শীতে নলেন গুড়, নলেন গুড়ের মিষ্টি-পিঠে-পায়েসের পাশাপাশি মোয়া না হলে মন ভরে না ভোজনরসিক বাঙালির।Joynagarer Moa: শীতে নলেন গুড়, নলেন গুড়ের মিষ্টি-পিঠে-পায়েসের পাশাপাশি মোয়া না হলে মন ভরে না ভোজনরসিক বাঙালির। আর মোয়া মানেই জয়নগরের মোয়া (Joynagarer Moa)। কিন্তু সব মোয়াই তো আর জয়নগরে তৈরি নয়! কিন্তু বাংলার প্রায় সব জেলাতেই এখন প্যাকেটের পর প্যাকেট সাজিয়ে ঢেলে বিক্রি হচ্ছে জয়নগরের মোয়া। সাধারণ ক্রেতা আসল-নকল চিনবেন কী করে? আর এখানেই নিত্যদিন ঠকছেন ক্রেতারা আর ব্যবসা মার খাচ্ছে আসল জয়নগরের মোয়ার কারিগর-বিক্রেতাদের।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগরের মোয়ার (Joynagarer Moa) স্বাদ এখন বিশ্ব বিখ্যাত। এখানকার মোয়ার জিআই ট্যাগ-প্রাপ্তি হয়েছে আগেই। কিন্তু জয়নগরের মোয়ার নামে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় মোয়া। এই মোয়া তৈরির খরচ অপেক্ষাকৃত কম, দাম জয়নগরের মোয়ার (Joynagarer Moa) মতোই। তবে স্বাদ-গন্ধ কোনওটাই আসলের ধারেকাছে নেই।
আসল জয়নগরের মোয়ার (Joynagarer Moa) জন্য কনকচূড় ধানের খই, খোয়া ক্ষীর, নলেন গুড়, কাজু, কিসমিস আর গাওয়া ঘি দিতেই হয়। না হলে ওই স্বাদ-গন্ধ আসে না। এদিকে স্থানীয় মোয়ায় ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে সস্তার ঘি, সাধারণ খই। খরচ কমাতে অনেক সময় পর্যাপ্ত নলেন গুড়ের বদলে চিনি মিশিয়ে স্বাদ ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অনেক অসাধু ব্যবসায়ী চালের গুঁডো মেশানো বাসি সন্দেস মাখাও কাজে লাগাচ্ছেন এই মোয়া তৈরিতে।
জয়নগর এক মোয়া ও মিষ্টি বিক্রেতা জানান, স্থানীয় মোয়া খাদ্য উপাদানের গুণমাণ সঠিক রেখে যেভাবে খুশি মোয়া তৈরি করা যেতে পারে। কিন্তু সেটি বিক্রির সময় জিআই ট্যাগ পাওয়া জয়নগরের মোয়ার (Joynagarer Moa) নাম ব্যবহার করা অন্যায়, বেআইনি। জিআই ট্যাগ ব্যবহার করলে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক। কিন্তু নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা, সেটারই নজরদারি করা হচ্ছে না ঠিক মতো। জিআই ট্যাগ যাঁরা পেয়েছেন, তাঁদের গুণমান সমৃদ্ধ মোয়া তৈরি করার কথা। কিন্তু নজরদারির অভাবে নকল জয়নগরের মোয়ায় ছেয়ে গিয়েছে বাংলার বাজার। ফলে সাধারণ মানুষ দাম দিয়েও পাচ্ছেন না খাঁটি জয়নগরের মোয়ার স্বাদ-গন্ধ।