তন্ময় ধররেফারি তন্ময় ধর এবং ক্যালকাটা রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের (Calcutta Referees Association) প্রাক্তন সচিব উদয়ন হালদারের মধ্যে গত এক বছর ধরেই নানান মতবিরোধ চলছিল। এক বছরের জন্য সাসপেন্ড হতে হয়েছিল বঙ্গ সন্তান এই রেফারিকে। এবার সেই বিষয়ে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনলেন রেফারি তন্ময় ধর।
কী অভিযোগ তন্ময়ের
কলকাতা ক্রীড়া সাংবাদিক ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি নানান দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হন। তন্ময় বলেন, 'প্রাঞ্জল ব্যানার্জি আমার বন্ধু, আমি ওর বিরুদ্ধে কোনও মামলা করিনি। তবে আমি আইনী নোটিশ পাঠিয়েছি আইএফএ, সিআরএ এবং শ্রাচী স্পোর্টসকে। যে নিজে চুরি করছে, সে-ই আবার ইনকোয়ারি কমিটির মেন হচ্ছে - এটাই আমার বলার বিষয়।'
আইনজীবীকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক
পাশাপাশি বেঙ্গল সুপার লিগের ফাইনালে রেফারি পোস্টিং নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আনলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বেঙ্গল সুপার লিগের ফাইনালে ওঠা একটি নির্দিষ্ট ক্লাবের চাপে সংগঠকরা অন্যায়ভাবে চারজন রেফারিকে সরিয়ে দেয়। ওই ক্লাবটি একটি চিঠি দিয়ে দাবি করেছিল যে তন্ময় ধর, দীপু রায়, সন্দীপ মাইতি এবং রোহন দাশগুপ্তকে যেন ফাইনালে পোস্টিং দেওয়া না হয়। বিস্ময়করভাবে, কোনও উপযুক্ত কারণ না দেখিয়েই সংগঠক কমিটি সেই দাবি মেনে নেয়। নিজের আইনজীবী জয়ন্ত চক্রবর্তীকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই জানান তিনি।
উদয়ন হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ
এছাড়াও সিআরএ-র প্রাক্তন সচিব উদয়ন হালদারের বিরুদ্ধে তন্ময় অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালে উদয়ন হালদারের আমলেই রেফারিদের পরীক্ষায় পাস-ফেল এবং নম্বর টেম্পারিংয়ের মতো চরম দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছিল। ২০২৩ সালে সর্বভারতীয় পরীক্ষায় এক প্রার্থীকে অন্যায়ভাবে পাস করানোর জন্য মূল তালিকা প্রকাশের কয়েক দিন পর শুধুমাত্র ওই প্রার্থীর নাম দিয়ে একটি আলাদা তালিকা প্রকাশ করা হয়। পরে সেই ঘটনাকে 'প্রিন্টিং মিস্টেক' বলে চালানো হয়।
ফলে সব মিলিয়ে বলা যায়, রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশনের এই ডামাডোল নিয়ে মুখ পুড়ছে বাংলার ফুটবলের। কবে এই সঙ্কট কাটবে সেটাই এখন দেখার।