জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, শনি যেমন কঠোর, তেমনই ন্যায়পরায়ণও। Shani Dev remedies: শনির সাড়ে সাতি বা ঢাইয়া নিয়ে অনেকেই ভয় পান। জীবনে বাধা, আর্থিক টানাপড়েন, কর্মক্ষেত্রে অস্থিরতা বাড়লেই অনেকের মনে হয়, হয়তো শনির কুদৃষ্টি পড়েছে। তবে জ্যোতিষশাস্ত্র বলছে, শনি যেমন কঠোর, তেমনই ন্যায়পরায়ণও। নিয়ম মেনে চললে এবং কিছু সহজ অভ্যাস রোজের জীবনে আনলে শনির শুভ প্রভাবও পাওয়া যেতে পারে।
জ্যোতিষীদের মতে, শনি মূলত কর্মফলের গ্রহ। তাই শুধু টোটকা নয়, মানুষের আচরণ এবং জীবনযাত্রার উপরও এই গ্রহের প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে সততা, শৃঙ্খলা এবং পরিশ্রমকে শনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
শনিকে সন্তুষ্ট করতে প্রথমেই প্রয়োজন নিয়ম মেনে চলা। অলসতা, দায়িত্ব এড়িয়ে চলা বা অন্যায় ভাবে লাভ করার প্রবণতা শনির অশুভ প্রভাব বাড়াতে পারে বলে মনে করা হয়। তাই নিজের কাজ নিষ্ঠার সঙ্গে করা অত্যন্ত জরুরি।
শনিবার গরিব বা অসহায় মানুষকে সাহায্য করাকেও শুভ বলে মনে করা হয়। কালো তিল, উড়দ ডাল, কালো কাপড় বা খাবার দান করলে শনির কৃপা মিলতে পারে বলে প্রচলিত বিশ্বাস। বিশেষ করে শ্রমজীবী বা বয়স্ক মানুষকে সাহায্য করলে তা শুভ ফল দেয় বলেই মনে করেন অনেকে।
জ্যোতিষশাস্ত্রে আরও বলা হয়েছে, বাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নোংরা বা অগোছালো পরিবেশ নেতিবাচক শক্তি বাড়ায়। শনিবার বাড়ির প্রবেশদ্বারে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালান অনেকেই। এটিকে শুভ বলে ধরা হয়।
পশুপাখিকে খাবার খাওয়ানোর কথাও বলা হয় বিভিন্ন জ্যোতিষ মত অনুযায়ী। বিশেষ করে কাক বা কালো কুকুরকে খাবার দিলে শনির অশুভ প্রভাব কিছুটা কমতে পারে বলে বিশ্বাস রয়েছে। যদিও এর কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
শনিবার অকারণ রাগ, অশান্তি বা মদ্যপান এড়িয়ে চলার পরামর্শও দেওয়া হয়। শান্ত এবং সংযমী আচরণ শনির শুভ প্রভাব বাড়াতে সাহায্য করে বলে মনে করেন জ্যোতিষীরা। অনেকেই এ দিন শনি মন্ত্র জপ বা হনুমান চালিসা পাঠ করেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, শুধুমাত্র আচার পালন নয়, জীবনে সৎ থাকা এবং অন্যের প্রতি সম্মান দেখানোই আসল উপায়। কারণ জ্যোতিষ মতে, শনি শেষ পর্যন্ত মানুষের কর্মেরই বিচার করেন।
দ্রষ্টব্য: রাশি সংক্রান্ত প্রতিবেদন জ্যোতিষ ও লোকমতভিত্তিক। এগুলি সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ বা সুপারিশ নয়।