গ্লাসগোর ভারোত্তোলন মঞ্চ মাতালেন জ্ঞানেশ্বরী যাদব।CWG 2026 Weightlifting: চোট, বিতর্ক আর ডোপিংয়ের কালো মেঘ। সব অন্ধকারকেই ক্লাইড নদীর জলে বিসর্জন দিলেন ভারতের কন্যারা। রবিবার মীরাবাই চানুর হ্যাটট্রিক সোনার রেশ এখন কাটেনি। তারই মধ্যে সোমবার গ্লাসগোর ভারোত্তোলন মঞ্চ মাতালেন জ্ঞানেশ্বরী যাদব (Gyaneshwari Yadav)। মহিলাদের ৫৩ কেজি বিভাগের রুদ্ধশ্বাস ফাইনালে নাইজেরিয়ান প্রতিযোগীর সঙ্গে কার্যত ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই চালালেন। রুপো ছিনিয়ে আনলেন ২৩ বছরের তনয়া। স্ন্যাচ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে মোট ১৯৯ কেজি (৮৮ কেজি + ১১১ কেজি) ওজন তুলে কমনওয়েলথ গেমসে ভারতকে এনে দিলেন পঞ্চম পদক।
গ্লাসগোয় জ্ঞানেশ্বরী-ঝড়
ফাইনালে যখন মঞ্চে উঠলেন জ্ঞানেশ্বরী, তখনই ছত্তীসগঢ়ের তরুণীর চোখেমুখে আত্মবিশ্বাসের ছাপ ছিল স্পষ্ট। স্ন্যাচ রাউন্ডে ৮২ কেজি, ৮৫ কেজি এবং ৮৮ কেজি, প্রতিটা ওজনেই অবলীলায় তোলেন। স্ন্যাচ রাউন্ড শেষে নাইজেরিয়ার ওনোমে দিদিহের ঠিক পেছনেই দুই নম্বরে ফিনিশ করেন।
কিন্তু সেটা শুধু ট্রেলার মাত্র। আসল থ্রিলার তখনও বাকি। ক্লিন অ্যান্ড জার্ক রাউন্ডে রীতিমতো জোর টক্কর চলে। নাইজেরিয়ার দিদিহ আর জ্ঞানেশ্বরীর মধ্যে যেন বারবেল ওঠানোর যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। ১০৩ কেজি দিয়ে শুরু। প্রথম চেষ্টাতেই ১০৩ কেজি তুলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দেন দেন জ্ঞানেশ্বরী। জবাবে দিদিহ তোলেন ১০৫ কেজি। পাল্টা দ্বিতীয় সুযোগেই ১০৭ কেজি তুলে দেন জ্ঞানেশ্বরী। গ্লাসগোর অ্যারেনা তখন সমর্থকদের চিৎকারে ফেটে পড়ছে। শেষ অ্যাটেমপ্টে নিজের পুরো শক্তি নিংড়ে দেন জ্ঞানেশ্বরী। ১১১ কেজি যখন শুন্যে তুলে একদম স্থির হয়ে দাঁড়ালেন, ততক্ষণে রূপো জয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। নাইজেরিয়ার দিদিহ শেষপর্যন্ত সোনা জিতলেও, কড়া টক্কর দিয়ে স্কটল্যান্ডের মন জিতে নেন ভারতীয় অ্যাথলিট।
এবারের গেমস শুরু হওয়ার ঠিক আগেই ডোপিং কাণ্ডে টিম ১৬ জন থেকে সোজা নেমে এসেছিল ১১ জনে। কিন্তু সেই ধাক্কা যে ভারতীয় ভারোত্তোলকদের মানসিকভাবে ভাঙতে পারেনি, তা প্রতি পদে প্রমাণিত। রবিবারে মীরাবাইয়ের সোনা আর ঋষিকান্ত-রাজাদের রূপোর পর সোমবার জ্ঞানেশ্বরীর এই মেডেল গ্লাসগোর গ্যালারিতে ভারতীয় সমর্থকদের গর্জন আরও বাড়িয়ে দিল।
কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে ভারতের ভারোত্তোলনে ১৩৩টি পদক রয়েছে। এবারও সেই দাপটই ধরে রাখলেন ভারতের মেয়েরা।