জনসংখ্যায় চিনকে ছাড়াবে ভারত। জনসংখ্যায় চিন ও ভারত কাঁটায় কাঁটায়। বিশ্বের জনবহুল দুই দেশ। আপাতত চিন খানিকটা এগিয়ে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। তবে এটা বেশিদিন থাকবে না। তেমনটাই রিপোর্ট রাষ্ট্রসঙ্ঘের। তারা জানিয়েছে, আগামী বছর জনসংখ্য়ার নিরিখে চিনকে পিছনে ফেলে দেবে ভারত।
সোমবার 'বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস' উপলক্ষে একটি রিপোর্ট পেশ করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ। তাতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি বিশ্বের জনসংখ্যা হবে ৮০০ কোটি। মহাদেশের নিরিখে এশিয়া সবচেয়ে জনবহুল। জনসংখ্যা ৪৭০ কোটি। বিশ্বের জনসংখ্যার ৬১ শতাংশই এশিয়ায় বাস করে। ১৩০ কোটি মানুষের বাস আফ্রিকায়। যা বিশ্ব জনসংখ্যার ১৭ শতাংশ। এছাড়া ইউরোপে (ল্যাটিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান) ৭৫ কোটি অর্থাৎ ১০ শতাংশ, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে ৬৫ কোটি অর্থাৎ ৮ শতাংশ, উত্তর আমেরিকায় ৩৭ কোটি এবং ওশিয়ানিয়ায় ৪.৩ কোটি মানুষ বাস করেন।
কমতে শুরু করেছে চিনের জনসংখ্যার রেখচিত্র। 'World Population Prospects 2019' অনুযায়ী, চিনে ১৪৪ কোটি মানুষ থাকেন। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতের জনসংখ্যা ১৩৯ কোটি। চিনে বিশ্বের জনসংখ্যার ১৯ শতাংশ এবং ভারতের ১৮ শতাংশ থাকে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল নাগাদ ভারতের জনসংখ্যা চিনকে ছাড়িয়ে যাবে। ২০১৯ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে চিনের জনসংখ্যা ৩.১৪ কোটি অর্থাৎ প্রায় ২.২ শতাংশ কমবে।
ইউনাইটেড নেশনস ডিপার্টমেন্ট অফ ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্সের পূর্বাভাস, বিশ্বের জনসংখ্যা ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে ধীর গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যা ৮৫০ কোটিতে পৌঁছবে। ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের মোট জনসংখ্যা ৯৭০ কোটি। এবং ২০৮০ সালে প্রায় ১০০৪ কোটি হবে জনসংখ্যা। এর পর ২১০০ সাল পর্যন্ত একই থাকবে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, অনেক উন্নয়নশীল দেশে জন্মহার কমেছে। তবে কিছু দেশে এই হার বাড়ছে। মাত্র ৮টি দেশ জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে ৫০ শতাংশের বেশি অবদান রাখবে। প্রসঙ্গত,ওই আটটি দেশই এশিয়া বা আফ্রিকার। সেগুলি হল- গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপিন্স এবং তানজানিয়া।
আরও পড়ুন- ৫ বছরেই ভারতে গায়েব হবে পেট্রোল গাড়ি! গডকড়ি-মন্তব্য়ে জল্পনা