Puri Jagannath Temple Ratna Bhandar: ৪৮ বছর পর খুলল জগন্নাথ মন্দিরের রহস্যময় রত্নভাণ্ডার, 3D ম্যাপিংয়ে চলছে সম্পত্তি গণনা

Puri Jagannath Temple Ratna Bhandar: পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের ভিতর রত্নভাণ্ডার দীর্ঘ ৪৮ বছর পর খোলা হয়েছে। ৩ডি ম্যাপিং ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সেখানে থাকা শত বছরের প্রাচীন স্বর্ণালঙ্কার ও রত্ন গণনা করা হচ্ছে। ১৩ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এই প্রক্রিয়া। ১৮ বার বিদেশি আক্রমণের হাত থেকে সেবকরা যেভাবে এই ঐশ্বর্য রক্ষা করেছেন, সেই গৌরবময় ইতিহাস ও মন্দিরের গোপন সুরঙ্গের রহস্য নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা।

Advertisement
৪৮ বছর পর খুলল জগন্নাথ মন্দিরের রহস্যময় রত্নভাণ্ডার, 3D ম্যাপিংয়ে চলছে সম্পত্তি গণনাজগন্নাথ মন্দিরের রত্ন ভাণ্ডারে কত রত্ন?

Puri Jagannath Temple Ratna Bhandar: ভক্তের বিশ্বাস আর ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এক রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তের সাক্ষী থাকছে ওড়িশার পুরী। দীর্ঘ ৪৮ বছরের রুদ্ধদ্বার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে উন্মুক্ত হলো শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের ‘ভিতর রত্নভাণ্ডার’। শেষবার ১৯৭৮ সালে যখন এই ভাণ্ডারের তালা খোলা হয়েছিল, তখন পৃথিবী ছিল অন্যরকম। আজ আধুনিক প্রযুক্তির আলোয় শুরু হয়েছে মহাপ্রভুর সেই অলৌকিক মণি-মাণিক্য ও অলঙ্কারের পাহাড় গণনার কাজ। দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ ভক্ত এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন। কী কী রহস্য লুকিয়ে আছে এই প্রাচীন প্রকোষ্ঠে?

সম্পত্তি গণনা
মন্দিরের রত্নভাণ্ডার গণনার কাজ চলছে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে ইতিমধ্যেই ‘চলিত’ এবং ‘বাহির রত্নভাণ্ডারে’র অলঙ্কার গোনা শেষ হয়েছে। এবার নজর সবচেয়ে স্পর্শকাতর এলাকা ‘ভিতর রত্নভাণ্ডারে’র দিকে। এই কাজকে স্বচ্ছ রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক ৩ডি ম্যাপিং, উচ্চমানের ভিডিওগ্রাফি এবং ফটোগ্রাফি। ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়া চলবে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রশাসনের বিশেষ অনুমতিপ্রাপ্ত সদস্য ছাড়া এই অলৌকিক কক্ষে প্রবেশাধিকার নেই কারও।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব
এই রত্নভাণ্ডার কেবল সোনা-রুপোর জাঁকজমক নয়, এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে রাজা-মহারাজা ও ভক্তদের দেওয়া অকুন্ঠ দানের প্রতীক। কথিত আছে, বিভিন্ন সময়ে রাজারা যুদ্ধের জয় বা মানত পূরণের পর ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রার চরণে দুর্মূল্য রত্নরাজি নিবেদন করেছেন। সেই অলঙ্কারগুলোই এখন সংরক্ষণ করা হচ্ছে। পুরীর এই মন্দিরে সোমনাথ মন্দিরের মতোই বারবার বিদেশি আক্রমণ হয়েছে। ইতিহাস বলছে, মোট ১৮ বার লুঠের চেষ্টা করা হয়েছে এই ঐশ্বর্য। কিন্তু সেবকরা প্রাণ তুচ্ছ করে প্রতিবারই বিগ্রহ ও অলঙ্কার গোপন সুরঙ্গ বা অজ্ঞাত স্থানে সরিয়ে রক্ষা করেছেন।

রহস্যময় রত্নভাণ্ডার
মন্দিরের পুরনো সেবকদের বংশধরদের মুখে আজও শোনা যায় গোপন সুরঙ্গ আর রহস্যময় কক্ষের কথা। অনেকে মনে করেন, এই ভাণ্ডারের পেছনে এখনও এমন কিছু কক্ষ রয়ে গিয়েছে যার হদিশ ইতিহাসে নেই। ৪৮ বছর পর যখন সেই প্রকোষ্ঠের দরজা আজ হাট করে খোলা হয়েছে, তখন মানুষের প্রত্যাশা তুঙ্গে। প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সেই প্রাচীন রহস্যের জট এবার খোলে কি না, সেটাই এখন দেখার।

Advertisement

 

POST A COMMENT
Advertisement