
বেঙ্কটেশ আইয়ার ও ক্যামেরন গ্রিনগত মরসুমে বেঙ্কটেশ আইয়ার আর এ মরসুমে ক্যামেরন গ্রিন। ২০২৫-এর আইপিএল-এও সেভাবে দাগ কাটতে না পারা ভারতীয় তারকাকে বিরাট অঙ্কের টাকা নিয়ে দলে সই করিয়ে ডুবতে হয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। আর এবার গ্রিন আইপিএল-এর প্রথম দুই ম্যাচে বল করতে পারেননি ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিষেধাজ্ঞা থাকায়। ব্যাট হাতেও তিনি সফল তা বলা যাবে না।
কত টাকায় বেঙ্কটেশকে কিনেছিল কেকেআর?
প্রায় ২৪ কোটি টাকা দিয়ে বেঙ্কটেশ আইয়ারকে ধরে রেখেছিল কলকাতা। ২০২১-এ আইপিএলে অভিষেক হয় বেঙ্কটেশের। ১০টি ম্যাচে ৩৭০ রান করে কেকেআরকে ফাইনালে তুলতে সাহায্য করেন। ২০২৪-এ ট্রফি জয়ের বছরও ৩৭০ রান করেন। তবে গত মরসুমে ১১ ম্যাচে মাত্র ১৪২ রান করেন। তার পরেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে ২৪ কোটি টাকা তাঁর পেছনে খরচ করা নিয়ে ক্ষোভ ঝরে পড়েছিল সমর্থকদের মধ্যে।
তাঁকে কেকেআর রিটেন না করলেও, কোচ অভিষেক নায়ার মিনি নিলামে তাঁকে ফের দলে নিতে চেয়েছিলেন। যদিও সে পরিকল্পনা সফল হয়নি। ২০২৬ আইপিএল নিলামে বেঙ্কটেশ আইয়ারের জন্য দর হাঁকতে শুরু করে আরসিবি। আবার লড়াইয়ে নেমেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। কিন্তু, গতবারের মতো এবার আর শাহরুখ খানের দল দুই হাত উপুড় করে টাকা ঢালতে রাজি হয়নি। অবশেষে ৭ কোটি টাকার বিনিময়ে বেঙ্কটেশ আইয়ারকে দলে নেয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

গ্রিনকে এবার কত টাকায় কিনেছে কেকেআর?
এবার গ্রিনকে ২৫ কোটি টাকায় কিনেছে কলকাতা। তিনি ব্যাট করলেও বল করতে পারছেন না। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তারা আগেই জানিয়ে দিয়েছিল গ্রিন পুরোপুরি সুস্থ না হলে বল করতে পারবেন না। তা হলে কেন তাঁকে দলে নেওয়া হল? সেটাই বড় প্রশ্ন। এই প্রশ্ন করছেন সাধারণ সমর্থক থেকে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। যখন দলের বোলিং-এর এই হাল তখন কেন সব জেনেও তাঁর উপর ভরসা করা হল?
ব্যাট হাতেও একেবারেই ছন্দে নেই গ্রিন। প্রথম ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে মাত্র ১৮ রান করে আউট হন। এরপর ঘরের মাঠে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে ম্যাচেও মাত্র ২ রান করে রান আউট হন। যা তাদের দলের হারের অন্যতম প্রধান কারণ বলে ধরা হচ্ছে। গ্রিন সেই সময় ক্রিজে থাকলে ম্যাচের পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত বলে মত নাইট অনুরাগীদের।
কেকেআর দলের বোলিং নিয়ে প্রশ্ন
কলকাতা নাইট রাইডার্স একের পর এক ধাক্কা খেয়েই চলেছে। প্রথমে মুস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কারণে বাদ পড়েন। এরপর হর্ষিত রানা ও আকাশ দীপ চোটের কারণে ছিটকে গিয়েছেন। ফলে দলে বোলিং-এর সমস্যা রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারিনের খারাপ পারফরম্যান্স। এই দুই স্পিনারের উপর বিরাট নির্ভর করেছিল; কেকেআর। টি২০ বিশ্বকাপ থেকেই বরুণের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করতেছিল। নারিন আবার আইপিএল এলেই জ্বলে ওঠেন। তবে এবার আর তা হচ্ছে না। মিস্ট্রি ধরে ফেলেছেন বিপ[অক্ষের ব্যাটাররা। বেধড়ক মার খাচ্ছেন দুই স্পিনারই।
পেস বিভাগেও নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কোনও বিকল্প খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মুস্তাফিজুরের জায়গায় ব্লেসিং মুজারাবানি নিয়ে আসা হলেও তিনি নেতৃত্ব দিতে পারছেন না। বৈভব আরোরাদের বোলিং-এও সেই বিষ নেই যাতে তারকা ব্যাটাররা সমস্যায় পড়তে পারেন। ফলে সঙ্কট বাড়ছে কলকাতার। এখন নাইটরা কীভাবে এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয় সেটাই দেখার অপেক্ষায় সমর্থকরা।