মৃত্যুর পরে কেমন অনুভূতি হয়! শুয়ে সেই স্বাদ নিতে এখানে আসেন পর্যটকরা, কোথায়?Thailand Death Festival: মৃত্যু মানেই কি সব শেষ? নাকি পরপারের সেই অন্ধকার জগতের ভিতরেও কিছু আছে? এই প্রশ্ন মানুষের ভিতর চিরদিন রয়েছে। এবার সেই অনুভূতি কেমন, তা বেঁচে থাকতেই পরখ করে নেওয়ার অদম্য ইচ্ছায়, থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে এখন এমনই এক বিচিত্র হুজুগে মেতেছেন পর্যটক থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা। মৃত্যুর পর কেমন লাগবে, তা হাতেনাতে অনুভব করতে মানুষ স্বেচ্ছায় ঢুকে পড়ছেন শবাধারে (Coffin)। সেখানে শুয়ে কিছুক্ষণ চোখ বুজে উপভোগ করছেন নিথর স্তব্ধতা। ব্যাংককের এই অদ্ভুত ‘ডেথ ফেস্টিভ্যাল’ বা মৃত্যু উৎসবকে কেন্দ্র করে বর্তমানে নেটদুনিয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ব্যাংককের একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রে আয়োজন করা হয়েছে এই অভিনব ইভেন্টের। সেখানে সারিবদ্ধভাবে রাখা রয়েছে কারুকার্য করা সব কফিন। উৎসুক মানুষজন অর্থের বিনিময়ে সেই কফিনে শুয়ে পড়ছেন। এরপর কফিনের ডালা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। চার দেওয়ালের সেই ঘুটঘুটে অন্ধকার আর অক্সিজেনের স্বল্পতার মাঝে শুয়ে মানুষ অনুভব করার চেষ্টা করছেন জীবনের নশ্বরতাকে। আয়োজকদের দাবি, এটি কেবল নিছক মজা নয়; বরং এর মাধ্যমে মানুষকে জীবনের মূল্য বোঝানো এবং মৃত্যুর ভয় কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
মনোবিদদের একাংশ মনে করছেন, এই ধরনের অভিজ্ঞতা মানুষকে মানসিকভাবে আরও সচেতন করে তোলে। যখন কেউ কফিনের ভেতর কয়েক মিনিটের জন্য নিভৃতবাসে থাকেন, তখন তিনি তাঁর ফেলে আসা জীবন, প্রিয়জন এবং ভুলত্রুটি নিয়ে ভাবার সুযোগ পান। সেখান থেকে বেরিয়ে আসার পর এক নতুন জীবনের অনুভূতি পান অনেকেই। তবে হুজুগে পর্যটকদের কাছে এটি এখন ব্যাংককের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কফিনে শোয়া অবস্থার সেলফি বা ভিডিও পোস্ট করার হিড়িকও চোখে পড়ছে।
ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক দিক থেকেও থাইল্যান্ডের এই প্রাচীন সংস্কারের নতুন সংস্করণকে ইতিবাচক চোখে দেখছেন কেউ কেউ। বৌদ্ধ প্রধান এই দেশে মৃত্যুকে পুনর্জন্মের আগের এক বিরতি হিসেবে দেখা হয়। তাই শবাধারে শুয়ে এই ‘মক ডেথ’ বা কৃত্রিম মৃত্যু মানুষের ভেতরের অহংকার দূর করতে সাহায্য করে বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস। তবে ব্যাংককের এই রোমাঞ্চকর যমপুরী ভ্রমণ আগামী দিনে পর্যটন শিল্পে নতুন কোনও মাত্রা যোগ করে কি না, সেটাই এখন দেখার।