
মুম্বইয়ে রাস্তায় গায়ে জলে ছিটে লাগা নিয়ে তুমুল বিবাদ। ইউসুফ পাঠানের শ্বশুর ও শ্য়ালক-সহ তিন জনের জামিনের আবেদন খারিজ। বুধবার মুম্বইয়ের একটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত টিএমসি সাংসদ ইউসুফ পাঠানের তিন অভিযুক্ত আত্মীয়ের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
কী ঘটেছিল?
ওই তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, রাস্তার গর্তে জমে থাকা জল একটি চলন্ত গাড়ি থেকে ছিটকে তাদের এক আত্মীয়ের গায়ে পড়ায় তারা তাদের এক প্রতিবেশীর ওপর হামলা চালিয়েছিল। বর্তমানে ওই তিনজন আর্থার রোড কারাগারে বন্দি রয়েছেন। আদালতের বিস্তারিত আদেশ এখনও প্রকাশ করা হয়নি; তবে অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী দয়ানন্দ ডেরে যে যুক্তিগুলো তুলে ধরেছিলেন, তাঁর মূল কথা ছিল, বাইকুল্লা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া পাঠানের শ্বশুর একজন ৭০ বছর বয়সী এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি; তাই তাঁর পালিয়ে যাওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই।
আইনজীবীর মতে, গ্রেফতার করার আগে পুলিশের উচিত ছিল তাঁকে প্রথমে নোটিশ দেওয়া। এছাড়া তিনি দাবি করেন যে, এই ঘটনায় আগ্রাসন বা উস্কানি প্রথমে প্রতিবেশীদের পক্ষ থেকেই এসেছিল। প্রতিবেশীরা পাঠানের আত্মীয়দের গালিগালাজ ও মারধর করার পরেই কেবল তারা পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। আদালতে আরও জানানো হয় যে, পাঠানের শ্বশুরবাড়ির এক আত্মীয় শোয়েব খানের গায়েই প্রথমে জল ছিটকে পড়েছিল এবং প্রথমেই ভুক্তভোগীরাই তাঁকে আহত করেছিল। আর ঠিক এই কারণেই পুলিশ তাদের পক্ষ থেকেও একটি 'ক্রস কমপ্লেন' বা পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে।
তবে অভিযোগকারীর পক্ষে আইনজীবী প্রতাপ নিম্বালকার জামিনের আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁরা যুক্তি দেন যে, অভিযুক্তরা একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির আত্মীয় হওয়ার সুবাদে মাস্তানের মতো আচরণ করছিল। এমনকি মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত। একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে যে, ৭০ বছর বয়সী অভিযুক্ত ব্যক্তিটিও হাতে লাঠি তুলে নিয়ে অভিযোগকারীদের আঘাত করছেন। তাঁদের দাবি, ভুক্তভোগী ইউসুফ খানকে গালিগালাজ করেছিল, বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁর গাড়ির উইন্ডশিল্ড ভেঙে দেওয়া হয় এবং তাঁর ওপর হামলা চালিয়েছিল।
মামলার সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর ম্যাজিস্ট্রেট আরতি কুলকার্নি অভিযুক্তদের জামিন মঞ্জুর করেনি। পাঠানের আত্মীয় তাঁর শাশুড়ি নাসিব জান এবং শ্যালক ইমরান খান—'ইন্ডিয়া টুডে'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান যে, রাস্তার গর্তের জল ছিটকে পড়ার কারণে তাৎক্ষণিক উত্তেজনার বশে এই ঘটনাটি ঘটেছে। বরং গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এই দুই পরিবারের মধ্যে তীব্র বিরোধ চলে আসছে। একটি রাস্তা নিয়ে তাদের মধ্যে বিবাদ রয়েছে। যে রাস্তাটিকে পাঠানের আত্মীয়রা নিজেদের সম্পত্তি বলে দাবি করেন। এবং এই রাস্তাটি কেন্দ্র করেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে একাধিক 'অ-আমলযোগ্য অপরাধের' (Non-Cognisable offences) অভিযোগ দায়ের করেছে।