Youngest Artificial Intelligence Founders: মাত্র ১২ বছরেই AI স্টার্টআপের মালিক সপ্তম শ্রেণীর পড়ুয়া, তিন দেশের সঙ্গে ব্যবসাYoungest Artificial Intelligence Founders: সাধারণত বারো বছরের কিশোর কিশোরীদের বিকেলবেলা কাটে স্কুলের বাড়ির কাজ খেলাধুলো কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে। কিন্তু এই চেনা অভ্যাসের বাইরে হেঁটে এক সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী নজির গড়ল ক্যানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়ার কেলোনার বাসিন্দা মানা জাম্পালা। সপ্তম শ্রেণীর এই স্কুলছাত্রী নিজের পড়াশোনা ও খেলাধুলো সামলানোর পাশাপাশি চালিয়ে যাচ্ছে একটি অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই স্টার্টআপ। ইতিমধ্যেই বিশ্বের তিনটি দেশে পা রেখেছে তার তৈরি করা প্রযুক্তি। মানার লিংকডইন প্রোফাইল থেকে জানা গিয়েছে যে তার তৈরি প্ল্যাটফর্মটি বর্তমানে ক্যানাডা ভারত এবং কম্বোডিয়ায় বাণিজ্যিক স্তরে ব্যবহৃত হচ্ছে। এত কম বয়সে বিশ্বমঞ্চে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নজর কেড়ে এখন শিরোনামে রয়েছে এই প্রতিভাবান কিশোরী।
প্রযুক্তির প্রতি মানার এই ভালোবাসার সফর শুরু হয়েছিল অনেক ছোটবেলা থেকে। মাত্র নয় বছর বয়সে স্ক্র্যাচ ক্যাম্পের মাধ্যমে কোডিংয়ের দুনিয়ায় হাতেখড়ি হয় তার এবং খুব দ্রুত সে পাইথন ল্যাঙ্গুয়েজ শিখে ফেলে। এরপর মাত্র এগারো বছর বয়সেই সে নিজের বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে এআই পণ্য বা প্রোডাক্ট তৈরি করতে শুরু করে। তার এই অসাধারণ প্রতিভা খুব দ্রুত স্কুলের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের দরবারে স্বীকৃতি পায়। ভারতে বেড়াতে এসে একটি কলেজ স্তরের বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় বিশেষ পুরস্কার জিতে নেয় মানা। এর পাশাপাশি তরুণ ও প্রতিভাবান উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানো ১৫১৭ ফান্ডের মেডিসি প্রজেক্ট থেকেও একটি বিশেষ আর্থিক অনুদান বা গ্র্যান্ট পেয়েছে সে। অবশ্য একটি পুরোদস্তুর তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি চালালেও মানা কিন্তু আর পাঁচটা সাধারণ বাচ্চার মতোই ফুটবল খেলতে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে এবং সমমনোভাবাপন্ন তরুণদের সঙ্গে আড্ডা দিতে ভীষণ ভালোবাসে।
মানার মাথায় এই অভিনব ব্যবসার বুদ্ধি আসার পেছনে রয়েছে তার বাবার কর্মক্ষেত্রের একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা। একদিন সে লক্ষ্য করে যে বাবার অফিসের কর্মীরা সামনের গ্রাহকদের পরিষেবা দিতে এতটাই ব্যস্ত থাকেন যে অনেক সময়ই তাঁরা ক্রেতাদের জরুরি ফোন কল ধরতে পারেন না। এই একটিমাত্র মিসড কল ব্যবসার ক্ষেত্রে কত বড় আর্থিক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে তা খুব কম বয়সেই বুঝে যায় মানা। এই ভাবনা থেকেই সে জন্ম দেয় ভোক্সা নামের একটি ২৪ ঘণ্টার এআই ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ডিজিটাল রিসেপশনিস্ট। রেস্তোরাঁ ও ফার্মেসির মতো বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানকারী ব্যবসার জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে যেখানে প্রতিটি মিসড কল মানেই লক্ষ্মীলাভের সুযোগ হাতছাড়া হওয়া। এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাটি গ্রাহকদের ফোন রিসিভ করতে পারে অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুক করতে পারে রেস্তোরাঁর অর্ডার নিতে পারে ফলো আপ করতে পারে এবং কথা বলার পর পুরো কথোপকথনের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ বা সামারিও তৈরি করে দিতে পারে। মানার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ভোক্সা ইতিমধ্যেই ক্যানাডায় শত শত ফোন কল সামলানোর পাশাপাশি তার ব্যবসার পরিধি ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে।
এক সাক্ষাৎকারে মানা জানিয়েছে যে সে তার এই সফ্টওয়্যারটি তৈরি করতে চ্যাটজিপিটি এবং ক্লডের মতো আধুনিক এআই কোডিং অ্যাসিস্ট্যান্টের সাহায্য নিলেও কখনোই সম্পূর্ণ কোডিংয়ের জন্য এআইয়ের ওপর চোখ বুজে ভরসা করেনি। সে প্রথমে কোডের ছোট ছোট অংশ বা স্নিপেট তৈরি করত তারপর সেগুলিকে নিজে পরীক্ষা করত এবং কোনো ভুল বা বাগ থাকলে তা নিজেই সংশোধন করত। এইভাবে ধাপে ধাপে কাজ করার ফলেই সে নিজের একটি ব্যাকএন্ড তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে যা তাকে সফ্টওয়্যারের প্রতিটি অংশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বুঝতে সাহায্য করেছে।
এই এআই রিসেপশনিস্ট তৈরি করেই কিন্তু ক্ষান্ত থাকেনি মানা। সে ইতিমধ্যেই তার পরবর্তী বড় প্রজেক্ট ভোক্সা এজেন্টস নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করে দিয়েছে। এই নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সাধারণ ইংরেজি ভাষায় কাজের বিবরণ দিয়ে নিজেদের জন্য স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট তৈরি করে নিতে পারবেন। উদাহরণস্বরূপ একজন ব্যবহারকারী যদি এই এজেন্টকে প্রতিযোগীদের ওপর নজর রাখতে বলেন মিটিংয়ের ব্রিফিং তৈরি করতে বলেন কিংবা অনলাইন কথোপকথন ট্র্যাক করতে বলেন তবে এই এআই অত্যন্ত নিখুঁতভাবে নিজে থেকেই সেই কাজ সম্পন্ন করবে। ভবিষ্যতে নিজের সংস্থাকে আরও বড় করতে কোনো নামী স্টার্টআপ অ্যাক্সিলারেটরে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন দেখে মানা। যে বয়সে অধিকাংশ পড়ুয়ারা নিজেদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবতেই শুরু করে না সেই বয়সেই মানা জাম্পালা বিভিন্ন মহাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য আধুনিক এআই পণ্য তৈরি করে প্রমাণ করে দিল যে নতুন প্রজন্ম কত দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে এআই বিপ্লবে শামিল হচ্ছে।