নেতাজি শুভাষ চন্দ্র বসুআজ দেশনায়ক নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তি। ভারত মায়ের বীর সন্তানের জন্মদিন। যাঁর কাজকর্মে ঘুম উড়েছিল ব্রিটিশ সরকারের। যাঁর কথায় আন্দোলিত হতো আসমুদ্র হিমাচল। নিমেষে তৈরি হতো আন্দোলন। আজ সেই বিপ্লবী সন্তানের জন্মদিন।
এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নিয়ে প্রথম থেকেই ব্রিটিশদের কুনজরে ছিলেন নেতাজি। ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের চর সবসময়ই তাঁর পিছনে ঘুরে বেড়াত।
যদিও এই সব গোয়েন্দাদের চোখে ফাঁকি দেওয়াটা ছিল নেতাজির কাছে বাঁ হাতের খেলা। তাই তাঁকে যখন ইংরেজরা গৃহবন্দি করে রেখেছিল, তখনই তিনি ব্রিটিশদের চোখে ধুলো দিয়ে চলে যান আফগানিস্তান। আর এই ঘটনাকেই ইতিহাসে মহানিষ্ক্রমণ নামে ডাকা হয়।
যদিও আমাদের মধ্যে অনেকেই সেই রাতের ঘটনা সম্পর্কে জানি না। তাই সেই রাতের ঘটনার পুরো বিবরণ রইল।
নেতাজির কারামুক্তি
ব্রিটিশ সরকার স্বাধীনতা সংগ্রামে জড়িত থাকার অপরাধে ১৯৪০ সালে নেতাজিকে জেলবন্দি করে। এই সময় জেলের ভিতর ৭ দিন তিনি অনশন করেন। তারপর তাঁকে ১৯৪০ সালের ডিসেম্বর মাসেই মুক্তি দেওয়া হয়।
তবে এই সময় একবারে মুক্তি পাননি নেতাজি। তাঁকে গৃহবন্দি থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে নেতাজির মতো বীরকে আটকে রাখার ক্ষমতা ইংরেজদের ছিল না।
প্রসঙ্গত, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর এলগিন রোডের বাড়িতে গৃহবন্দি ছিলেন নেতাজি। আর সেই বাড়ির দিকে ইংরেজদের ছিল বিশেষ নজর। নিরাপত্তারক্ষীরা বাড়ি ঘিরে রাখত। পাশাপাশি গোয়েন্দারাও নানাভাবে রাখত খবর।
এই সময় বাড়ি থেকে পালানোর ছক কষে ফেলেন নেতাজি। তিনি ভাইপো শিশির কুমার বসুর সঙ্গে প্ল্যানটা করেন। আর এই পরিকল্পনার বিষয়ে জানতেন নেতাজির সেজো দাদা সুরেশচন্দ্র বসুর দ্বিতীয় কন্যা ইলাদেবী।
অনেক পরিকল্পনার পর নেতাজি ১৯৪১ সালের ১৭ জানুয়ারি বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই মতো ছদ্মবেশ নিয়ে শিশির কুমার বসুকে সঙ্গে গাড়ি করে বেরিয়ে পড়েন তিনি। আর নেতাজির জায়গায় ওই ঘরে তখন শুয়েছিলেন ইলাদেবী। যার ফলে ব্রিটিশরা কিচ্ছুটি টের পায়নি। এই ছিল নেতাজির মহানিষ্ক্রমণের রাতের ঘটনা।
বাড়ি থেকে বেরিয়ে তিনি চেপে পড়েন কালকা মেলে। এই সময় তিনি মহম্মদ জিয়াউদ্দিনের ছদ্মবেশ নেন। সেখান থেকে চলে যান পেশোয়ার। তারপর তৈরি হয় নয়া ইতিহাস। আফগানিস্তান হয়ে রাশিয়া হয়ে পৌঁছে যান জার্মানি।
দুঃখের বিষয় হল, আজ এত বছর পরও ভারত মায়ের এই সন্তানের মৃত্যু রহস্য উন্মোচিত হল না। বৃহৎ অংশের মত হল, তিনি জাপানের তাইহকু বিমান দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। আর একটা দল অবশ্য বিশ্বাস করে তিনি স্বাধীনতার পর গুমনামি বাবা হিসেবে ভারতে ফিরে আসেন। তবে সত্যিটা যে কী, সেটা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।