বাড়তি নয়, যতটা মাইনে, ততটাই কাজ, ভারতে 'ওয়ার্ক স্টাইলে' বদলের হাওয়া, কেন? চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট

যখন কর্মীরা অনুভব করেন যে তাদের লিডার বা ম্যানেজাররা আন্তরিকভাবে তাদের যত্ন নিচ্ছেন, প্রশংসা করছেন তখন তাদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করার ইচ্ছা ৯৯%-এ পৌঁছয়। তবে, যেখানে এই প্রশংসার অভাব থাকে, সেখানে তা কমে ২৯%-এ নেমে আসে।

Advertisement
বাড়তি নয়, যতটা মাইনে, ততটাই কাজ, ভারতে 'ওয়ার্ক স্টাইলে' বদলের হাওয়া, কেন? চাঞ্চল্যকর রিপোর্টপ্রতীকী ছবি

কর্পোরেটে বদলাচ্ছে কাজের ধরন। নিজের নির্দিষ্ট কাজ ছাড়া অতিরিক্ত কাজ করতে তারা বেজায় অনিচ্ছুক। ‘গ্রেট প্লেস টু ওয়ার্ক ইন্ডিয়া ২০২৬’-এর একটি নতুন সমীক্ষায় এই পরিবর্তনকে ‘এফর্ট রিশেসন’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনের তথ্য থেকে দেখা যায়, দেশের ৬৩ শতাংশ কোম্পানিতে কর্মচারীদের 'স্বেচ্ছামূলক প্রচেষ্টা' গড়ে ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

এই 'স্বেচ্ছামূলক প্রচেষ্টা' বলতে কী বোঝায় এবং এর সংখ্যা কেন কমছে?
সহজ কথায়, 'স্বেচ্ছামূলক প্রচেষ্টা' হল কাজের সেই অংশ যা কোনও কোম্পানি একজন কর্মীকে করতে বাধ্য করতে পারে না। এর মধ্যে রয়েছে, না বলা সত্ত্বেও কোনও সমস্যা সমাধানের জন্য দেরি পর্যন্ত অফিসে থাকা, টিমকে সাহায্য করার জন্য নিজের দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কাজ করা, অথবা অফিসে শুধু হাজিরা দেওয়ার পরিবর্তে কোনও দায়িত্ব গ্রহণ করা। ভারতীয় কর্পোরেশনগুলিতে এই 'অতিরিক্ত উৎসাহ' এখন ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। কর্মচারীরা এখন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে বেতন আর কাজ একই।

কোন সেক্টরে পরিস্থিতি কেমন?

রিটেইল সেক্টর: এই মন্দার কারণে রিটেইল সেক্টর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ৮৮% কোম্পানি কর্মীদের কর্মদক্ষতা হ্রাসের কথা জানিয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও পেশাগত পরিষেবা: তথ্যপ্রযুক্তি ও পেশাগত পরিষেবা খাতও এর প্রভাব থেকে মুক্ত নয়, ৭৭% কোম্পানি এই পতন অনুভব করছে।

নির্মাণ ও রিয়েল এস্টেট: ৭১% কোম্পানি এই সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে।

ম্যানুফ্যাকচরিং সেক্টর: এই সেক্টরটি সবচেয়ে শক্তিশালী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। মাত্র ৪৪% কোম্পানির পতন ঘটেছে, যার গড় হার মাত্র ৩%।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উৎপাদন খাতে কর্মরতদের ‘বিশেষ দক্ষতা’ রয়েছে, যা তাদেরকে তাদের কাজের প্রতি আরও বেশি সম্পৃক্ত করে তোলে, অন্যদিকে তথ্যপ্রযুক্তি এবং খুচরো ব্যবসায় কর্মরতদের জন্য চাকরি পরিবর্তন করা সহজ। 

প্রতিবেদন অনুসারে, যখন কর্মীরা অনুভব করেন যে তাদের লিডার বা ম্যানেজাররা আন্তরিকভাবে তাদের যত্ন নিচ্ছেন, প্রশংসা করছেন তখন তাদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করার ইচ্ছা ৯৯%-এ পৌঁছয়। তবে, যেখানে এই প্রশংসার অভাব থাকে, সেখানে তা কমে ২৯%-এ নেমে আসে। পুরো প্রতিবেদনে এটিই সবচেয়ে বড় পার্থক্য (৭০ পয়েন্ট)। অধিকন্তু, যখন অনুপ্রেরণাদায়ক নেতৃত্ব থাকে, তখন প্রচেষ্টা ৯৮%-এ বজায় থাকে, আর যখন কোনও নেতৃত্ব থাকে না, তখন তা কমে ৩২%-এ নেমে আসে।

Advertisement

মজার ব্যাপার হল, কোম্পানিগুলো প্রশিক্ষণ, পরামর্শদান বা দক্ষতা উন্নয়নে যে বিপুল বাজেট ব্যয় করে, তার ফলে কর্মনিষ্ঠায় মাত্র ২৫ পয়েন্টের উন্নতি ঘটে। এর মানে হল, সমস্যাটি দক্ষতা বৃদ্ধি নয়, বরং ম্যানেজারদের কর্মীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করার ক্ষমতা।

জেন জি এবং এআই-এর ডবল অ্যাটাক
এই 'শ্রম-হ্রাস'-এর পিছনের একটি প্রধান কারণ হল কর্মক্ষেত্রে ঘটে চলা প্রজন্মগত পরিবর্তন। ভারতের মোট কর্মশক্তির ২৬ শতাংশই এখন জেন জি, যা ২০২৩ সালের লক্ষ্যমাত্রাকে প্রায় দ্বিগুণ করেছে। গত চার বছরে তাদের সংখ্যা বার্ষিক ১৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিবর্তনটি এমন এক সময়ে ঘটছে যখন কর্মক্ষেত্রে AI (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা)-এর অনুপ্রবেশও ক্রমশ বাড়ছে।

প্রায় ৫৮% HRO মনে করেন তারা একই সঙ্গে দুটি দিক সামলাচ্ছেন: একদিকে প্রজন্মের ব্যবধান সামলানো এবং অন্যদিকে AI রূপান্তর। এদের অর্ধেক (৫০%) স্বীকার করেছেন, আজকের মিলেনিয়ালদের কাজ করার প্রেরণা কী, তা তারা পুরোপুরি বোঝেন না।

প্রতিবেদনটি একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে: পূর্ববর্তী নেতৃত্ব কাঠামোর তুলনায় কর্মীবাহিনী অনেক দ্রুত গতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে। কর্মীরা শুধু চাকরিই ছাড়ছেন না, বরং তাঁরা অতিরিক্ত প্রচেষ্টাও করছেন, কারণ তাঁরা মনে করেন যে তাঁদের কোম্পানি ও নেতারা তাঁদের প্রতি উদাসীন।

POST A COMMENT
Advertisement