MBA করে কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে ক্যাবচালিয়ে বাজিমাতMBA Graduate Success Story: এসি ঘরের আরামদায়ক চেয়ার, ঝকঝকে কেবিন আর বছরে ২৫ লক্ষ টাকার নিশ্চিত প্যাকেজ। মধ্যবিত্তের কাছে যা স্বপ্নের মতো। কিন্তু স্বপ্ন দেখার ধরনটা যদি একটু অন্যরকম হয়? গতানুগতিক ছক ভেঙে তেমনই এক নজির গড়েছেন এক এমবিএ (MBA) স্নাতক। কর্পোরেট জগতের মায়া কাটিয়ে তিনি এখন ট্যাক্সি চালক। না, অভাবের তাড়নায় নয়, বরং জেদ আর ব্যবসার বুদ্ধিকে সম্বল করে আজ তিনি মাসে নিট মুনাফা করছেন ৬.৫ লক্ষ টাকা।
সাহসী সিদ্ধান্ত
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলেও তাঁর এই সাফল্যের কাহিনী এখন মুখে মুখে। নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এমবিএ শেষ করে একটি মাল্টিন্যাশনাল সংস্থায় উঁচু পদের চাকরি পেয়েছিলেন তিনি। হাতে মোটা মাইনে থাকলেও মনের ভেতর গুমরে মরছিল নিজস্ব কিছু করার তাগিদ। এরপরই একদিন হঠাৎ ইস্তফাপত্র ধরিয়ে দিয়ে নেমে পড়লেন রাস্তায়। সুট-বুট ছেড়ে নিজের হাতে ধরলেন ট্যাক্সির স্টিয়ারিং।
চ্যালেঞ্জ যখন সুযোগ
প্রথম দিকে পরিবার ও পরিচিত মহলে সমালোচনা কম হয়নি। "পড়াশোনা করে শেষমেশ গাড়ি চালানো?" এমন বাঁকা কথা শুনতে হয়েছে বারবার। কিন্তু ওই যুবক বুঝেছিলেন, ভারতের ট্যাক্সি পরিষেবা ও লজিস্টিক সেক্টরে খামতি কোথায়। চাকা ঘোরানোর ফাঁকেই তিনি বাজারের নাড়ি মেপে নিয়েছিলেন। শুরু করলেন নিজের একটি ছোট ফ্লিট। যেখানে পরিষেবার মান আর প্রযুক্তির মিশেলে বাজিমাত করলেন তিনি।
লক্ষ্মীলাভের অংক
অল্প কয়েক বছরের মধ্যেই নিজের ব্যবসাকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন যে, বর্তমানে তাঁর মাসিক লাভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.৫ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, আগের চাকরির যা বার্ষিক বেতন ছিল, এখন তার তিনগুণ ঘরে তুলছেন। আজ তাঁর অধীনে কাজ করছেন কয়েকশো চালক।
এই সাফল্য কেবল টাকার নিরিখে নয়, বরং সেই সব তরুণদের কাছে এক বড় বার্তা, যারা গতানুগতিক চাকরির ইঁদুর দৌড়ে ক্লান্ত হয়েও নতুন কিছু শুরু করতে ভয় পাচ্ছেন। কর্মনিষ্ঠা আর সঠিক দিশা থাকলে একটা স্টিয়ারিংও যে সোনার খনি হয়ে উঠতে পারে, তা ফের প্রমাণ করে দিলেন এই এমবিএ চালক।