
এবারের আইপিএল-এ দারুণ পারফর্ম করছেন মহম্মদ শামি। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে দারুণ পারফর্ম করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। চার ওভার বল করে নয় রান দিয়ে দুই ওপেনারের উইকেট তুলে নেন। আর সেই ম্যাচের পর নিজের সাফল্যের রহস্য জানিয়েই দিলেন বাংলা দলের এই পেসার।
মহম্মদ শামি তাঁর স্পেলে মোট ১৮টি ডট বল করেন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। লখনউ সুপার জায়ান্টস ৫ উইকেটে ম্যাচটি জিতে চলতি মরসুমে তাদের প্রথম জয় তুলে নেয়। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য শামি ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন। ম্যাচ শেষে নিজের পারফরম্যান্স প্রসঙ্গে মহম্মদ শামি বলেন, তিনি কোনো যন্ত্র নন এবং তার খেলায় উত্থান-পতন হতে পারে।
তিনি বলেন, 'আমি কোনো যন্ত্র নই, আমার খেলার ধরনে উত্থান-পতন হতে পারে। আমি গত কয়েক বছর ধরে ভালো খেলেছি এবং মানুষ যদি তালক্ষ্য না করে থাকে, সেটা ভিন্ন বিষয়, কিন্তু আমি সবসময় ভালো করার চেষ্টা করি।' উল্লেখ্য যে, গত আইপিএল মরসুম মহম্মদ শামির জন্য বেশ কঠিন ছিল। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে নয় ম্যাচে তিনি মাত্র ছয়টি উইকেট নিয়েছিলেন এবং তাঁর ইকোনমি রেট ছিল ১১.২৩। তবে এবার তিনি দুর্দান্তভাবে প্রত্যাবর্তন করেছেন এবং নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন।
মহম্মদ শামি তার সাফল্যের কৃতিত্ব দিয়েছেন ফিটনেস এবং ঘরোয়া ক্রিকেটকে। তিনি বলেন, ম্যাচ খেলার জন্য ফিট থাকতে ধারাবাহিক খেলা অপরিহার্য। শামি বলেন, 'যদি খেলতে চাও, তাহলে খেলার সঙ্গে যুক্ত থাকাটা জরুরি। ফিট থাকলেই কেবল নিজের দক্ষতার উন্নতি করা সম্ভব, তাই আমি ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছি।'
শামি তাঁর বোলিংয়ের রহস্য জানিয়ে দিলেন
মহম্মদ শামি আরও ব্যাখ্যা করেছেন যে পিচের অবস্থার সঙ্গে বোলিংকে মানিয়ে নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপজ্জনক ব্যাটার ট্র্যান্ডিস হেড এবং অভিষেক শর্মাকে দ্রুত আউট করে শামি প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন। তিনি আরও বলেন যে ধীরগতির পিচে বলের গতি কম রাখা এবং সঠিক লাইন ও লেখ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি ছিল।
মহম্মদ শামি বলেন, 'আমরা জানতাম যে, ওকে জায়গা বা সঠিক জোনে বল দিলে ও সহজেই বড় শট নিতে পারবে। তাই আমরা বলের গতি কমিয়ে দিয়েছিলাম এবং ওর শট যাতে বেশি উঁচুতে না ওঠে সেটা চেষ্টা করেছিলাম। দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা ছাড়া কিছুই হয় না।' অভিজ্ঞ এই ফাস্ট বোলার আরও বলেন যে, দলের মধ্যে সমন্বয় ও বোঝাপড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জয়ের মাধ্যমে লখনউ সুপার জায়ান্টস টুর্নামেন্টে তাদের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। মহম্মদ শামির পারফরম্যান্স আসন্ন ম্যাচগুলোর জন্য দলকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।