শাস্ত্র। লম্বা ও সরু আঙুলকে সাধারণত শুভ বলে ধরা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই ধরনের আঙুল যাঁদের থাকে, তাঁরা জীবনে অর্থ ও খ্যাতি অর্জনের সুযোগ বেশি পান। বিপরীতে, খুব ছোট এবং মোটা আঙুল থাকলে জীবনে নানা বাধা ও পরিশ্রমের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
আবার আঙুলে অতিরিক্ত গাঁট থাকলে আর্থিক জীবনে ওঠানামা বা অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে বলেও উল্লেখ রয়েছে শাস্ত্রে। শক্ত ও মজবুত বুড়ো আঙুলকে অর্থ সঞ্চয়ের ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ এমন ব্যক্তিরা শুধু উপার্জনই করেন না, সঞ্চয় করতেও সক্ষম হন বলে বিশ্বাস।
কনিষ্ঠা আঙুলের ক্ষেত্রেও বিশেষ উল্লেখ রয়েছে। হস্তরেখা শাস্ত্র অনুযায়ী, স্বাভাবিকের তুলনায় দীর্ঘ কনিষ্ঠা আঙুলকে অর্থলাভ এবং ব্যবসায়িক সাফল্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
তালুর বিভিন্ন রেখাও অর্থভাগ্যের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হয়। যদি ভাগ্যরেখা মণিবন্ধ থেকে উঠে তালুর মধ্যভাগ পর্যন্ত স্পষ্ট ভাবে পৌঁছয়, তা হলে সেটিকে অর্থপ্রাপ্তির শুভ লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়। আবার সূর্য পর্বতের উপর দ্বৈত রেখা থাকলে জীবনে ধনসম্পদ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
একই সঙ্গে যদি ভাগ্যরেখা থেকে কোনও শাখা বেরিয়ে বুধ পর্বতের দিকে অগ্রসর হয়, তা হলে ব্যবসা বা বাণিজ্যের মাধ্যমে আর্থিক উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে বলে হস্তরেখা শাস্ত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
শাস্ত্র অনুযায়ী, হাতের দুটি বিশেষ পর্বতও আর্থিক অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এর মধ্যে বৃহস্পতি পর্বত উন্নত হলে ব্যক্তি নিজের প্রচেষ্টা ও দক্ষতার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন বলে বিশ্বাস করা হয়। অন্য দিকে, শুক্র পর্বত সুগঠিত হলে ব্যক্তি অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি বিলাসিতা ও আরাম-আয়েশের পিছনে ব্যয় করতেও আগ্রহী হন।
তবে মনে রাখতে হবে, হস্তরেখা শাস্ত্রের এই সমস্ত ব্যাখ্যা প্রাচীন বিশ্বাস ও জ্যোতিষভিত্তিক মতামতের উপর নির্ভরশীল। এগুলির কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত নয়। ব্যক্তির আর্থিক সাফল্য মূলত শিক্ষা, দক্ষতা, পরিশ্রম এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের উপরই নির্ভর করে।