সাড়েসাতি ও ঢাইয়ার কষ্ট কাদের ওপর?বৈদিক জ্যোতিষে শনি গ্রহকে সবচেয়ে কঠোর ও কর্মফল দেওয়া গ্রহ বলে মানা হয়ে থাকে। শনির সাড়েসাতি ও ঢাইয়া ব্যক্তির জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে। শনির সাড়েসাতি প্রায় ৭ বছরের হয় আর ঢাইয়া প্রায় আড়াই বছরের। এই সময় শনি ব্যক্তির কর্ম অনুসারে ফল প্রদান করে থাকে। ভাল কাজ করলে তার লাভ পাওয়া যায় আর অশুভ কাজ করলে সমস্যা, বাধা ও সঙ্কটের মুখোমুখি হতে হয়। এই সময় শনিগ্রহ মীন রাশিতে গোচর করছে। ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই রাশিতেই থাকবে। যে কারণে বেশ কিছু রাশির ওপর শনির সাড়েসাতি ও ঢাইয়া চ্যালেঞ্জপূরণ হতে পারে। জীবনে আর্থিক সমস্যা, স্বাস্থ্য বিগড়ানো ও মানসিক চাপ দেখা দিতে পারে।
সাড়েসাতির প্রভাবে মেষ রাশি
মেষ রাশির জাতকদের ওপর বর্তমানে সাড়েসাতির প্রভাব বেশ কষ্টময় হতে চলেছে। ব্যবসায় ধীর গতি, বিনিয়োগে লোকসান এবং হঠাৎ করে সম্পত্তিগত সমস্যার যোগ তৈরি হতে পারে। স্বাস্থ্যের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
মীন রাশি
মীন রাশির ওপর সাড়েসাতির দ্বিতীয় চরণ চলছে। এই সময় ব্যক্তিগত জীবন ও কেরিয়ারে স্থিরতা রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
কুম্ভ রাশি
কুম্ভ রাশির ওপর সাড়েসাতির তৃতীয় ও শেষ চরণ চলছে। এই চরণে পুরনো কোনও সমস্যা ফিরে আসবে এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলা কোনও সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব পড়বে। সাড়েসাতি চলার সময় সংযম, ধৈর্য ও বিবেকপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব দরকার। কোনও ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ বা বড় সিদ্ধান্ত এই সময় এড়িয়ে চলা লাভদায়ক হবে।
ঢাইয়ার প্রভাব
এদিকে, ধনু এবং সিংহ রাশির জাতক জাতিকারা শনির ঢাইয়ার প্রভাবে আছেন, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হবে। এই ঢাইয়ার প্রভাব স্বাস্থ্যকে দুর্বল করে দিতে পারে এবং আঘাত বা দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। জীবনে অপ্রত্যাশিত চাপ এবং বাধা তৈরি হতে পারে। অতএব, ভারসাম্যপূর্ণ জীবনধারা বজায় রাখা, সময়মতো খাওয়া এবং আপনার স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ মনোযোগ দেওয়া অপরিহার্য।
প্রতিকার
শনির অনুকূল জিনিসপত্র এবং নৈবেদ্য দান করা লাভজনক বলে মনে করা হয়। কালো তিল, কালো পোশাক, সর্ষের তেল অথবা কালো রঙের যে কোনো কিছু দান করা, বিশেষ করে শনিবারে করা শুভ হতে পারে। সংযম জীবন, নিয়মিত পুজো ও প্রাণায়াম মানসিক শান্তি ও বাধা থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়ক হবে।